ঢাকা, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪


খালেদা জিয়ার বন্ধু হয়ে ধরা দেয়নি ভারত

২০১৭ নভেম্বর ১৭ ১৭:৩২:৫৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ভারত সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির গূরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে ফলপ্রসূ বৈঠক করতে ব্যর্থ হয়েই তড়িঘড়ি করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা দাবীদার কামরুল হাসান নাসিম।

তিনি বলেছেন, ‘ বিএনপির চেয়ারপারসন বাংলাদেশী একজন ব্যবসায়ীকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠকের ব্যবস্থা করিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু সেই ব্যবসায়ী খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন ঐ ব্যবসায়ী ইউরোপে পালিয়ে রয়েছেন।’

মঙ্গলবার বারিধারা ডিওএইচএস অফিসে বিজনেস আওয়ারের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

কামরুল হাসান নাসিম আরো জানান, খালেদা জিয়ার সাথে ১৯ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের গূরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠক হবে এজন্য তিনি সেই বৈঠকও বাতিল করেন। কিন্তু সুষমার সাথে বৈঠক না হওয়ায় খালেদা জিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের গূরুত্বপূর্ণ কর্তাদের সাথে আবারও বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক করেন নি।’

নাসিম বলেন, ‘ খালেদা জিয়া একেবারে শূণ্য হাতে দেশে ফিরছেন। তিনি দেশে আন্দোলন করতে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন। তেমনি কূটনৈতিকভাবেও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সু-সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন। ‘ কামরুল হাসান নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতে বিএনপি এখন আর নিরাপদ নয়। বুধবার তাঁর দেশে ফেরা হত না। নাসিম বলেন, বিএনপির ৫টি অসুখের একটি, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীলতা। যে বেগম জিয়াকে গেল তিন মাসে রাজনৈতিক ও সামাজিক আদলে দেখা গেল না, তিনি এখন ফিরছেন। কেন ? ২৩ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করবেন ! তাঁর সাক্ষাৎ পেতে বেগম জিয়া তাই উসাইন বোল্ট হয়ে ঢাকায় ফিরছেন বলে কথিত আছে। আমি কষ্ট পাই দলের পক্ষ থেকে। কেননা আমাদের দেশের মানুষের জন্য তিনি যদি গেল ৯ বছর একা একা গ্রামে গঞ্জে পথে প্রান্তরে ছুটতেন তাহলে কি বিদেশী ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে হয় ? হয় না। বিএনপি একটা সাগর। জনপ্রিয়তার প্রশ্নে আমাদের সমস্যা নেই, আছে দেশ নিয়ে রাজনীতি না করার দিকটা। ওইটা করা গেলে বিদেশি শক্তিকে না পেলেও চলে। মাজা ভাঙ্গা কোমর যাদের, তাঁদের বিদেশি শক্তি লাগে। কিন্তু জাতিয়তাবাদ কি শেখায় ? সেই প্রশ্নটা আপনারা তাঁকে করেন।

নাসিম সরকারের উদ্দেশে বলেন, বেগম জিয়াকে গ্রেফতারের চিন্তা না করাই ভাল হবে। তাঁকে শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকেন। তাঁর বয়স হয়েছে। বিএনপিকে পুনর্গঠন করতে দিন। তিনি এবার নতুন করে সব কিছু করুক। ইতিবাচক রাজনীতির সাথে পরিচিত হোক। দেশ বিরোধী দলগুলো ছাড়ুক। আর রাজনীতির রাস্তায় ইউটার্ন তিনি না করলেই স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক উদ্যোগ ধরা দেবে।

হুশিয়ারি দিয়ে নাসিম বলেন, “খুব শীঘ্রই জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসবে। সেখান থেকেই বিএনপির নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে এবং অতঃপরং আমরা সরকার দলকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও করতে পারবো। ”

বিজনেস আওয়ার/ সাআ

উপরে