sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


নেতৃত্বে ফিরছেন মায়া-কামরুল-খোকন!

০৯:৫২এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঢাকার দুই মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে আলোচনায় আছেন তিন নেতা। তাঁরা হলেন- মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন।

ঢাকার দুই মহনগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিন নেতার যেকোনো দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে কেমন হয় সে ভাবনা এখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। ওই তিনজনই ঢাকার দুই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা এবং ঢাকা মহনগর আওয়ামী লীগের দুই কমিটির নেতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে আগামী ৩০ নভেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এক মঞ্চে মহানগরের দুই অংশের ওই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলার মর্যাদা পাওয়া মহানগর শাখার সবচেয়ে বড় এই উৎসবে ঢাকায় বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোর মতোই দুই অংশের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সেই সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে জোর তদবির চালাচ্ছেন। দলীয় ও শেখ হাসিনার সব কর্মসূচিতে তাঁদের উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। কারণে অকারণে গণভবনেও বেড়েছে তাঁদের যাতায়াত।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, আমি মনে করি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। কারণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।

তিনি বলেন, দুই অংশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপত্যাশী অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক নেতাও আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা এখন আগের মতো নেই। এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, আগের ধারাবাহিকতায় নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের উপস্থিতি নেই। তাই শূন্যতা পুরণ করতে বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধান করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

সে ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় ঘুরেফিরে আসছে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম। তিনি সরকারে নেই, সংসদ সদস্যও নন। তবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতির সম্ভাব্য তালিকায় আছে তাঁর নাম।

অন্য অংশে বিবেচনায় আছেন সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। তবে সব কিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলনে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

বিএনপি সরকারের পতনের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাংগঠনিক দক্ষতাও কর্মীদের সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছিল বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

এক-এগারো-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম শক্তভাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

তাঁদের সহযোগিতা করেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমতউল্লাহ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, অখণ্ড মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আওলাদ হোসেনের নাম আলোচনায় আছে। তবে পুরান ঢাকায় শক্তিশালী অবস্থান বিবেচনা করে সাঈদ খোকনের বিষয়টিকেও শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

অবশ্য মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরুর নাম। তৎপর আছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীও।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, আমার বিশ্বাস, নেত্রী মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে একটা বিরাট চমক দেবেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে যেখানেই রাখবেন আমি কাজ করব।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সাংগঠনিক কার্যক্রমে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাই সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে আছেন। দলের হাইকমান্ডও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।

এর পরও এই পদের প্রত্যাশায় দলের বিভিন্ন স্তরে তদবিরে আছেন একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ডা. দিলীপ রায়, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, গিয়াস উদ্দিন পলাশ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আবদুল আজিজ তামিম প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। বর্তমান সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান।

বর্তমান কমিটির সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান স্বপদে বহাল থাকতে চান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক পদে এবার চমক আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, নেত্রী যখন যে দায়িত্ব দেবেন তা যথাযথভাবে ও সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। অতীতেও তা-ই করেছি। দলের একজন কর্মী হিসেবে তাঁর নির্দেশ পালন করাই আমার প্রধান কর্তব্য।

বিজনেস আওয়ার/১৭ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে