sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


শিক্ষক ইমপোর্ট, বাংলাদেশীরাই তো বিদেশে সেরাদের সেরা

০২:২২পিএম, ২৯ জুন ২০১৯

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সব মহল থেকেই করা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার মান নিয়ে ব্যাপক হারে আলোচিত-সমালোচনা হচ্ছে। আমাদের দেশে প্রাইমারি শিক্ষার স্তর থেকে উচ্চ শিক্ষার সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত আছে কিন্তু আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

নিঃসন্দেহে শিক্ষার হার ও ফলাফল আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মান নিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষা নির্ভর ও ফলাফল নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার এই চরম দুরবস্থা জন্য বিশেষজ্ঞরা অনেক বিষয় সামনে এনেছেন, তার মধ্যে দক্ষ শিক্ষকের অভাব, ক্লাসের মান গতানুগতিক ও আধুনিকতার সাথে সমন্বয়হীনতা। ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং ও প্রাইভেটে পড়ার মানসিকতা নকল কে আলিঙ্গন করা। বাজারে প্রাপ্ত সস্তা গাইড বুক, শুধুমাত্র জিপিএর উপর নির্ভরশীল পড়ালেখা, পরীক্ষায় পাশ ও ভালো ফলাফল শিক্ষার একমাত্র হাতিয়ার। গতানুগতিক কারিকুলাম, শিক্ষা নিয়ে অপর্যাপ্ত গবেষণা, উচ্চ শিক্ষার স্তরে কম অর্থ বরাদ্দ রাজনীতির কালো থাবা ও রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

কিছুদিন পূর্বে অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন আমাদের শিক্ষা কে উন্নত করার জন্য আমরা বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসবো, সেখান থেকেই মূলত আলোচনা-সমালোচনা সূত্রপাত। শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে এমন অনেকেই, বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসার ইতিবাচক দিক বলেন, সেই সাথে অনেকের মতে শুধু বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসলেই শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে না।

বাংলাদেশের উন্নত শিক্ষার অন্তরায়গুলো আগে খুঁজে বের করতে হবে, শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতি ও অপসংস্কৃতি দূর করতে হবে, ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে সু-সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা,পড়ালেখা, আদর্শ, সততা, পেশাগত দক্ষতা ও মনোভাবের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

গতানুগতিক সিলেবাসের পরিবর্তে, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা বাড়াতে হবে, গবেষণাকে ত্বরান্বিত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাএরা বাইরে গবেষণা করতে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসছে না। বিদেশে অত্যন্ত সফলতার সাথে পৃথিবীর নামিদামি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। একজন যোগ্য শিক্ষককে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার আমাদের দেশে সে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, এ দেশের মেধাবী শিক্ষকরা উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন গবেষণায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছেন এবং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নাম তুলে ধরছে, তারপরও আমাদের জন্য অতি পরিতাপের বিষয় আমরা আমাদের দেশের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মেধাবী শিক্ষকদের মেধাস্বত্বকে সার্বিক কল্যাণে সরাসরি ব্যবহার করতে পারছি না। এই ব্যর্থতার দায়ভার কে নিবে?

আবার, আমরা বলছি বিদেশ থেকে শিক্ষক আনবো। বিদেশী বিশেষজ্ঞদের থেকে আমাদের দেশের শিক্ষকদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে কর্মরত শিক্ষকদের আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি, আমরা যদি বিদেশি শিক্ষক চড়া মূল্যে ইম্পোর্ট করি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি হওয়ার চেয়ে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি!

শিক্ষা নিয়ে গবেষকদের গবেষণা আরো বাড়াতে হবে। কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার উন্নয়নের ধারা অধিক গতিশীল হবে।

লেখক : সবুর মিয়া, বেসরকারী চাকুরীজীবী।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে