ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Bijoy-month-businesshour24

বোনাস শেয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: মো: মনিরুজ্জামান

২০১৭ নভেম্বর ২৭ ০৩:৩৮:০৫

মো. মনিরুজ্জামান। ২০০৯ সালের আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে বিনিয়োগ বিশ্লেষক হিসেবে স্বদেশ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তার পরিশ্রম, মেধা ও দক্ষ পদচারণায় মনিরুজ্জামান আর্থিক সেক্টরে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন ।

তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে বেশ সন্মানের সাথে কাজ করছেন এ সেক্টরে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি এআইএমএস অব বাংলাদেশ লিমিটেড, আরব বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড এবং সিটি ব্যাংক, এন. এ. বাংলাদেশে কাজ করেছেন। আইডিএলসিতে যোগদানের আগে তিনি সিটি গ্রুপের ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রক এবং চীফ ফাইন্যান্সিয়াল কনট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন সিএফএ চার্টার হোল্ডার। পাশাপাশি তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া থেকে বিবিএ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি একজন সিএফএ চার্টার হোল্ডার এবং সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের ভাইন্স প্রেসিডেন্ট।

সম্প্রতি বিজনেস আওয়ারের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলোচনায় শেয়ারবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন তিনি। দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে আসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ বিষয়টি। এসময় ঘুরে ফিরে একটি বিষয় পরিস্কার করেছেন, সেটি হলো বিনিয়োগের আগে অবশ্যই এই বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা জরুরী। একই সঙ্গে তুলে ধরছেন শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়নের দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিজনেস আওয়ার ২৪.কমের স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো।

বিজনেস আওয়ার : শেয়ারবাজারে আসার পর বেশকিছু কোম্পানি বছরের পর বছর লভ্যাংশ নগদ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে আপনার মতে?

মো. মনিরুজ্জামান : শেয়ারবাজারে আসার পর কিছু কোম্পানি বছরের পর বছর ধারাবাহিক বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে শেয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে চলছে। আমরা বলছি ওই কোম্পানিগুলোকে এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ লভ্যাংশ বোনাস প্রদানে বিনিয়োগকারীর শেয়ার সংখ্যা বাড়ায়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের হাতে আসে না কোন অর্থ। তবে বর্তমানে নগদ লভ্যাংশর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বরাবরই নগদ লভ্যাংশকে মূল্যায়ন করেন। তাই আমি মনে করি যে কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ উত্তম। কারণ বছরের পর বছর যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে আসছে সেই কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন জন্ম হয়। অপরদিকে ওই কোম্পানি সর্ম্পকে অন্য ধরণের ইমেজ তৈরি হয়।

বিজনেস আওয়ার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বুক বিল্ডিংয়ে কাট অফ প্রাইজ (শেয়ার) নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, আপনার মতে কেন এই কারসাজি?

মো. মনিরুজ্জামান : ওভার অল আইপিও মার্কেটে শেয়ার দর নির্ধারণ নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। লিস্টিংয়ের পরে অনেক কোম্পানির মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সেই প্রভাব আমাদের শেয়ারবাজারের প্রাইমারি মার্কেটেও পড়ছে। বর্তমানে আইপিও মাধ্যমে বুক বিল্ডিংয়ে কাট অফ প্রাইজ দর নিয়ে যে কারসাজি হচ্ছে, কেন হচ্ছে বা কারা করছে সেটা আমার পক্ষে বলা দুরহৃ। তবে ২০১০ সালে ধসের পর শেয়ারবাজারের উন্নয়নে আইপিও আইন সংস্কার করে কোম্পানির বুক বিল্ডিং মাধ্যমে শেয়ার দর নির্ধারণ শুরু হয়। মাঝে এ বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বন্ধ ছিল। এরপরও মূল্যমান নিয়ে বিএসইসি তদারকি করছেন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।

বিজনেস আওয়ার : কিছু কোম্পানি আইপিওর অর্থ সময়মতো কেন ব্যয় করতে পারছে না। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মো. মনিরুজ্জামান : আইপিওর অর্থ বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে যে কোম্পানি ব্যয় করতে পারছে না, সেটা কেবল তারাই বলতে পারবে। তবে হবে পারে বাংলাদেশ পোজেক্ট বাস্তবায়ন করা যাওয়া করা খুব সহজ কাজ না। পোজেক্ট বাস্তবায়নে করতে কোম্পানিগুলো অনেকই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। তাই বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে আইপিওর অর্থ কাজে লাগাতে পারছেন না। এটা একটা বাস্তবতা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার : একটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে মূল ভূমিকা রাখে ইস্যু ম্যানেজার। আর তাদের হাত দিয়ে বাজারে আসছে দুর্বল প্রতিষ্ঠান। এতে করে বিনিয়োগকারীরা হারাচ্ছে তাদের পুঁজি। এ ক্ষতি দায়ভার, আপনার মতে কে নিবে?

মো. মনিরুজ্জামান : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে মূল ভুমিকায় থাকে ইস্যু ম্যানেজার, এটা ঠিক। কিন্তু তারা যখন ১০ টাকা মূল্যের আইপিও বাজারে আনছেন, বিনিয়োগকারীরা সেটা দেড়শত টাকা দিয়ে কিনছেন। পরে তার দাম পরে যাচ্ছে। এজন্য যারা উচ্চমূল্যে দিয়ে শেয়ার কিনছেন, ক্ষতির দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। তারা যদি উচ্চমূল্যে শেয়ার না কিনতেন, তবে বাজারেও একটা সুস্থ্য ধারা থাকতো। এরপরও বলতে হয় যে, একটি আইপিও আনার পেছনে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান জড়িত। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

বিজনেস আওয়ার : দেশের ১৭ শতাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ারাবাজারে আনছে নতুন প্রতিষ্ঠান। বাকী মার্চেন্ট ব্যাংক কেন নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনতে পারছে না?

মো. মনিরুজ্জামান : দেশে প্রায় ৫৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি মার্চেন্ট ব্যাংক নতুন প্রতিষ্ঠান আনছে। হয়তো প্রতিযোগিতার বাজারে যারা টিকে থাকছে, তারাই কোম্পানি আনতে পারছে, এটাই স্বাভাবিক। আবার প্রতিবছর শেয়ারবাজারের অনুমোদন পাচ্ছে প্রায় ১৪টি কোম্পানি। এর মধ্যে যে মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ারবাজারে বেশি কোম্পানি আনছে, সেইগুলোই কদর পাচ্ছে নতুন আসার ক্ষেত্রে। আবার একটি কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেতে প্রায় দুই বছর লেগে যায়। আবার কোম্পানিগুলোকে তৈরি করতে করতে সময় লাগে, হয়ত এ কারনেও অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক পিছিয়ে পরছে।

বিজনেস আওয়ার : শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

মো. মনিরুজ্জামান : বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হুজুগ-গুজবে বিনিয়োগ করে না। আবার তারা যেকোন বাজারে বিনিয়োগ করে না। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা বিনিয়োগের আগে ওই বাজার নিয়ে গবেষণা করে। পরে ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করে। যে কোম্পানিতে তারা বিনিয়োগ করে, তাদের রিসার্চ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখে। প্রয়োজনে নিজেরাও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মৌলিক দিকগুলো বুঝে নেয়ার চেষ্টা করে। তাই বর্তমানে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এ বছর বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক। এটি আমাদের বাজারের প্রতি তাদের আস্থাকে প্রকাশ করে।

বিজনেস আওয়ার : ফাইন্যান্সিয়ার লিটারেসি সম্পর্কে বলুন?

মো. মনিরুজ্জামান : বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ‘ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম’ শেয়ারবাজার বিনিয়োগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ প্রোগ্রাম থেকে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে পারবে। জানতে পারবেন শেয়ারবাজরের ঝুঁকির খাতগুলো।

বিজনেস আওয়ার : নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রসঙ্গে কিছু বলুন?

মো. মনিরুজ্জামান : শেয়ারবাজার সবার জন্য নয়। অনেকে না বুঝেই এ বাজারে বিনিয়োগ করেন। এই বাজারে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্ঞান অর্জন বাঞ্ছনীয়। শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নতুন বিনিয়োগকারীদের উচিৎ হবে, কোন পোটফোলিও ম্যানেজার বা মিউচ্যুয়ার ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা। কারন বিনিয়োগ একটি সহজ বিষয় নয়।

বিজনেস আওয়ার : বর্তমানের উত্থান শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য আপনার পরামর্শ?

মো. মনিরুজ্জামান : বর্তমান শেয়ারবাজার একটা উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে। অনেক খাতেই পূর্বের তুলনায় ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে খারাপ করছে। আমরা দেখছি যে, মৌলভিত্তি শেয়ারগুলো ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। তাই বলে এ বাজারে পুঁজি হারানোর ভয় নেই এমন নয়। এ বাজারেও অনেক পুঁজি হারাচ্ছে। তাই আমার পরামর্শ থাকবে, আপনারা দেখে, শুনে ও বুঝে কম ঝুঁকিতে বিনিয়োগ করুন।

বিজনেস আওয়ার : আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসে ইজি ইনভেস্ট সম্পর্কে বলুন। এতে বিনিয়োগ কতটা ঝুঁকিমুক্ত ও এখানে কি সুবিধা পাবে একজন বিনিয়োগকারী?

মো. মনিরুজ্জামান : আইডিএলসি প্রায় ১৭ বছর ধরে শেয়ারবাজারে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। নতুন, ক্ষুদ্র ও অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী এ বাজারে বিনিয়োগ করে হারাচ্ছেন পুঁজি। বিশেষ করে এ বাজারে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস নিয়ে এসেছে ইজি ইনভেস্ট। যা গত বছরের ৯ আগস্ট রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে ইজি ইনভেস্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৩, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদী আইডিএলসি এ ইজি ইনভেস্টতে প্রতিমাসে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ইজি ইনভেস্টে রয়েছে একটি দক্ষ টিম। যারা শেয়ারবাজারে সবকিছু বিশ্লেষণ করেন। এ টিম কোম্পানির আয়, ব্যয়, ব্যবসায়ী ধরন, ভবিয্যৎ, সুনামসহ সবকিছুই বিচার বিশ্লেষন করে। মাসিক ইনভেস্টমেন্টের ফলে কস্ট এভারেজিং হয়। ফলে ইজি ইনভেস্টে বিনিয়োগ ঝুঁকি খুবই কম। ইতিমধ্যে ইজি ইনভেস্ট বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফলে বিদায়ী অক্টোবর মাসে এবছর বিনিয়োগকারীরা ইজি ইনভেস্টতে বিনিয়োগ করে তারা লোকসান করেনি, বরং ২৮ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে।

ইজি ইনভেসস্টের পোর্টফলিও গ্রাহক দেখতে পারবে তিন মাস অন্তর অন্তর। তবে কেউ যদি আগে দেখতে চায় তাহলে তাকে দেখানো হবে। ইজি ইনভেস্টের আওতায় গ্রাহক শেয়ারেরবাজারে যে টাকা বিনিয়োগ করেছেন তার বর্তমান বাজার দরের উপর ৩ শতাংশ হারে পরিচালনা ফি নেয়া হয়। অর্থাৎ প্রতি ৩ হাজার টাকা মাসিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৫০০ টাকা বছর শেষে কাটা হচ্ছে। প্রতিমাসে মাত্র ৩ হাজার বিনিয়োগ দিয়েই শুরু করা যায়। এখানে বিনিয়োগে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী সন্তানের শিক্ষা, বিবাহ ও অবসর জীবনের আর্থিক সমস্যা সমাধানের সুযোগ। এখানে ‘অটো ডেবিট’ পদ্ধতিতে চেক নেওয়া হয়। ফলে স্বশরীরে চেক নিয়ে আসতে হয় না। পাশাপাশি বার্ষিক প্রদেয় কর থেকে ছাড় প্রাপ্তি এবং ব্যাক্তিগত পর্যায়ে শেয়ার বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফা সম্পূর্ণভাবে আয়কর মুক্ত। এছাড়া দুর্ঘটনাজনিত মূত্যু এবং অক্ষমতা সংক্রান্ত ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ প্রতিবছর এক লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা দেওয়া হয়।

বিজনেস আওয়ার/নভম্বর, ২০১৭/এমএজেড

উপরে