ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


'সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে'

২০১৮ নভেম্বর ০৮ ১৮:২২:৩৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ শুধু ঘোষণা দিয়েই সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নের সাথে অনেক বিষয়ে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তার মধ্যে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ বা আনহলি প্রতিযোগিতা সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্য আরেকটি কারণ বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সুপারনিউমারারি প্রফেসর ড. হেলাল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর, ২০১৮) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর সপ্তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পর এ কথা বলেন তিনি। গবেষণাপত্রটির উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণ বিতরণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ব্যাংকই ৯ শতাংশের উপরে সুদ গ্রহণ করছে। কস্ট অব ফান্ড, সিআরআর ও এসএলআর, পরিচালনা ও প্রশাসনিক খরচ এবং খেলাপি ঋণের কারণে সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে হাবিবুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গড় সুদের হার ছিল ৯.৫৪ শতাংশ। যা আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল ১০.২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের হার ২০১৬ সালে ছিল ১১.৫৪ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১১.৪১ শতাংশে। হুট করেই ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি প্রফেসর ইয়াসিন আলী এ বিষয়ে বলেন, কিছু ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করছে। সে কারণে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের না আনা গেলে খেলাপি ঋণ কন্ট্রোলে আনা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় আবার ঠিক হয়ে যায়। আমাদের দেশেও হয়েছে। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধস, রিজার্ভ চুরি, বর্তমানে খেলাপি ঋণ সহ বেশ কিছু অর্থনৈতিক অস্থিরতা আমরা লক্ষ্য করেছি। এটা সমাধান হতে সময় লাগবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। সব সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইড লাইনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। প্রতিটি ব্যাংকের একটি নিজস্ব গাইডলাইন থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিআইবিএম’র অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে ২ থেকে ৩ শতাংশ স্প্রেড রেট। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে স্প্রেড রেট ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এর প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না আসলে স্প্রেড রেট কখনোই নিম্নমুখী হবে না।

বিজনেস আওয়ার/০৮ নভেম্বর, ২০১৮/আরআই/আরএইচ

উপরে