sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


মজুদ-সরবরাহ স্বাভাবিক তবুও চালের দাম বেশি

০৮:১৮এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : এ বছর উৎপাদন ও আমদানি বেশি হওয়ায় দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক। কোথাও চালের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। তারপরও বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল।

এজন্য মিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। কিন্তু পেঁয়াজের পাশাপাশি চালের মূল্যবৃদ্ধি বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের। তারা বলছেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

কারওয়ান বাজারের চালের জন্য প্রসিদ্ধ কিচেন মার্কেটের চালের দোকানদাররা বলেন, চলতি মাসের শুরু থেকেই চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মিল মালিকরা।

যাদের কাছে বাড়তি চাল কেনা ছিল তারা পুরনো দামে বিক্রি করায় এতদিন চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় ছিল না। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে পূর্বের দামে কেনা চাল শেষ হয়ে গেলে তারা বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করলে আলোচনায় আসে চালের দাম বৃদ্ধি।

চালের দাম বাড়ার ব্যাপারে কিচেন মার্কেটের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ধানের দাম বাড়লে চালের দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখন তো ধানের দাম বাড়ে নাই। তারপরও যখন চালের দাম বেড়েছে তখন বুঝতে হবে এখানে মিল মালিকদের হাত আছে।

মূলত মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়েছে। আমাদের যখন বস্তাপ্রতি দুইশত টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তখন খুচরা বাজারে কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে চাল বিক্রি করতে হবে। লোকসান দিয়ে তো আর ব্যবসা হয় না।

কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি চাল বিক্রেতা বলেন, চালের দাম পাইকারি পর্যায়ে একই আছে। তবে মিলাররা দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তাই এখন থেকে যদি সরকারের নজরদারি না থাকে, তাহলে চালের দাম লাগামছাড়া হতে পারে।

একজন ক্রেতা বলেন, বাজারে মিনিকেট ও আটাশ চালের চাহিদা বেশি হওয়ায় এই চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। সিন্ডিকেট ও বাজার মনিটরিংয়ে অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্টদের অনীহার কারণেই চালের দাম দাম এভাবে বাড়ানো হয়েছে কোন কারণ ছাড়াই।

কারওয়ান বাজারে চাল কিনতে আসা আবদুল হালিম বলেন, বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। যে যেভাবে পারছে সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নিচ্ছে।

রাজধানীর নয়াবাজারের চাল কিনতে আসা মো. রেজা বলেন, পেঁয়াজের সঙ্গে চালের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কিন্তু সরকারের কোনো সংস্থার দাম নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এখন চালও আমাদের বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, চালের বাজার কিন্তু আমরা তদারকির মধ্যে রেখেছি। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও নয়াবাজারে খুচরায় প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪২-৪৪ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা।

বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৪-৩৫ টাকা। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩২-৩৩ টাকা।যে আটাশ চাল গত সপ্তাহে ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে আটত্রিশ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি চালের আড়তদাররা জানান, এক সপ্তাহ আগে চালের যে দাম বেড়েছিল, সে দামেই এখনও বিক্রি হচ্ছে। শনিবার এই বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২৩০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২১০০ টাকা।

নাজিরশাইল প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ২৭৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৬০০ টাকা। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০০ টাকা। এছাড়া স্বর্ণা চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হয় ১৭০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০০ টাকা।

বেশি দামে বিক্রির ব্যাপারে মিলাররা বলেছেন, তারা চালের দাম কেজিতে ১ টাকা বাড়ালে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়াচ্ছে ৫ টাকা। মূলত খুচরা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণেই দেশে চালের দাম বাড়ছে।

অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মিলাররা ধান মজুদ করে এখন চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে কৃষকের হাতে কোনো ধান থাকে না। নতুন ধানের অপেক্ষায় কৃষক পুরনো ধান বিক্রি করে দেন। ফলে সব ধানই চলে আসে মিলারদের চাতালে। তখন তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে সক্ষম হয়।

বিজনেস আওয়ার/১৭ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে