ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

ভাবমূর্তি সংকটে বিএনপি

২০১৮ অক্টোবর ১২ ১১:৩১:৩২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়বে বলেই মনে করছেন বিদেশি বিশ্লেষকরা। তবে এই প্রভাবের মাত্রা কেমন হবে, তা বিএনপির ওপরই নির্ভর করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তাই এর কিছু না কিছু প্রভাব অবশ্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়বে। তবে পুরো পরিস্থিতিতে বিএনপি কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময় ২১ আগস্ট মামলা নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের বেশির ভাগের ভাষ্য ছিল, এ মামলা রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসামূলক। তারেক রহমানসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এ মামলায় দণ্ডিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও তাঁরা করেছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন।অল্পের জন্য বেঁচে যান দলের সভাপতি ও তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা।

এ ঘটনায় করা দুটি মামলার রায় হয়েছে গত বুধবার। এ রায়ে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে।

ঢাকায় একটি পশ্চিমা দূতাবাসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, তারেক রহমান বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি হয়তো দেশে ফিরতে চান না এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও তাঁর সুযোগ থাকবে না। এর পরও তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। লন্ডনে বসেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে দলটির আস্থা আছে।

তিনি বলেন, মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ আছে। তাই এই রায়কে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা উচিত। আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে, তাও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, ২১ আগস্ট মামলা, বিচারপ্রক্রিয়া, রায় ও রায়-পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসগুলো নিবিড় দৃষ্টি রেখেছে। দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত জানার চেষ্টা করে এবং সব তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে। দূতাবাসগুলো এই বিচারপ্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং তার আগের ও পরের পরিস্থিতি নিয়েও বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ছিল। বিশেষ করে, ওই মামলার প্রকৃত তদন্ত ও বিচারে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের অনাগ্রহ, হামলার আলামত নষ্ট করার মতো বিভিন্ন বিষয় বিদেশি কূটনীতিকদের নজরে এসেছে। উইকিলিকসের ফাঁস করা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক কূটনৈতিক তার বার্তাতেও এমন বিষয় রয়েছে।

মামলার রায়ে আদালত বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়ে রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা চালানো হয়। এই হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। জনগণ এ রাজনীতি চায় না।

কূটনীতিকরা বলেন, তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ‘ভয়ংকর’ উদ্যোগ বৈশ্বিক পর্যায়ে দলটিকে নতুন করে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি কি নিজেকে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে, নাকি ‘রাজনৈতিক মামলা’ বলে রায়কে বিতর্কিত করার চেষ্টা করবে, সেদিকেও তাদের দৃষ্টি থাকবে।

বিজনেস আওয়ার/১২ অক্টোবর, ২০১৮/এমএএস

উপরে