sristymultimedia.com

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


সড়কে শৃঙ্খলার অভিযান, ভোগান্তির দায় নেবে কে?

০৮:২২পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

সড়কে শৃঙ্খলা, সড়ক নিরাপত্তা, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না,নিরাপদ সড়ক চাই, সহ অন্যান্য আরো অনেক জনপ্রিয় স্লোগান আমরা শুনেছি এবং এখনো শুনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনের পরে, সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল নিরাপদ সড়কের দাবিতে। আন্দোলনে রাজপথ মুখরিত করেছিল এ দেশের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।এই দেশের সকল মানুষ আন্দোলনকে শতভাগ সমর্থন জানিয়েছিল। সড়কে মানুষ হত্যা ও দুর্ঘটনা রোধে নতুন আইন কার্যকরের লগ্নে দেখা যাচ্ছে অশুভ শক্তির উত্থান। আবারো গাড়ি বন্ধ, রাজপথ অবরোধ যথারীতি আগের মতোই মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, বিভিন্ন জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের গাড়ি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এমনকি সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি এই আইন তারা মানে না!

কী এক অদ্ভুত রাজ্যে আমাদের বসবাস! যেখানে আইনের শক্তি সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা স্বার্থে গ্রহীত,সেখানে আইন অকার্যকর করার চেষ্টা সাধারণ জনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ঘৃণিত,নিন্দিত ও কথিত আন্দোলন। এদেশের কোন সাধারন মানুষ রাস্তায় মানুষ হত্যাকে মেনে নিতে পারে না। তাহলে কেন এই অশুভ আন্দোলন?

বিগত সময় আমরা দেখেছি একটি অশুভ চক্র শ্রমিকদেরকে জনগণের বিরুদ্ধে রাস্তায় লেলিয়ে দিয়েছে, পিছন থেকে ইন্ধন দিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।বেশ কিছুদিন আগেই থেকেই শ্রমিক সংগঠনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছিল সরকার গৃহীত আইন তারা মানে না।

তবে তাদের কিছু দাবি খুবই যৌক্তিক,যেমন শ্রমিকরা বলেছেন বিআরটিএ দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে কারণ এই প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া অর্থাৎ ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না, এছাড়াও রয়েছে যথেষ্ট লোক বলের ঘাটতি,সড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে,গাড়ির ফিটনেসের নামে চাঁদাবাজি এক ধরনের সন্ত্রাসী। অবৈধ গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।

ভোগান্তি প্রসঙ্গ: কি পরিমান ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ এটা বুঝতে হলে, ঘর হতে বের হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে, তাহলে বাস্তবে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে কি সীমাহীন ভোগান্তি! সকালে অফিসগামী মানুষের হাহাকার কোথাও নেই পাবলিক গাড়ি, যেগুলো আছে মানুষ দ্বারা প্যাকিং, মানুষের বোবা কান্না অসহায়ত্ব দেখার কেউ নেই! আজ সকালে স্বচক্ষে দেখলাম ছোট্ট ভূমিষ্ঠ শিশু কে নিয়ে মা-বাবা দিশেহারা গন্তব্যে যাওয়ার নেই কোন গাড়ি।

সড়কে শৃঙ্খলা আমরা দেখতে চাই, আমরা দেখতে চাই কোন অপশক্তি যেন মানুষের জীবন নিয়ে খেলার আনন্দে মেতে উঠতে না পারে। আমরা আরো দেখতে চাই সকলের জন্য সুশৃংখলভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।

মোঃ সবুর মিয়া
Email: [email protected]

বিজনেস আওয়ার/১৯ নভেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে