ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

দুর্গোৎসবের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে টাঙ্গাইলে

২০১৮ অক্টোবর ০৭ ১৮:১৭:৩২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: বছর ঘুরতেই আবার দুর্গতি নাশিনী দশভুজা দেবী দুর্গা আসছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের মাঝে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে অপেক্ষার প্রহর ততই বেড়েছে। কিন্তু তাতে কি তার আগমনে আনন্দ তো আজ প্রতিটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে। দেবীর আগমনে প্রতিমা শিল্পীরা এখন প্রতিমার গায়ের শেষ তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত। ব্যস্ত মায়ের ভক্তরা। ঘর-দুয়ার পরিষ্কার আর নতুন সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সবাই।

দেবী দূর্গাকে স্বাগত জানাতে প্রতিমা তৈরী ও মন্দির সাজসজ্জায় শিল্পীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুক্তিতে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। আগামী ১৪ অক্টোবর মহাপঞ্চমী পূজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাসার শব্দ। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে এর সমাপ্তি ।

টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি, আদালত পাড়া পুজা সংসদ, রেজিস্ট্রি পাড়া, সাবালিয়া, কলেজ পাড়া, থানা পাড়া, প্যারাডাইস পাড়া, করটিয়া, পাথরাইল, বাজিতপুর, বাঘিল, এনায়েতপুর, সন্তোষ পালপাড়া, বৈল্লা পালপাড়া, শাকরাইলসহ বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের ব্যাপক ব্যস্ততা। দেবী দুর্গাকে স্বাগতম জানাতে সব জায়গায় চলছে সাজ সাজ রব। মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবী দুর্গাকে সাজাতে অষ্ট প্রহর প্রাণান্তকর চেষ্টা। দেবী দুর্গা শেষ তুলির ছোঁয়া দিতে প্রতিমা শিল্পীতে ব্যস্ত হয়ে পরছে।

এ বিষয়ে কথা হয় আদালত পাড়া পূজা সংসদ মন্ডপের প্রতিমা শিল্পী অসিম পালের সাথে। তিনি বলেন, পূর্ব পুরুষ থেকেই আমরা প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমি প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এবার দুর্গাপূজায় আদালত পাড়া পূজা সংসদ ছাড়াও আরো ৭টি মন্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছি। পূজা আসলেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এখন চলছে শেষ মূহূর্তের কাজ। এখন ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছি। অনেকই প্রতিমার তৈরির কাজ শেষ, আবারে কেউ প্রতিমার শরীরে রঙ দিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, ১০ বছর যাবত প্রতিমা তৈরি করছি। আশা করছি এবারের প্রতিমা তৈরিতে আমি লাভবান হবো। সংসারের যাবতীয় খরচ এর উপর নির্ভর করে।

টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদিপ কুমার গুণ ঝন্টু বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ এবং আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেবন। এছাড়া স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে। সার্বক্ষণিক প্রতিটি মন্ডপের খোজ খবর নেব বলেও তিনি জানান।

টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আনন্দ মহন দে বলেন, জেলায় এবার ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ১৬২টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মন্ডপের সংখ্যা সামনে বাড়তে পারে। প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে থাকি। আশা করছি এবারও পাব। তবে আশা করছি অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও পূজা সুষ্ঠ এবং সুন্দর হবে।

উল্লেখ্য, এক হাজার ১৬২টি মন্ডপের মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর ১৯৩টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১১৪টি, বাসাইল উপজেলায় ৫০টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ৩১টি, মধুপুর উপজেলায় ৪৯টি, ঘাটাইল উপজেলায় ৭৬টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৭০টি, ভুয়াপুর উপজেলায় ৩৬টি, গোপালপুর উপজেলায় ৪৮টি, সখিপুর উপজেলায় ৪১টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৩৪টি ও নাগরপুর উপজেলায় রয়েছে ১২০টি সর্ব মোট ১১৬২টি।

বিজনেস আওয়ার/০৭ অক্টোবর, ২০১৮/আরএইচ

উপরে