sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


তীরে এসে তরী ডুবতে বসেছে পেঁয়াজ কারবারীদের

১১:৫৪এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : তরতর করে কমছে পেঁয়াজের দাম। এমন পরিস্থিতিতে মজুদ করা পেঁয়াজ বাজারে দ্রুত সরবরাহ করেও নিজেদের পাতানো দাম ধরে রাখতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এ যেন তীরে এসে এখন তরীই ডুবতে বসেছে পেঁয়াজ কারবারীদের। এমন চিত্রই দেখা গেছে রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের বাজারে।

এক রাতেই দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫০ টাকা। গতকাল রোববার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ২০০ টাকা। অথচ সোমবার (১৮ নভেম্বর) পাঁচ কেজির এক পাল্লা পেঁয়াজ ৭৫০ টাকা- এমন হাঁকডাক করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

গেন্ডা পাইকারি বাজারের শাকিল ট্রেডার্সের মালিক জসিম বলেন, পেঁয়াজ বিক্রিতে ধস নেমেছে। পাবনার পেঁয়াজ কেজি প্রতি দেড়শ' টাকা হাঁকডাক করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছি না। দাম বেশি হওয়ায় মানুষ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া পেঁয়াজ আমদানির খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় যারা মজুদ করে রেখেছিলেন তাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তার ওপর মজুদ করা পেঁয়াজ থেকে গেঁজ (অঙ্কুর) বের হতে শুরু করেছে। ফলে মানও পড়তির দিকে। অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইপ লাইনে থাকার পাশাপাশি হালি পেঁয়াজ নামে পরিচিত নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে উঠতে থাকায় মজুদদারদের দিন শেষ হবার পথে।

জানা গেছে, নতুন ওঠা পাতাসহ হালি পেঁয়াজ পাঁচ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। একেতো নতুন পেঁয়াজ। তার ওপরে তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় ছিল সে দিকেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে করে পেঁয়াজের দাম খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও কমে আসবে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা করতে কারসাজির মাধ্যমে যারা পেঁয়াজ মজুদ করছেন, দিন শেষে বাজারে পেঁয়াজ না ছাড়লে তাদেরই পস্তাতে হবে।

এক ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনি ৮০ থেকে ৯০ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করলেও সোমবার এ সময়ে বিক্রি করেছেন মাত্র তিন বস্তা পেঁয়াজ। এখন দোকান খরচ উঠবে কিনা, তা নিয়েই শঙ্কায় আছি।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, যেখানে গড়ে এক থেকে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতেন তারা, সেখানে এখন ২০০ থেকে আড়াইশো গ্রাম পেঁয়াজ কিনছেন।

এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, আগে ডিমের ওমলেট ও সালাদের সঙ্গে কিংবা তরকারির সঙ্গে আমরা বাড়তি কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ দিতাম। দাম বেড়ে যাওয়ায় নামমাত্র পেঁয়াজ দিয়ে তরকারি রান্নার পাশাপাশি সিঙ্গারা কিংবা পুরির সঙ্গে পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে যে দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি চলছিল, তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ব্যবসায়ীরা গুদামে পেঁয়াজ পচিয়েছেন, তবু পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করেননি। একদিনের মধ্যে কেজিতে ৫০ টাকা দাম কমে আসাটা কারসাজির ইঙ্গিত দেয় বলেও মনে করছেন তারা।

বিজনেস আওয়ার/১৮ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে