ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


কঠোর কর্মসূচি চান বিএনপি নেতারা

২০১৮ নভেম্বর ০৮ ০৯:২২:২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: আগামী এয়াকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের দুই দফা সংলাপে কোনও সমাধান না আসায় আন্দোলনকেই বিকল্প ভাবছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিও চান তারা।

বুধবার (০৭ নভেম্বর)প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে তারা নির্বাচন এবং আন্দোলনের ব্যাপারে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দায়িত্বশীল নেতারা এসব মতামত লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মতামত নিয়ে দলের চেয়ারপার্সনকে অবহিত করা হবে যে কোনো প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে যাবে বিএনপি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পাঠানো হবে একই বার্তা। পরবর্তিতে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে সেই মোতাবেক কর্মসুচী দেয়া হবে।

বৈঠকে থাকা কয়েকজন নেতা জানান, দলের বেশিরভাগ নেতা মনে করেন সরকার ঘটা করে সংলাপ করলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়সহ উল্লেখযোগ্য কোনো দাবি পূরণ হয়নি। এমনকি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোনো আশার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। এটা হবে আত্মহত্যার শামিল।

এদিকে তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনের সময় খুব বেশি না থাকলেও এখনই কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই। একই মতামতই বেশিরভাগ নেতা দিয়েছেন। বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে সবাই মতামত দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ সংলাপ নিয়ে এখনো আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন।

তবে কোন ধরণের কর্মসূচির বিষয়ে মতামত এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাস্তিপূর্ণ কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচির বিষয়ে পরামর্শ এসেছে। যেমন ইসি কার্যালয় ঘেরাও এই ধরণের। তাছাড়া সকল নেতাদের মতামত, চেয়ারপার্সন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে। পরে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ফাহিমা মুন্নি বলেন, আমরা সবাই মন খুলে মতামত দিয়েছি। সংলাপ নিয়ে ফলাফল কি হলো, সামনে করণীয় কি, আন্দোলন হলে কর্মসূচি কি হতে পারে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে সবাই। এখন হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজনেস আওয়ার/০৮ নভেম্বর, ২০১৮/এমএএস

উপরে