ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24
ক্যাপিটাল গেইনে সবার উপরে

বিবিএস কেবলসের আইপিও ফান্ড প্রাপ্তির ৮ মাসে মুনাফা দ্বিগুণ

২০১৮ অক্টোবর ০৮ ০৯:৫৭:১৯

রেজোয়ান আহমেদ: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিএস কেবলসের প্রতিবছরই বিক্রয় ও মুনাফা বাড়ছে। যা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ফান্ড প্রাপ্তির পরে সেই গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। যাতে এই ফান্ড প্রাপ্তির ৮ মাসেই কোম্পানিটির নিট মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়িক এমন চিত্রে কোম্পানিটির শেয়ার দর লেনদেনের প্রথমদিনের তুলনায় এখন আরও বেশিতে অবস্থান করছে।

২০০৯ সালে প্রাইভেট হিসাবে গঠিত বিবিএস ক্যাবলস ২০১১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে কোম্পানিটির বিক্রয় ও নিট মুনাফা বাড়ছে।

পণ্যের মানে কোন ধরনের আপোষ না করাকে ব্যবসায় সফলতার প্রধান কারন হিসাবে উল্লেখ করেন বিবিএস কেবলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার। এছাড়া বাজার বিশ্লেষণ, অগ্রিম ৫ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ ও সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ি ব্যবসা সাজানো সফলতার অন্যতম কারন বলে জানান তিনি।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিবিএস কেবলসের নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেড়ে হয় ২০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এরপরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হয়েছে ৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ব্যবসায় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিবিএস কেবলস শেয়ারবাজার থেকে ২০ টাকা সংগ্রহ করে। যে অর্থ ব্যবহারের জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই হাতে পেয়েছেন। আর এই প্রাপ্তির ৮ মাসেই (আগস্ট ১৭-মার্চ ১৮) কোম্পানিটির নিট মুনাফা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৯ মাসের ব্যবসায় হয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৯ মাসের ব্যবসায় মুনাফা বেড়েছে ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা ৯৫ শতাংশ। এখনো শেষ প্রান্তিকের মুনাফা যোগ হওয়া বাকি রয়েছে। যা নিয়ে চলতি মাসেই কোম্পানিটির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব প্রকাশের জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে।

বিবিএস কেবলস শেয়ারবাজারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা করে ইস্যু করে। যে অর্থ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পেলেও সাধারন শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিটির ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ব্যবসায় ২০ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছে। এক্ষেত্রে ১০ টাকা বিনিয়োগে প্রাপ্তি ছিল ২ টাকা বা ২০ শতাংশ।

এদিকে বিবিএস কেবলসে প্রতিটি শেয়ারে ১০ টাকা বিনিয়োগে ক্যাপিটাল গেইন আকাশচুম্বি। ১০ টাকা দরে শেয়ারটি লেনদেনের প্রথমদিনেই ৯০ টাকা হয়। যে শেয়ারটি লেনদেনের পর থেকে চলতি বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫০ টাকা থেকে ৭১ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারন শেয়ারহোল্ডাররা বা আইপিওধারীরা কমপক্ষে ৬১০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন করতে পেরেছে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার বলেন, আমাদের কোম্পানির শেয়ার দর এখনো অবমূল্যায়িত রয়েছে। কোম্পানির শক্তিশালী ভিত্তি অনুযায়ি, শেয়ার দর আরও বেশি হওয়া যুক্তিযুক্ত।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেবলস সেক্টর বাংলাদেশের খুবই সম্ভাবনাময় খাত। এমতাবস্থায় বিবিএস কেবলসকে আগামি ৩ বছরের মধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। বিবিএস কেবলসে বিনিয়োগ করে কোন বিনিয়োগকারী ক্ষতির কবলে পড়বেন না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাধারনত শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রথমদিন সব কোম্পানির শেয়ারে উত্থান দেখা যায়। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই অধিকাংশ কোম্পানির সেই দরে পতন হয়। এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম বিবিএস কেবলস। কোম্পানিটির শেয়ার দর শুরু থেকেই আইপিওতে উত্তোলিত দরের চেয়ে অনেক উপরে রয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সাফল্য ভূমিকা রেখেছে।

নিম্নে ২০১৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর ইস্যু দর, প্রথমদিনের দর ও বর্তমান বাজার দর তুলে ধরা হল-

কোম্পানির নাম

ইস্যু দর

প্রথমদিনের দর

২ অক্টোবরের দর

ক্যাপিটাল গেইন

বিবিএস কেবলস

১০ টাকা

৯০ টাকা

১২৫ টাকা

১১৫০ শতাংশ

নাহি অ্যালুমিনিয়াম

১০ টাকা

৮২ টাকা

৭২ টাকা

৬২০ শতাংশ

ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস

১০ টাকা

১১৪ টাকা

৪৪ টাকা

৩৪০ শতাংশ

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

১০ টাকা

৫৩ টাকা

৩৪ টাকা

২৪০ শতাংশ

নূরানি ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার

১০ টাকা

২১ টাকা

২১ টাকা

১১০ শতাংশ

প্যাসিফিক ডেনিমস

১০ টাকা

২৭ টাকা

১৮ টাকা

৮০ শতাংশ

এদিকে বিবিএস কেবলস প্রিমিয়ামে আসা কোম্পানির থেকেও এগিয়ে রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৮ গুণ দরে ইস্যু করা কোম্পানির শেয়ার দরও বিবিএস কেবলসের নিচে অবস্থান করছে।

নিম্নে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর, প্রথমদিনের দর, বর্তমান বাজার দর ও ক্যাপিটাল গেইন তুলে ধরা হল-

কোম্পানির নাম

ইস্যু দর

প্রথমদিনের দর

২ অক্টোবরের দর

ক্যাপিটাল গেইন

আমরা নেটওয়ার্ক

৩৫

১৩০

৭৩

১০৯ শতাংশ

আমান কটন

৩৬

৭৪

৫৬

৫৬ শতাংশ

বসুন্ধরা পেপার

৭২

১৩০

১১২

৫৬ শতাংশ

একমি ল্যাবরেটরিজ

৭৭

১১৮

৮৯

১৬ শতাংশ

বিজনেস আওয়ার/০৮ অক্টোবর, ২০১৮/আরএ

উপরে