ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে গ্রপিং ও কোন্দল কেন চলছে?

২০১৮ অক্টোবর ১১ ২১:২৪:২৬

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ঝিনইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন এবং ঝিনাইদহ সদরে আংশিক ৪টি ইউনিয়ণ নিয়ে ঝিনাইদহ ৪ আসন গঠিত। ঝিনাইদহ ৪ (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের কিছু অংশ) আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন। মনোনয়র প্রত্যাশিরা বিভিন্ন ভাবে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। কেউ বা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন ও বিএনপি থেকেও চারজন রয়েছেন। দু-দলের মধ্যেই রয়েছে গ্রপিং ও কোন্দল। প্রতিটা প্রার্থী তাদের গ্রুপ শক্তিশালি করার জন্য মাঠে ময়দানে থাকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুত্রমতে, এ চার আসনে সরকারী দল আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু ও কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু ।

অপর দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি থেকে যাদের নাম পাওয়া গেছে তার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, ও জেলা বিএনপির নেতা মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু।
দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা জানান, ঝিনাইদহ ৪ আসেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উভয় দলের মধ্যে লবিং গ্রুপিং বিদ্যমান। আওয়ামী লীগের ৩টি গ্রুপ রযেছে। এর মধ্যে একটি বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, আরেকটি সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং আরেকটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজু। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় আনোয়ারুল আজীম আনার, আব্দুল মান্নান ও মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে কেউ একজন নৌকার মাঝি হতে পারে।

তবে সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য নানা অনিয়ম, দলের মধ্যে গ্রপিং তৈরী করে রেখেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, নির্যাতন করেছেন। এলাকার কোন উন্নয়নে তার কোন ভুমিকা নেই।

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য আনারুল আজিম আনার বলেন, তিনি যে সব অভিযোগ করেছেন তার কোন ভিত্তি নেই। সাবেক সংসদ তিনিই গ্রপিং তৈরী করে দলকে বিভক্ত করে রেখেছেন।

অপর দিকে বিএনপির ২টি গ্রুপ বিদ্যমান। এর মধ্যে সাবেক সংসদ শহীদুজ্জামান বেল্টু একটিতে আর সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। মুলত দলের দু:সময়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ বিএনপিকে চাঙ্গা করে রাখেন। সংস্কার পন্থী হিসেবে পরিচিত শহীদুজ্জামান বেল্টু সেই সময় মাঠেই নামতে পারেন নি। এই আসনে বিএনপির নতুন একজন প্রার্থী বর্তমানে আলোচনায় এসেছেন। তিনি হলেন বর্তমান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ ছাড়াও জেলা বিএনপির নেতা মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন।

বিএনপির ভোটারা চাইছেন নতুন ও তরুন নেতৃত্ব। তবে এ দু-দলের মাঝে মুলত আওয়ামীলীগের সাথে বিএনপির ভোট যুদ্ধ হবে বলে ভোটাররা মনে করেন।

গত ৫টি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৩১ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৪১ হাজার ৯৭১ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের শাহ মো: জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ৩১ হাজার ৫৫৩ ভোট। এ আসন থেকে জামায়াতের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম পান ১৯ হাজার ৯৪৪ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪২ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৬০ হাজার ৬৯৬ ভোট। আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ৪৯ হাজার ৬০৫ ভোট। জামায়াত ইসলামীর আবু তালেব পান ২০ হাজার ১শ ৮ ভোট। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩ হাজার ২৭৬ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৯৫ হাজার ৯৯১ ভোট। আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ৭৪ হাজার ৪৫৮ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ১ লাখ ৫ হাজার ৮৫২ ভোট। আর বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ১ লাখ ১ হাজার ১৭৫ ভোট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আজীম আনার পান ১ লাখ ৩ হাজার৪৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির মোস্তফা আলমগীর পান ৫ হাজার ৩শ ৯৮ ভোট। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করেনি।

এই আসনে ১৯৯১ ,১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান ও সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আজম আনার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৪ হজার ৭৭৭ জন।

বিজনেস আওয়ার/১১ অক্টোবর, ২০১৮/আরএইচ

উপরে