ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হচ্ছে ওইমেক্সের আইপিও প্রকল্প

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১২ ০৬:৫৮:৪৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ২০১৭ সালের শেষ প্রান্তিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসে ওইমেক্স ইলেকট্রোড লিমিটেড। আইপিও অর্থে কোম্পানিটি এরই মধ্যে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি এনে কারখানায় স্থাপন করেছে। এক বছরের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ছয় মাস আগেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে কোম্পানিটি আইপিওর ১৫ কোটি টাকার পুরোটাই ব্যয় করেছে। এর মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ ৮ কোটি ৫০ লাখ, ব্যাংকঋণ বাবদ ৫ কোটি এবং আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে আজকের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

এদিকে, এ বছরের মার্চের মধ্যেই আইপিওর অর্থে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদনে এর কিছুটা সুফল দেখা যাবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

ওইমেক্স ইলেকট্রোডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইকরামুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, আইপিওর টাকায় আংশিক ব্যাংক ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বেশকিছু যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। এতে আমাদের খুব বেশি সময় না লাগায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আইপিওর পুরো অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। কারখানায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এখনই এর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচামালের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বর্ধিত উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নন-কনভার্টেবল প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওইমেক্স ইলেকট্রোড। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে সাড়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি। এ কারণে কোম্পানিটি অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১২০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওইমেক্স ইলেকট্রোডের পরিচালনা পর্ষদ। এজন্য কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য এ বছরের ৬ মে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) আয়োজন করে কোম্পানিটি। রেকর্ড ডেট ছিল ৫ এপ্রিল।

সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ১৭-মার্চ ১৮) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭ হতে মার্চ ২০১৮) ওইমেক্সের শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। মুনাফা কমেছে ৩৩ পয়সা বা ২১ শতাংশ।

আগের বছর অর্থাৎ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ওইমেক্স। সে বছর কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল ২ টাকা ৯ পয়সা।

ডিএসইতে সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা। চলতি সেপ্টেমরের ৮ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।


বিজনেস আওয়ার/এসএম


উপরে