ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫


ইপিএসে গরমিল নিয়ে রাইটে টাকা সংগ্রহ করবে ইফাদ অটোস

২০১৭ নভেম্বর ১৯ ১১:১৮:৪৯

রেজোয়ান আহমেদ : রাইট অফার ডকুমেন্টসে শেয়ারপ্রতি মুনাফায় (ইপিএস) গরমিল তথ্য দিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করতে যাচ্ছে ইফাদ অটোস। এছাড়া পৃষ্টাভেদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ এবং মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়েছে। এরমধ্য দিয়ে রবিবার (১৯ নভেম্বর) কোম্পানিটির রাইট শেয়ারের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। যা চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস)-৩৩ অনুযায়ি, নির্দিষ্ট বছরের ইপিএস গণনা করতে হয় ওই বছরে বিদ্যমান শেয়ারের ওয়েটেড দিয়ে। কিন্তু ইফাদ অটোস ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই ১৫-মার্চ ১৬) ও ৩য় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ১৬) ভুলভাবে ইপিএস গণনা করেছে। এক্ষেত্রে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩১ মার্চের শেয়ারকে বিবেচনায় নিয়ে এই ভুল করেছে।

দেখা গেছে, বেসিক ইপিএস হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসে ৩.৬১ টাকা দেখিয়েছে। এসময় প্রকৃতপক্ষে ইপিএস হয়েছে ৩.৭৬ টাকা। এছাড়া একই অর্থবছরের ৩য় প্রান্তিকে ১ টাকার পরিবর্তে ৯৬ পয়সা দেখিয়েছে।

এদিকে ইপিএস গণনার ক্ষেত্রে পৃষ্টাভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ইফাদ অটোস কর্তৃপক্ষ। রাইট অফার ডকুমেন্টসের ১৮ পৃস্টায় সকল বেসিক ইপিএস গণনা করা হয়েছে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চের শেয়ার দিয়ে। কিন্তু ১৩ পৃষ্টায় ও ৫০ পৃষ্টায় বেসিক ইপিএস গণনার ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট বছরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওই বছরের শেষে বিদ্যমান শেয়ারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে ইফাদ অটোসের সহকারি সচিব নাফিজুল চৌধুরী মন্তব্য করার জন্য একাধিকবার সময় নিলেও করেননি। তার মেইলে জবাব চেয়েও পাওয়া যায়নি। আর বর্তমানে তিনি ফোন রিসিভ করেন না।

ইফাদ অটোস কর্তৃপক্ষ অবচয় কম গণনা করে মুনাফা বেশি দেখিয়েছে। ফ্লাট, টুলস অ্যন্ড ইক্যুপমেন্ট, মটর যান ও ভবনের উপরে কম অবচয় গণনার মাধ্যমে টাকা মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার মটর যান কেনা হলেও তার উপরে অবচয় চার্জ করা হয়নি।

শ্রম আইনানুযায়ি, ২০০৬ সাল থেকে শ্রম ফান্ড গঠন করা বাধ্যতামূলক হলেও ইফাদ অটোস ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে করে। এ হিসাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে মুনাফা বেশি দেখিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিবছর একই পরিমাণ সম্পদ বেশি দেখিয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসের আর্থিক প্রতিবেদনে টেক্স প্রভিশনিং হিসাবে ৯ মাসে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দেখায়। তবে রাইট অফার ডকুমেন্টসে ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা দেখিয়েছে। এছাড়া একই অর্থবছরের ৩য় প্রান্তিকে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা দেখালোও রাইট অফার ডকুমেন্টসে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেখিয়েছে।

নগদ প্রবাহ তথ্য একটি কোম্পানির ব্যবসায় পরিচালনার সক্ষমতা বোঝার অন্যতম মাপ নির্ণায়ক। এ থেকে নগদ লভ্যাংশ প্রদান, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বোঝা যায়। এদিক দিয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ইফাদ অটোস। কোম্পানিটির ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ উভয়ই অর্থবছরেই পরিচালন নগদ প্রবাহ বড় ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ঋণাত্মক ৯.০৮ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছে ঋণাত্মক ৯.৯৫ টাকা। এমতাবস্থায় কোম্পানিটি রাইট শেয়ারে টাকা সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। অথচ এমন পরিস্থিতি হলে একটি কোম্পানি আইপিও’র অনুমোদন পায় না।

কোম্পানিটি একদিকে ব্যবসায় সম্প্রসারণের কথা বলে শেয়ারবাজার থেকে টাকা নেয়, অন্যদিকে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ৪৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে।

বিজনেস আওয়ার/আরএ

উপরে