sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বাজারে দিনদিন বাড়ছেই পেঁয়াজের ঝাঁজ

০৮:৪২এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাজারে দিনদিন বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। গত কয়েক দিন পেঁয়াজের কেজি ১৪০-১৫০ টাকার মধ্যে ছিল, তবে গতকাল সকালেই তার দাম উঠে গেছে ১৭০-১৮০ তে। এ যেন ধাক্কার মতো লেগেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর পাড়া-মহল্লার বাজার ও মুদি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, কোথাও কোথাও আবার ২০০ টাকাও দাম চাওয়া হচ্ছে।

মিরপুরের পীরেরবাগ কাচাবাজারে গতকাল দেশি ক্রস জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। এর থেকে বাছাই করা তুলনামূলক ভালো মানের পেঁয়াজের দাম চাওয়া হচ্ছিল প্রতি কেজি ২০০ টাকা।

এই বাজারের একটি দোকানের পাঁচজন ক্রেতা পেঁয়াজের দাম শুনে বেশ হতবাক হয়ে যান। অন্য দুটি দোকানে গিয়েও একই দাম দেখেন তারা। এক পর্যায়ে পেঁয়াজ ছাড়া কাচাবাজারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেই বাড়ি ফেরেন এসব ক্রেতা।

এ বাজারের মুদি দোকানি মুরাদ হোসেন বলেন, মিরপুর-১ নম্বরের পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি ১৫৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে এনেছেন তিনি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় যোগ করে এখন তিনি প্রতি কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী বলেন, দুইশ টাকা যদি পেঁয়াজ কিনতেই খরচ করতে হয় তাহলে অন্যান্য সদাই করব কীভাবে? পেঁয়াজের এত দাম আমার জীবনে দেখি নাই। স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে আর পেঁয়াজ খাওয়া সম্ভব না।

মগবাজারের সবজির দোকানে পেঁয়াজের দাম জিজ্ঞেস করে জবাব শুনে বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। সেখানকার এক দোকানে কেজি চাওয়া হচ্ছিল ১৮০ টাকা, অপরটিতে ১৭০ টাকা।

মগবাজারেরএক দোকানি বলেন, সকালে কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখেন পেঁয়াজের দাম আগের দিনের চেয়ে পাল্লায় (৫ কেজি) প্রায় ১০০ টাকার মতো বেশি।

এই বিক্রেতা বলেন, তার পেঁয়াজটা তুলনামূলক কম দামের। মঙ্গলবার ৬৮০ টাকায় এক পাল্লা পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে এদিন লেগেছে ৭৫০ টাকা। আর ভালো মানের পেঁয়াজের পাল্লা ৭২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় উঠেছে।

আরেক দোকানি বলেন, কী করব দামই বেশি পড়েছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। আগে দিনে ২০ কেজির মতো বিক্রি হত। আজকে ১০ কেজি এনেছি, এখনও তো প্রায় পুরোটাই রয়ে গেছে।

মিরপুরে বড়বাগ কাচাবাজারের মুদি দোকানী বলেন, দামের কারণে পেঁয়াজের বাজারের খুব শোচনীয় অবস্থা। মানুষ ১০ টাকার পেঁয়াজ কিনতে চায়। অথচ একশ গ্রাম পেঁয়াজের দাম আছে ১৭ টাকা। সবাই গালি দেয়। কিন্তু আমাদের কী করার আছে?

মিরপুর -১ নম্বর বাজারের এক পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, সত্যিকার অর্থেই বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট রয়েছে। সেই কারণে সরকার নানা অভিযান চালানোর পরেও, অনেক জেল-জরিমানা করার পরেও দাম কমাতে পারেনি।

কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমদানি করা পেঁয়াজ সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। আর সেই কারণেই এখন বাজারের এই পরিস্থিতি। সঙ্কটের সুযোগে অনেক পেঁয়াজ ব্যবসার বিভিন্ন ধাপে অতি মুনাফা করছে।

এই বাজারের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল বলেন, এখন পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। খুচরায় সেই পেঁয়াজ বিক্রি হতে পারে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকা। এর চেয়ে বেশি দাম যারা রাখছে তারা অবশ্যই অন্যায় করবে।

এই দোকানে আমি সাধারণ সময়ে ১০০ থেকে দেড়শ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করতাম। এখন সারা দিনে ২০ বস্তা পেঁয়াজও বিক্রি করতে পারছি না। দামই যেখানে আকাশচুম্বি সেখানে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কোথায়?

অন্যান্য পাইকার ও মুদি দোকানিরাও বলছেন, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের বিক্রি বেশ কয়েক গুণ কমে গেছে। এতে পাইকারি বিক্রির আড়ৎগুলো ‘লোকসানের মুখে পড়ছে’ বলেও দাবি করেন অনেকে।

সর্বশেষ পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে ঘিরে। গত শনিবার বুলবুল আঘাত হানার একদিন আগে থেকে নতুন করে বাড়তে থাকে দাম। তার আগে খুচরায় পেঁয়াজের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি। সর্বশেষ প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি ট্রাক বসিয়ে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছিল তারা।

একজন ক্রেতা এক কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারছিলেন। আর ট্রাক সেলের ডিলার পাচ্ছিলেন প্রতি দিন এক টন করে পেঁয়াজ। অর্থাৎ দিনে একটি ট্রাক থেকে প্রায় এক হাজার পরিবারের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হচ্ছিল।

সংস্থার মুখপাত্র হুমায়ুন করিব বলেন, এই সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সপ্তাহিক ছুটির কারণে বিক্রি বন্ধ ছিল। রোববার ছিল সরকারি ছুটি। এর মধ্যে কেবল সোমবার পেঁয়াজের ট্রাক সেল দেওয়া হয়েছে। ঘাটতির কারণে মঙ্গলবার পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

বিজনেস আওয়ার/১৪ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে