ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Bijoy-month-businesshour24

ব্যাংকের মুনাফা ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা, শীর্ষে ব্র্যাক

২০১৭ নভেম্বর ১৫ ১২:২০:৫৫

রেজোয়ান আহমেদ : চলতি বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০১৭) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারিসহ (সমন্বিত) ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। তবে পরিশোধিত মূলধনের তূলনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে। এ সময় ব্যাংকগুলোর গড় ইপিএস হয়েছে ২.০৭ টাকা।

ব্যাংকগুলোর মোট ৩ প্রান্তিকের বা ৯ মাসের (২০১৭ জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে (সমন্বিত) এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। এরপরে ৩৩৯ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামি ব্যাংক। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ২২ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে দি সিটি ব্যাংকের।

অপরদিকে চলতি বছরের ৯ মাসে একমাত্র আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লোকসান করে সবার তলানিতে রয়েছে। ব্যাংকটির ২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এরপরে সবচেয়ে কম মুনাফা হয়েছে রূপালি ব্যাংকের। এ সময় ব্যাংকটির ২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। আর ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবি ব্যাংকের ও ৪৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন মুনাফা হয়েছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ২০১৭ সালের প্রথম ৯ মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ৫০% কর পরবর্তী মুনাফা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কঠিন বাজার পরিস্থিতি এবং মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরও এই অসাধারণ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ব্যালেন্স শিট প্রবৃদ্ধি, নন-ফান্ডেড আয় ও উন্নত অ্যাসেস কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এই বছর শেয়ারবাজারে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের মাইলফলক অর্জন করেছে। এ অর্জন আমাদের দেশের সেরা ব্যাংক হবার অগ্রযাত্রায় সাহায্য করবে।

এদিকে মুনাফায় ব্র্যাক ব্যাংক সবার উপরে থাকলেও ব্যাংকটি ইপিএসে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে। ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১০.২৬ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের ইপিএস ৪.৪২ টাকা। আর ৩.৩৪ টাকা ইপিএস নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।

নিম্নে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা, ইপিএস ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হল। এক্ষেত্রে ব্রাকেটে () থাকা হিসাবকে ঋণাত্মক বোঝানো হয়েছে।

ব্যাংকের নাম মুনাফা (টাকা) ইপিএস (টাকা) মূলধন (টাকা)
ব্র্যাক ব্যাংক ৩৭৭.৬০ কোটি ৪.৪২ ৮৫৫.২১ কোটি
ইসলামী ব্যাংক ৩৩৯ কোটি ২.১১ ১৬১০ কোটি
দি সিটি ব্যাংক ২৭০.২২ কোটি ৩.০৯ ৮৭৫.৮০ কোটি
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ২৬৩.১২ কোটি ২.৫০ ১০৫৪.১৩ কোটি
ইস্টার্ন ব্যাংক ২৪৬.৫৮ কোটি ৩.৩৪ ৭৩৮ কোটি
সাউথইস্ট ব্যাংক ২৩৬.৬৬ কোটি ২.৫৮ ৯১৬.৯৫ কোটি
মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২২৬.১৫ কোটি ২.৯১ ৭৭৬.১২ কোটি
ন্যাশনাল ব্যাংক ২০৭.৫০ কোটি ০.৮৮ ১৯৭৫.৩৮ কোটি
ডাচ-বাংলা ব্যাংক ২০৫.১৭ কোটি ১০.২৬ ২০০ কোটি
ওয়ান ব্যাংক ১৯৪.৩৮ কোটি ২.৬৬ ৭৩০.০৩ কোটি
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৭৮.৮০ কোটি ১.৮০ ৯৯৪.৩১ কোটি
ট্রাস্ট ব্যাংক ১৭৫.৮২ কোটি ৩.১৬ ৫৫৬.৯৭ কোটি
এক্সিম ব্যাংক ১৭৫.৪১ কোটি ১.২৪ ১৪১২.২৫ কোটি
পূবালি ব্যাংক ১৫২.৭৪ কোটি ১.৬১ ৯৫০.৮০ কোটি
প্রাইম ব্যাংক ১৪৭.১১ কোটি ১.৪৩ ১০২৯.৩৫ কোটি
ব্যাংক এশিয়া ১৪১.৯৬ কোটি ১.৪৪ ৯৮৭.০১ কোটি
আইএফআইসি ব্যাংক ১৩৭.৮৬ কোটি ১.৪৩ ১১৯৫.৩০ কোটি
এনসিসি ব্যাংক ১১৭.৫৫ কোটি ১.৩৩ ৮৮৩.২২ কোটি
উত্তরা ব্যাংক ১১০.৪০ কোটি ২.৭৬ ৪০০.০৮ কোটি
প্রিমিয়ার ব্যাংক ১০৯.৯৯ কোটি ১.৫৮ ৬৯৫.৭২ কোটি
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১০৮.৭৫ কোটি ১.৪১ ৭৭১.৪২ কোটি
ঢাকা ব্যাংক ১০৮ কোটি ১.৫০ ৭২২.৩০ কোটি
যমুনা ব্যাংক ১০৭.১৪ কোটি ১.৭৪ ৬১৪.১২ কোটি
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৭৯ কোটি ১.১১ ৭১২.৮২ কোটি
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৭৩.৪৭ কোটি ১.০০ ৭৩৮.৩০ কোটি
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৬১.২৪ কোটি ০.৭৭ ৭৯১.৮১ কোটি
মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৪৮.৪৪ কোটি ০.৯৫ ৫০৯.৬৬ কোটি
এবি ব্যাংক ৪৫.৬৮ কোটি ০.৭১ ৬৭৩.৮৯ কোটি
রূপালি ব্যাংক ২৭.১৯ কোটি ০.৯০ ৩০৩.৬৪ কোটি
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক (২৮.১৪ কোটি) (০.৪২) ৬৬৪.৭০ কোটি
মোট-৩০টি ব্যাংক মোট-৪৬৪৪.৭৯ কোটি টাকা গড়-২.০৭ টাকা মোট- ৫৩৩৯.২৯ কোটি টাকা

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যাংকগুলো ২০১৬ সালের ব্যবসায় ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। আর চলতি বছরের যে ব্যবসা তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নাই।’

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, ৯ মাসে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ভালো হয়েছে। এটি শেয়ারবাজার এবং ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক। তারপরেও কেনো যেনো এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। যদিও গত কয়েকমাস ধরে ব্যাংক খাত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মোট ২৫ হাজার ৩৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরমধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। ব্যাংকটির ১ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। তবে ব্যাংকটি মুনাফার হিসাবে রয়েছে ৮ম স্থানে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ইসলামী ব্যাংক মুনাফায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৪১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধন নিয়ে এক্সিম ব্যাংক মুনাফায় ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।

অপরদিকে সবচেয়ে কম ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক মুনাফায় নবম স্থানে রয়েছে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৩০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে মুনাফায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে রূপালি ব্যাংক। এছাড়া তৃতীয় সর্বনিম্ন ৪০০ কোটি ৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে মুনাফায় ১৯তম অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক।

বর্তমানে ৬টি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকার উপরে রয়েছে। ব্যাংকগুলো হল- ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

বিজনেস আওয়ার/১৫ নভেম্বর, ২০১৭/আরএ

উপরে