sristymultimedia.com

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


ডিসেম্বরেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

১২:৩২পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ডিসেম্বরই দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকার পতনের আন্দোলনের প্রস্তুতি বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিনে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না। এ অবস্থায় আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে দুধরনের চাপে পড়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তিতে রাজপথের কর্মসূচি না দেওয়ায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নীতিনির্ধারকদের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।

এ সমালোচনা থেকে বাদ যাচ্ছেন না দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। আবার রাজপথে কর্মসূচি দিলে মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সে বিষয়টিও ভাবছেন দলের হাইকমান্ড। এ অবস্থায় অন্তত এক দফা আন্দোলনের কথা ভাবছেন তারা।

দলের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি হয়েছে, দলীয়ভাবে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত না নিলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই কোনো না কোনো নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিজ নিজ উদ্যোগে রাজপথে নেমে পড়বেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পতন ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে তীব্র আন্দোলনে রাজপথে নামতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এই লক্ষ্যে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের জাগরণ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চারদিকে সরকারের বিদায় ঘণ্টা শোনা যাচ্ছে। সভা সমাবেশ করতে আর তাদের অনুমতি নেয়া হবে না।

তার সেই বক্তব‌্যের একদিন পরই হঠাৎ করেই ২৬ নভেম্বর রাস্তায় নামে বিএনপি নেতাকর্মী। হাইকোর্টের সামনে সড়ক অবরোধ করে, বিক্ষোভ করে। এসময় পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই আন্দোলন শেখ হাসিনার স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলন। আমরা যদি দেখি ৫ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হন নাই। তাহলে বুঝতে হবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। তার হস্তক্ষেপে বেগম জিয়া মুক্ত নাও হতে পারেন।

আর সেটা হলে, আমি বলতে চাই- ৫ ডিসেম্বরের পরে এদেশে শুধু এক দফার আন্দোলন হবে। তা হবে, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলন।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের মূল বাধা সরকার ও সরকারপ্রধান। যদি তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া না হয়, তা হলে তারা এক দফার সরকার পতনের কথাই ভাবছেন। এই নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয় গতকাল শনিবার।

বৈঠকে উপস্থিত একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আন্দোলনে নামার আগে দলের নীতিনির্ধারকরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবছেন। এর একটি হচ্ছে ভবিষ্যতে সভা-সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা না করা। এ ক্ষেত্রে কর্মসূচির জন্য অনুমতির আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
অন্যটি হচ্ছে, হয়রানির প্রতিবাদ হিসেবে সারাদেশে পুলিশের দায়ের করা 'গায়েবি' মামলায় একযোগে আদালতে হাজিরা না দেওয়া।

এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করেছে। এ সরকার থাকলে তিনি মুক্তি পাবেন না। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। এটা শুরু থেকেই বলে আসছি। অবশ্য যেসব নেতা এতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলেছেন, তারাও বলতে শুরু করেছেন আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।

বিজনেস আওয়ার/০১ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে