ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24
২১ শে আগস্ট হামলা

মামলার রায়ে যা বলা হয়েছে

২০১৮ অক্টোবর ১০ ১৫:০৯:৪৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ২১ শে আগস্ট হামলা মামলার রায়ে ১৯ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন চার পৃষ্টার এ সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন আজ।

আলোচিত এই রায়ে যা বলা হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

অত্র মোকদ্দমার আসামী আলহাজ্ব মাওলানা মো. তাজউদ্দিন (পলাতক), মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), মো. আবদুল মাজেদ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান (উপস্থিত), মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমার ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহম্মেদ তামিম (উপস্থিত), মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ (উপস্থিত), মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মো. উজ্জল ওরফে রতন (উপস্থিত), মো. লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (উপস্থিত), বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম (উপস্থিত), মো. আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), মো. হানিফ (মালিক হানিফ পরিবহন) (পলাতক) গণের বিরুদ্ধে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং উক্ত অপরাধে সহায়তা করে অত্র মোকদ্দমার নিহতগণকে হত্যা করার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো এবং প্রত্যেককে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা প্রদান করা হলো। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামীদের গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

অত্র মোকদ্দমার আসামী শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আ. রউফ (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত), মহিবুল মুস্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক) গণের বিরুদ্ধে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং উক্ত অপরাধে সহায়তা করে অত্র মোকদ্দমার নিহতগণকে হত্যা করার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা প্রদান করা হলো। জরিমানা অনাদায়ে আরোও এক বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে প্রদত্ত ২০ (বিশ) বছর কারাদণ্ডদেশ কার্যকর হবে না। একইভাবে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩ ও ৬ এবং ৪ ও ৬ উভয় ধারায় আসামীগণকে প্রদত্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ বছরের কারাদণ্ড একযোগে কার্যকর হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের হাজত বাসকাল ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫এ ধারানুসারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে মর্মে আদেশ প্রদান করা হলো। দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও দন্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। পলাতক আসামীগণের গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীগণ ইচ্ছা করলে অত্র রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন-২০০২-এর ১৪ ধারানুসারে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করতে পারবেন। জব্দকৃত আলমত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হলো। অত্র মোকদ্দমার সমস্ত প্রসিডিংস ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারানুসারে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের বিভাগে প্রেরণ করা হোক।

অত্রাদেশের অনুলিপি বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা, সিনিয়র জেল সুপার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মালখানা, সিএমএম কোর্ট, ঢাকা বরারবর প্রেরণ করা হোক।

বিজনেস আওয়ার/১০ অক্টোবর, ২০১৮/এমএএস

উপরে