sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


'অপপ্রচারে কান না দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে'

১২:২৪পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষ ভালো আছে। তারপরও একটি গোষ্ঠী চাল নেই, লবণ নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। যাহোক এসব অপপ্রচার মোকাবেলা করে আমাদের চলতে হবে। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে স্বল্পোন্নত দেশে থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। ইনশাল্লাহ এ বাংলাদেশকে নিয়ে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশই আমরা গড়ে তুলবো। সেটাই আমাদের প্রত্যয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না। এটাই আমাদের লক্ষ। আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বরং উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশ বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে বলবো, অপপ্রচারে কান দেবেন না। পেঁয়াজ নেই, লবণ নেই, এটা নেই, সেটা নেই নানা ধরনের কথা প্রচার হয় এবং এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। এই বিভ্রান্তিকে মোকাবেলা করে আমাদের চলতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি ছিল দরিদ্র, ক্ষুধার্থ, শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। এ দেশের মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্যই জাতির পিতার সংগ্রাম করেছেন। এ দেশের ৮২ ভাগেরই বেশি মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করতো। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতির পিতা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

সেই স্কুল জীবন থেকেই তিনি এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম শুরু করেন এবং বার বার কারাবরণ করেন। যখনই তিনি বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, তখনই তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাগারে বসে তিনি যে ডায়রি লিখেছিলেন, এটা যদি আপনারা পড়েন, তবে দেখবেন যে, তিনি কীভাবে সংগ্রাম করেছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে একটা সম্মান পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর সে সম্মান হারিয়েছিল এদেশ। জাতির পিতার ডাকে যারা সব কিছু ফেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা কিছুই চায়নি। তারা হাতে যা পেয়েছিলেন তা নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

সেই গৌরবের ইতিহাস আবার আমরা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করতে পেরেছি, যেটা জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার আমরা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা সারাটা জীবন এ দেশের মানুষের কথা বলেছেন। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই ছিল তার লক্ষ। আর সেই লক্ষ নিয়েই তিনি সংগ্রাম করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করে দেন। তাই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গরিবের সন্তানরা যেন লেখাপড়া করতে পারে, সেজন্য বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি। বিনা পয়সায় ছেলে-মেয়েদের বই দেয়া হচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরা যাতে লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে পারে, তারা যেন এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারে, সেজন্যই আমরা এ কাজগুলো করছি।

সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তান, নাতি-পুতিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলবেন। তারা যেন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে। দেশকে ভালোবাসতে পারে। বাঙালি বীরের জাতি, এ কথা যেন নতুন প্রজন্মের সন্তানরা জানতে পারে। ভবিষৎ প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। কারণ, আমরা বীরের জাতি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও প্রতিরক্ষা সিনিয়র সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, আজ ২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ৭১-এর এই দিনেই আত্মোৎসর্গের ব্রত নিয়ে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা মুক্তিকামী সাধারণ জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অপ্রতিরোধ্য আক্রমণের সূচনা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

বিজনেস আওয়ার/২১ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

রাজধানীতে হোটেল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে হোটেল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

উপরে