ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


ঝিনাইদহে জেলা পরিষদের গাছের ডাল মাথায় পড়ে গৃহবধুর মৃত্যু ; দ্বায়ভার কে নিবে?

২০১৮ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৫:০৬:১১

আজ সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ষ্টান্ডে জেলা পরিষদের আওতাধীন শতবর্ষী কড়ই গাছের শুকনা ডাল পড়ে পল্লী বিদুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রউফের স্ত্রী ফাহমিদার মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুর দ্বায়ভার কে নিবেন?

ঝিনাইদহ শহর, শেরে-এ বাংলা সড়ক, চুয়াডাঙ্গা, কোটচাদপুর ও যশোর সড়কে কড়ই গাছের অনেক মরা ও পুরাতন শুকনা ডাল রয়েছে। কিন্তু কথিত পরিবেশবিদ ও সামাজিক আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে জেলা পরিষদ এগুলো অপসারণ করতে ব্যার্থ হয়েছেন।

কিন্তু তার ভিতরে ঝড়, বৃষ্টির সময়ে ঝুকিপুর্ন ডাল পড়ে এভাবে চারজনের তরতাজা প্রাণ গেছে। বৃক্ষের মরা ডাল আগে ; নাকি জীবন আগে সেটি আমার প্রশ্ন?

জেলা পরিষদ এর আগে ঝুকিপুর্ন ডাল কাটলে পরিবেশবিদরা ঝড় তুলেছিলেন ফেসবুকে। তারা গাছের ডাল নিধনের কথা বলে প্রচার করে সরব ছিলেন। তখন বাধ্য হয়ে আর মরা ডাল কাটা থেকে বিরত থাকেন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু একের পর যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকি তারা ফেরত দিতে পারবেন ; দিতে পারবেন স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে? তাহলে কি শুকনা মরা ডালের চাইতে কি জীবনের মুল্যে কিছুই না?

গাছ নিধনের বিপক্ষে আমি সব সময়, বৃক্ষ হৃদয়ের মাঝে বেচে থাকুক আজীবন ; সরকারও বৃক্ষরোপন করে প্রকৃতিকে বাচিয়ে রাখছেন। কিন্তু মরা ডাল কাটলে এত বাধা দিবে কেন কথিত আমাদের পন্ডিতেরা?

তারাকি স্বজনদের আর্তনাদ আর আহাজারির মুল্য কি দিতে পারবেন ; যার যায় তিনি বোঝেন হারানোর বেদনা কতটা কষ্টের। আমি ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসাবে দাবি করতে চাই, অবিলম্বে জেলা পরিষদ কতৃপক্ষ ঝুকিপুর্ন ডাল ও মরা ডাল,পালা কেটে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

আমি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমারেরর সাথে কথা বলেছি তিনি জানান, আমি শুনেছি একজন মারা গেছেন, এরপরে যেন এমন মৃত্যু কারোর না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, সচিব রেজাই রাফিস সরকারেরর সাথে কথা বলেছি, তারা যেমনটি জানিয়েছেন, এর আগে ঝুকিপুর্ন ডাল ও মরা ডাল কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিছুস্থানে কাটা হয় বাকি জায়গায় কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

কিন্তু পরিবেশবীদদের আন্দোলনের কারনে কাটা সম্ভব হয়নি। এর জন্যতো অামরা দায়ী হতে পারি না? কারন আমাদের কাছে প্রতিটা মানুষের জীবনের মুল্যে আছে? তাহলে এর দ্বায়বার কে গ্রহণ করবে বলুন?

লেখক: রাজিব হাসান, গণমাধ্যম কর্মী।

বিজনেস আওয়ার/৬ সেপ্টেম্বর,২০১৮/এমএএস

উপরে