ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24
লোকসানকে মুনাফা দেখিয়েছে ৫ ব্যাংক

তালিকাভুক্ত ৭ ব্যাংকের ১১৫৭ কোটি টাকার অতিরঞ্জিত মুনাফা

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ ০৯:৪১:১৭

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত ৭ ব্যাংকের চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি- জুন ১৮) ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা কৃত্রিম বা অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫টি ব্যাংকের লোকসানকে আড়াল করে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে। আর ২টি ব্যাংকের মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এই কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

প্রদত্ত ঝুকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতিবাবদ (প্রভিশনিং) ব্যয় না দেখিয়ে এই কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা চলতি বছরের প্রথমার্ধের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সাবেক সভাপতি এএসএম শায়খুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, হিসাব মানে প্রভিশনিং ঘাটতির সুযোগ নেই। অন্যথায় আর্থিক হিসাবে সঠিক তথ্য আসে না। যা বিনিয়োগকারীদেরকে বিভ্রান্ত করবে। তাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোন ব্যাংক যেনো প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে কৃত্রিম মুনাফা দেখাতে না পারে, সেলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদারকি করা উচিত।

প্রথমার্ধে কৃত্রিম ও বেশি মুনাফা দেখানো তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এবি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক চলতি বছরের প্রথমার্ধে নতুন করে প্রভিশনিং ঘাটতিতে পড়েছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রভিশনিং ঘাটতি বেড়েছে। ওই সময় ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় বা যথাযথ সঞ্চিতি গঠন না করে বা ব্যয় না দেখিয়ে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে।

এবি ব্যাংকের চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে ১৪৭ কোটি টাকা বেশি মুনাফা দেখিয়েছে। এছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩৬৮ কোটি টাকা, আইএফআইসি ব্যাংক ২১ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১০৬ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ৩১৮ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৬০ কোটি টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ৩৭ কোটি টাকার কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে।

এদিকে এবি ব্যাংক চলতি বছরের প্রধমার্ধে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে শেয়ারপ্রতি ১.৫৫ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৩৯ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। এছাড়া সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ৪.১২ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৪১ টাকা মুনাফা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ০.৩৩ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ১.৫২ টাকা মুনাফা, ন্যাশনাল ব্যাংক ০.৬৪ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৫৬ টাকা ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১.৫৪ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৫০ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। আর আইএফআইসি ব্যাংক ০.২৭ টাকার পরিবর্তে ০.৪৩ টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ০.৪৬ টাকার পরিবর্তে ০.৯৭ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে।

নিম্নে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ইপিএস ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেখানো কৃত্রিম ইপিএসের তথ্য তুলে ধরা হল-

ব্যাংকের নাম

প্রকৃত ইপিএস

দেখিয়েছে

এবি ব্যাংক

(১.৫৫) টাকা লোকসান

০.৩৯ টাকা মুনাফা

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক

(৪.১২) টাকা লোকসান

০.৪১ টাকা মুনাফা

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

(০.৩৩) টাকা লোকসান

১.৫২ টাকা মুনাফা

ন্যাশনাল ব্যাংক

(০.৬৪) টাকা লোকসান

০.৫৬ টাকা মুনাফা

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

(১.৫৪) টাকা লোকসান

০.৫০ টাকা মুনাফা

আইএফআইসি ব্যাংক

০.২৭ টাকা মুনাফা

০.৪৩ টাকা মুনাফা

প্রিমিয়ার ব্যাংক

০.৪৬ টাকা মুনাফা

০.৯৭ টাকা মুনাফা

এর আগে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখিয়েছে। তবে চলতি বছরের ৩০ জুনে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সেই প্রভিশনিং ঘাটতি কমে এসেছে। এক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ঘাটতি ২৭৫ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ৪৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রভিশনিং ঘাটতি ৭৯ কোটি টাকা থেকে ৩৭ কোটি টাকা বেড়ে ১১৬ কোটি টাকায় ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা থেকে ৩১৮ কোটি টাকা বেড়ে ৪৭৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮/আরএ

উপরে