ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


উন্নত স্বাস্থ্যসেবা উপহার দেয়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৩:১২:৪৪



বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: সরকারের লক্ষ্য ছিল জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌ‌ছে দেয়া। তাতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের জনগণকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিতে পারব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্য মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যাতে আরও বেশি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠে সে জন্য হাসপাতালের ও চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই চিকিৎসা ব্যবস্থাটা যেন একটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠে। দেশের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে যেন ঠিকমত মানসম্পন্ন পড়াশোনা হয় সে জন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তদারকি করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যবর্তী এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেব। বাংলাদেশ তখন আর অবহেলা অবজ্ঞার দেশ থাকবে না। সবাই বাংলাদেশকে সম্মান করবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসকদের নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। মানুষ সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা পাবে এটিই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে চিকিৎসকদের কাজ করে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আমরা অনেক বরাদ্দ দিচ্ছি। দেশের মানুষ কম খরচে যেন সেবা পায় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে একটি ফান্ড করে দিয়েছিলাম। সেই ফান্ড রাখা হয়েছিল দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য। আমি এই ফান্ডে আরও ১০ কোটি টাকা দেবো যাতে দরিদ্ররা চিকিৎসার সুবিধা পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, চিকিৎসাসেবার জন্য আমাদের প্রচুর নার্সের দরকার। আমরা নার্স নিয়োগে বয়স শিথিল করে দিয়েছি যাতে বেশি করে নিয়োগ দেওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু থাকবে। সেই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতিও এখানে সংগ্রহ করা হবে। মানুষ সেবা পাক এটিই আমাদের লক্ষ্য।

১১ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে মোট ১০০০ শয্যা। দেশের প্রথম সেন্ট্রাল বেইজড চিকিৎসা সেবা চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে। সেন্টার বেইজড চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

নবনির্মিত হাসপাতালের প্রথম ফেজে থাকবে ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, কার্ডিয়াক অ্যান্ড সেলুলার ভাস্কুলার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কিডনি ডিজিজেস সেন্টার।

দ্বিতীয় ফেজে থাকবে অপথ্যালমোলজি সেন্টার, ডেন্ট্রিস্টি, ডার্মাটোলজি, মেডিসিন, সার্জারি বিভাগ সমূহ।

নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি হবে রোগীবান্ধব একটি সবুজ হাসপাতাল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ হাসপাতাল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিশ্চিত করবে সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্য সেবা।

আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিতব্য হাসপাতালটিতে রাখা হয়েছে সবুজ আরোগ্য উদ্যান ও সোলার প্যানেলও। সুপার স্পেশালাইজড এ হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

বিজনেস আওয়ার/১৩ সেপ্টেম্বর,২০১৮/এমএএস

উপরে