ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৫


তারেকপত্নীর প্রতি বিশেষ বার্তা ‘আসল’ বিএনপির নাসিমের

২০১৭ নভেম্বর ১৭ ২৩:০৬:২০

২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর আমি জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত বসাতে সক্ষম হই। বাদী হিসাবে আমি ছিলাম। বিবাদী হিসাবে বিএনপির ৫টি অসুখ ছিল। উপস্থিত নেতাকর্মী ছিল বিচারকের আসনে। জনস্বার্থ সংরক্ষণে রাজনীতি করা হচ্ছে না, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীলতা, জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়া, নাশকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা এবং দল পরিচালনায় দুইজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ– এই ছিল ৫টি রোগ।

দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে আমার এই উদ্যোগ ছিল। অতঃপর আমি দুটো রায় পাই বিচারকদের কাছ হতে। এক, দলের গঠনতন্ত্র স্থগিত করা হল। দুই, জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত দলের কার্যালয়ের সামনেই বসবে। এরপর এই সূচীকে আমরা দলীয় বিপ্লব বলে অভিহিত করি। যা সারাবিশ্বের মধ্যেই নতুন মাত্রার আন্দোলন বলে অনুমিত হয়।শুরু হয়ে যায় কার্যক্রম। স্বরচিত রচনা ও আবৃত্তির মাধ্যমে ৯টি কবিতা উৎসর্গ করে প্রাথমিক পর্যায়ে বিপ্লবের সূচনা হয়। এরপর দলীয় বিপ্লবের চারটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৬ সালের ২ জানুয়ারী, ১৭ জানুয়ারী, ১৭ মে ও ৫ সেপ্টেম্বর– মোট চারবার ছেলেমেয়েরা মহড়ায় অংশ নেয়। সেই মহড়াকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়া থেকে শুরু করে রুহুল কবীর রিজভী গং এর নির্দেশে সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হয়। এরপর গেল বছর আমি মহড়া পর্বের সমাপ্তি টানি দলের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি বলেছি, কোন এক সকালে নিকট সময়ের মধ্যে আমরা লক্ষাধিক জনতা নিয়ে দলের কার্যালয়ের সামনে উচ্চ আদালত বসিয়ে ফেলবো। সেদিনটি দলীয় বিপ্লবের দিবস হবে।

কাকতালীয়ভাবে এই স্মতিচারণের সাথে দুই বছর পরেও একটা মিল রয়েছে। সেটা হল আমাদের মা বেগম জিয়া লন্ডনে রয়েছেন। দল এখন আইনজীবী দলে পরিণত হয়েছে। আমরা সকলেই জানি প্রধান বিচারপতি ইস্যুতে সরকার দলের নানা কৌশলের কথা। এটাকে ধ্যান জ্ঞান করে বিএনপির রাজনীতি করার অর্থ হল, এখনো পর্যন্ত আমরা অসুস্থ। ৫টি রোগই আরো জেঁকে বসেছে। খেয়াল করে দেখুন। দল এখনো জামায়াতকে সঙ্গে করে রেখে নতুন কৌশলের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। বিদেশী শক্তির উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে এখন মা-পুত্র বিদেশেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বসে আছেন। জনস্বার্থে রাজনীতি নেই, সারাক্ষণ কাঁদছে ‘বিচারপতি তুমি আমার বলে’ ! পরিকল্পনা চলছে আবার কখন নাশকতা করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। আর এসবের মুলে তো ঘুরেফিরে সেই মাতা-পুত্র !

আমি মনে করছি, জনাব তারেক রহমান পত্নী ডাঃ জোবায়দা রহমান রাজনীতিতে এখন আসতে পারেন। আমিই আহবান করছি। আপনিও থাকুন বিএনপি পুনর্গঠনে একজন সাধারণ সদস্য হয়ে। আমরা ঘর ঠিক করি। আমার পেছনে এসে দাঁড়ান। রাজনীতি শিখুন। যোগ্যতা থাকলে একদিন নেতৃত্বও দিতে পারবেন। তাই বলে আপনি এসেই বড় চেয়ারে বসে যাবেন তা আর হবে না। দলের ৯৯% নেতাকর্মী চাইলেও তা করতে দেয়া হবে না। কারণ, আমি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী চিন্তায় আপ্লুত থাকা একজন জিয়া। সবাই চিকিৎসক হয় না। অধিকাংশই রোগী। ৯৯% সমর্থন গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এগিয়ে রাখে তা যেমন সত্য ঠিক তেমনি অসুস্থ ওই ৯৯% মানুষের সুস্থ হওয়ার জন্য ১% এর চিকিৎসকের ভুমিকাকেই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। রোগ ভাল করি তখন আমরা সুস্থ নেতাকর্মীদের মতকে প্রাধান্য দেব। জোবায়দা, আপনাকে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করত নেতৃত্বের অপরিহার্য গুনাবলী প্রদর্শন করে সামনের দিকে আসতে হবে। সেটা করার মানসিকতা থাকলে স্বাগতম !

অপেক্ষা করবো আমরা সময়মতো। না এলে দেখতে পাবেন উচ্চ আদালত ও অতি অবশ্যই দলীয় বিপ্লব। আমি যা বলি তাই করে দেখাই। আপনি যোগ দিন বিএনপি পুনর্গঠনে। একটা কথা বলি। দলের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের অনেককেই আমি বলেছি, আপনাদের মেরুদন্ড নেই, আমার আছে। কলা ছিলে খাওয়ানোর মধ্যে আমি আর নেই। উচ্চ আদালত যখন বসবে সকলকে ডাকবো। এলে ভাল, না এলেও ক্ষতি নেই। বিএনপি সমুদ্রের মতো। নেতৃত্ব দেয়ার লোকের অভাব হবে না। সেক্ষেত্রে আমি এই প্রথম জোবায়দা রহমানকে বলছি, আপনি কামরুল হাসান নাসিম এর ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ান। আপনার স্বামী ও শ্বাশুড়ির নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে শ্বশুর, যাদু মিয়া আর কামরুল হাসান নাসিম নামের এক সাধারণকে ধারণ করুন। আমরা ভাল কিছু করতে পারবো। আমি তো নেতৃত্ব দেব না। তাহলে আমার স্বার্থ কি ? স্বার্থ, বিএনপি শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দল হয়ে দেশ সেবায় আবার সুযোগ পাক।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের বুদ্ধি বৃত্তিক লড়াই শুরু করতে হবে। ওরা দেশের জন্য ভাল চিন্তা করবে, আমরা আরো উন্নত কিছু ভাববো — এটাকেই রাজনীতি বলে। পূর্বসূরিদের গালমন্দ করে মুজিব এই করেছিল, মুজিব এই করেছিল— এসব বলার সুযোগ নেই। আমরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু বলে মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের সকলের অর্জন বলে স্বীকার করে আগামী ৫০ বছরে কি করবো দেশের মানুষের জন্য সেই রাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমার তো মনে হয় শহীদ জিয়াও সে সময়েই এমন কিছু ভেবেছিলেন। ভাল থাকুন সবাই।

লেখক: বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা

উপরে