ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রায়োজন

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:৫৭:৫৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও যথাযথ ভূমিকা রেখে আসছে। সেক্ষেত্রে বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান।

বিশেষ করে এ বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানো প্রায়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের বাড়তি প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারী খাতের সম্ভবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সকাল সাড়ে এগারোটায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এরপর আবুল কাসেম খানের স্বাগত বক্তব্যের পর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনে বেসরকারীখাতের ভূমিকা বর্ণনা করেন। কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো, সম্পদের দায়ীত্বপূর্ণ ব্যবহার এসডিজি’র এই ৩টি লক্ষ্য (৮, ৯ এবং ১২) সরাসরি বেসরকারী খাতের সাথে সর্ম্পকিত বলে তুলে ধরেন তিনি।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতোমধ্যে সরকার মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পণা চিন্থিতকরনের পাশাপাশি তা যথাসময়ে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে এবং এ লক্ষ্যে অর্থ সংস্থান নিশ্চিতকরের জন্য সরকার আন্তরিক ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশের মানুষ বিশেষ করে যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ কাজে বেসরকারী খাত কে এগিয়ে আসতে বলেন।

দেশের বেসরকারীখাত কে সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল সমূহে বিনিয়োগের জন্য আহবান জানান তিনি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল সমূহে স্থাপিত শিল্প-কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষকরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় প্রায় ১ লক্ষ একরের “ভূমি ব্যাংক” তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা বেজা’র নিকট হস্তান্তর করা হবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)’র সভাপতি ব্যারিষ্টার নিহাদ কবির বলেন, এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারীখাতের অংশীদারিত্বমূলক অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তিনি নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষাখাতের গুনগত ও আমূল সংষ্কারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দি চট্রগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)’র সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এসডিজি’র সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারীখাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের উপর জোরারোপ করেন।

এছাড়া আলোচনা সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তওফিকুল ইসলাম খান, মাল্টিমোড গ্রুপ-এর পরিচালক তাফসীর মোহাম্মদ আওয়াল এবং পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (পিআরআই)’র গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক অংশগ্রহণ করেন। আলোচকবৃন্দ এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতানুগতিক প্রণোদনা ছাড়াও নতুন কিছু প্রণোদনা প্রদান এবং উল্লেখযোগ্য হারে দূনীতি কমানোর আহ্বান জানান।

বিজনেস আওয়ার/ ১৩ সেপ্টেম্বর/ আর আই

উপরে