ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


আইপিও ফান্ড ব্যবহারে দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি সত্ত্বেও বোনাস ঘোষণা

২০১৮ নভেম্বর ০৬ ১৩:১০:৪৬

রেজোয়ান আহমেদ : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়েছে আরও দেড় বছর আগে। এরপরে আরও দেড় বছর সময় বাড়ানো সত্ত্বেও সেই ফান্ড ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। যাতে শনিবার (০৩ নভেম্বর) ফান্ড ব্যবহারে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল। তা সত্ত্বেও কোম্পানিটির পর্ষদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ব্যবসায় অযৌক্তিকভাবে বোনাস শেয়ার দিয়ে মুনাফার শতভাগ কোম্পানিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা কোম্পানির ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার প্রমাণ বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, আইপিও ফান্ড ব্যবহার করতে না পারার পরেও বোনাস শেয়ার দেওয়া অযৌক্তিক। বোনাস শেয়ার দিয়ে টাকা কোম্পানিতে রেখে দিয়ে লাভ কি? সেটাতো ব্যবহার করতে হবে। এমনিতেই আইপিও’র বড় ফান্ড অব্যবহৃত রয়েছে। এমতাবস্থায় নগদ লভ্যাংশ দেওয়া যৌক্তিক। ব্যবস্থপনার অদক্ষতার কারনে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এরমধ্যে ৮২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বিএমআরই করতে ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ও নতুন প্রজক্টে ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যবহারের জন্য ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়সীমা ছিল। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা ব্যবহারে ব্যর্থ হয়। যাতে এই অর্থ ব্যবহারে সময় বাড়ানোর জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নেয়। এক্ষেত্রে বিএমআরই জন্য ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর ও নতুন প্রজেক্টের জন্য ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবহার করা হবে বলে জানায়। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। এখনো কোম্পানিটির ১২৫ কোটি টাকার মধ্যে ১১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ৮৯.৩২ শতাংশ অব্যবহৃত রয়েছে।

এদিকে আইপিও ফান্ড ব্যবহারে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। এবার ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়াতে চায়। এলক্ষ্যে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির জন্য আগামি ২৭ ডিসেম্বর বিশেষ সাধারন সভার (ইজিএম) আয়োজন করা হয়েছে। এমতাবস্থায়ও কোম্পানিটির পর্ষদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ব্যবসায় অর্জিত মুনাফার শতভাগ কোম্পানিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (০৩ নভেম্বর) কোম্পানিটির পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রিজেন্ট টেক্সটাইলের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১.১২ টাকা হিসাবে ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। তবে কোম্পানির পর্ষদ বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে এই মুনাফার শতভাগ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালেও কোম্পানিটির পর্ষদ ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

এ বিষয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) অঞ্জন কুমার ভট্টাচার্য বিজনেস আওয়ারকে বলেন, দেশের অবস্থাতো সবারই জানা। কোন কাজই সময়মতো করা যায় না। যে কারনে আইপিও ফান্ড ব্যবহারে সময় বাড়াতে হচ্ছে। অথচ প্রত্যেক বছরই শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিচ্ছি। যদিও আইপিওধারীদের ফান্ড ব্যবহার করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আইপিও ফান্ডের অর্থ দিয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের পুরো প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্ভব না। যাতে এ বছর বোনাস শেয়ার দিয়ে মুনাফা কোম্পানিতেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও পরিচালনা পর্ষদের সভায় কেউ কেউ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকেই রিজেন্ট টেক্সটাইলের মুনাফা কমছে। কোম্পানিটি ২০১৪ সালের ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার নিট মুনাফা বা ইপিএস ২.৪৮ টাকা নিয়ে শেয়ারবাজারে আসে। এরপরের বছরই মুনাফা কমে হয় ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বা ইপিএস ১.২০ টাকা। যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ইপিএস ১.২১ টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইপিএস হয়েছে ১.১২ টাকা।

রিজেন্ট টেক্সটাইল শেয়ারবাজার থেকে উচ্চ প্রিমিয়ামে অর্থ উত্তোলন করে। ওই সময় কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ার ২৫ টাকা দরে ইস্যু করে। অথচ কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন ১৮.৯০ টাকায় অবস্থান করছে।

বিজনেস আওয়ার/০৬ নভেম্বর, ২০১৮/আরএ

উপরে