ঢাকা, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Bijoy-month-businesshour24

রোহিঙ্গা: মানবতা: এইডস, সাবধান

২০১৭ নভেম্বর ১৭ ২৩:১০:১৯

সৈয়দ শামসুর রহমান বিপ্লব: বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সহানুভুতি ও মানবতার কাজ করেছে। সবাইকে অবাক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন দেশনেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এমন মহত্মের পাশে জুড়ে গেছে আরো কিছু কাজ। স্বাস্খ্যসেবা সহ মানবিক কিছু কাজ ও সেবা প্রদানের দাবী রাখে । সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম গুলোতে মরনঘতি ব্যাধি নিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সময়ের আবর্তনে সবই বেশ শঙ্কা জাগানিয়া।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্রমশ মরণঘাতি এইডস ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫৫ জন এইচআইভি পজেটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলা হলেও প্রকৃত অর্থে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র যারা নিজেরই পরীক্ষা করতে আসছে তাদেরকেই চিহ্নিত করতে পারছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় বাংলাদেশে এই রোগের মহামারি ঠেকাতে এইডস আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের দ্রুত চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে মাত্র একজনকে এইডস রোগী হিসাবে শনাক্ত করা হয়। অক্টোবর মাসে এসে এ সংখ্যা দাঁড়ায় চব্বিশ জনে। কিন্তু চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সংখ্যা পঞ্চাশ ছাড়িয়ে পঞ্চান্ন জনে এসে দাঁড়িয়েছে।

এতসব হিসেবের পরও মূল সমস্যা হলো আশ্রিত রোহিঙ্গাদেও রোগ গোপন করার মানষিকতা। অথচ সংবাদমাধ্যমের তথ্যনুযায়ী দেখা গেছে, চিহ্নিতদের মধ্যে ৫০ জন মিয়ানমারেই চিহ্নিত হয়েছিলেন। এরা প্রথম অবস্থায় রোগ গোপন করলেও পরবর্তিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তাদের শনাক্ত করা হয়। আর মাত্র ৫ জন বাংলাদেশে অন্য রোগের চিকিৎসা করাতে এসে এইচআইভি পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আশার কথা, রোগ সনাক্তের পর তারা চিকিৎসকদের পরামর্শনুযায়ী চলছেন ঔষধ সেবনও করছেন। এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান অনেক ওপরে। আর রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। সরকারী প্রশাশন থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গা জনগন এ মরণঘাতি ব্যাধি এদেশে বয়ে এনেছে তা স্বীকারই করতে নারাজ। এমন হলে তাদের জন্য কাজ করা সমাজকর্মীরা কতটুকু নিরাপদ? এরজন্য আরো উচ্চ মার্গে সর্তকতা জরুরী নয়কি? জানা গেছে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর এইডস আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজনের মৃৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের বাইরে গিয়ে শতাধিক রোহিঙ্গা বেসরকারিভাবে এইডসের চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে
এ অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের এইডস রোগ চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের তদারকির প্রয়োজন খুবই জরুরী। প্রয়োজনে সনাক্ত রোগিদের আলাদা করে সেবাদানের ও পরিচর্যার ব্যাবস্থা এখন সময়ের দাবি রাখে।

বিজনেস আওয়ার/১৬ নভেম্বর/এন

উপরে