ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৫


“প্রশ্নফাঁসে শিক্ষকদের দায়ী করলেন শিক্ষামন্ত্রী”

২০১৭ নভেম্বর ১৭ ২২:৪৯:৩০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ চলমান পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক আগে থেকে অ্যারেঞ্জমেন্ট করে রাখেন। সকাল বেলা যখন তাদের হাতে প্রশ্ন যায়, তারা প্রশ্নপত্র ছাত্রদের দিয়ে দেন। এজন্য আমরা শিক্ষকদের নৈতিকতা উন্নতির বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন,আগে বিজি প্রেস (সরকারি ছাপাখানা) ছিল প্রশ্ন ফাঁসের জন্য খুবই রিস্কি জায়গা। এখন সেখানে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই।

প্রশ্নপত্র ছাপানোর পর সিলগালা করে জেলা গুলোতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে যায় থানায় থানায়। ওই পর্যায়েও প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নাহিদের।

তিনি বলেন, কেবল মাত্র সকাল বেলা ওই দিনের প্রশ্ন প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা সকাল বেলা যখন শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন দিই, তখন কিছু শিক্ষক আছেন, যারা সেটা আগেই অ্যারেঞ্জমেন্ট করে রাখেন, প্রশ্নপত্র ছাত্রদের দিয়ে দেন।

এই বছরও সাড়ে ৯টার পরে একটি প্রশ্ন ফেইসবুকে দিয়ে দিয়েছে। শিক্ষকের হাতে যখন প্রশ্নপত্রটি গেল; তখন নিরাপত্তা ব্যাহত হল। এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী, যাতেও সফল হননি তিনি। এজন্য আমরা শিক্ষকদের নৈতিকতা উন্নতির বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

আমরা এবার পদক্ষেপ নিয়েছি। সকাল বেলা আধা ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা হলে ঢুকবে। একটু রেস্ট পাবে, খাতায় তার নাম-ধাম লেখালেখির কাজও সেরে নেবে। আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নের খামটা খোলা হবে।

আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্র ঢোকার নিয়ম প্রথমবার কড়াকড়িভাবে পালন করা হয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, দেরির বিভিন্ন কারণ দেখানোর পর শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তা মেনে নিতে হয়েছে তাদের। নিয়মটি কড়াকড়িভাবে পালনের দায়িত্বটি সরকারকেই দিতে চাইছেন শিক্ষকরা।

পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের স্মার্ট ফোন ব্যবহর নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে কেউ স্মার্ট ফোন নিয়ে যেতে পারবে না। একান্ত যোগাযোগের জন্য আনস্মার্ট ফোন নিতে পারবে। তবে সেটাও পরীক্ষার সময় অফিস রুমে রাখতে হবে।

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার প্রসঙ্গে সরকারি দলের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনও শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না বলে তিন বছর আগে একটি নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে এ ধরনের ঘটনা অবগত করা হলে আমরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

প্রশ্নফাঁস রোধে সংসদ সদস্যসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস যাতে বন্ধ হয় এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই। তা না-হলে এগুতে পারবো না।

বিজনেস আওয়ার / ১৬ নভেম্বর ২০১৭ / এমএএস

উপরে