ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আগামীকাল

২০১৮ অক্টোবর ০৯ ০৮:৫৮:২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়া হবে আগামীকাল। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন মহিলা লীগ সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

দলীয় সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন অসংখ্য নেতাকর্মী। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় ওই দিন মামলা হয় মতিঝিল থানায়। তবে এই ঘটনার পর নোয়াখালীর সেনবাগের এক ভবঘুরে যুবক জজ মিয়া গ্রেফতার দেখিয়ে হাজির করা হয় আদালতে।

নানা প্রলোভন আর অত্যাচার নিপীড়ন করে হামলার দায় স্বীকার করতে রাজি করানো হয় তাকে। কিন্তু অচিরেই ফাঁস হয়ে যায়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্তের পর দেয়া হয় অভিযোগপত্র।

৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্ত করে দেয়া হয় সম্পূরক চার্জশিট। আসামি করা হয় তারেক রহমান, হারিস চৌধুরীসহ ৩০ জনকে। মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। এদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছে।

এদের মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শাহেদ শরীফুল ইসলাম বিপুলের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় অব্যাহতি দেয়া হয় তাদের। ১১৯ কার্যদিবস শুনানির পর ধার্য হয় রায়ের দিন।

রায়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে প্রত্যাশা অ্যাটর্নি জেনারেলের। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন তাদের মক্কেলরা খালাস পাবেন। এদিকে, আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ইতিহাসের বর্বরতম একটি হত্যাকাণ্ড এটি। যে কটি হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জেল হত্যাকাণ্ড সেগুলোর মতো এটিই একটি হত্যাকাণ্ড। এই মামলার রায় সমগ্র জাতীর জন্য প্রত্যাশিত এবং আশা করি দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।'

আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেয়া হলে তারেক রহমানসহ সকল রাজনৈতিক নেতা নির্দোষ প্রমাণ হবেন। আমরা আশা করি যদি সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয় তাহলে এদের কাউকে সাজা দেয়া যাবে না আইনগতভাবে।'

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) শেখ নাজমুল আলম বলেন, রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রায়ের দিন পুরো রাজধানী নিরাপত্তার জোরদার থাকবে। দশ তারিখের রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের একটা প্রোগ্রাম করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যাতে ঢাকা শহরে সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে।

উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার নাজিম রোডের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল একের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বিজনেস আওয়ার/০৯ অক্টোবর, ২০১৮/এমএএস

উপরে