ঢাকা, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Bijoy-month-businesshour24

স্বাভাবিক দরে ফিরছে ওয়াইম্যাক্সের শেয়ার

২০১৭ নভেম্বর ২৭ ১৭:২০:০৩

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান : শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোডসের অতিমূল্যায়িত শেয়ার দর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। লেনদেনের প্রথম দিনে (৬ নভেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ার দর দশ টাকা থেকে বেড়ে দাড়ায় ১১৪.২০ টাকায়।

মাত্র ১৬ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে সোমবার (২৭ নভেম্বর) এ কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে দাড়িয়েছে ৬৯.৭০ টাকায়। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দর কমেছে ৪৪.৫ টাকা। শেয়ারটির দর কমার এ ধারাকে স্বাভাবিকতার দিকে ফিরছে বলে মনে করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, গণপ্রস্তাবেব (আইপিও) মাধ্যমে কোন কোম্পানি শেয়ারবাজারের প্রাইমারি মার্কেটে এলেই সেই শেয়ার উচ্চমূল্যে কিনতে হবে, এটা মোটেও ঠিক নয়। কারণ একটি কোম্পানি যখন আইপিওতে আসে তার আগেই সবকিছু বিবেচনা করে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর নির্ধারণ করা হয়। সেই কোম্পানির শেয়ার যখন প্রাইমারি মার্কেটে দর নির্ধারনের চার-পাঁচ গুন বেশি দরে ক্রয় হয়, সেটা অবশ্যই দু:খজনক। আর শেয়ার দর নির্ধারনের দশগুন বেশি দরে ক্রয় রীতিমত বিনিয়োগ অন্ধকারে ফেলে দেয়ার মতো অবস্থা।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ওয়াইম্যাক্সের শেয়ার দর ১১৪.২ টাকা থেকে কমে ৬৯.৭০ টাকায় চলে এসেছে। দর কমায় এ কোম্পানির শেয়ার ধারন করা বিনিয়োগকারীরা হতাশায় মধ্যে রয়েছে। আবার ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোডসের ২৭ নভেম্বর পিই রেশিও দাড়িয়েছে ২৩.৫৫ পয়েন্ট। এ হিসেবে কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ ফিরে পেতে ২৩ বছর লাগবে। এমন পিই রেশিওর কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা। এমতাবস্থায় এসব উচ্চ পিই সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেয়ারবাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কোনো কোম্পানির পিই ১৫ ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই বেঁধে দিয়েছে।

উচ্চমূল্যে শেয়ার ক্রয় করা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, আপনারা উচ্চমূল্যে শেয়ার ক্রয় করে বিনিয়োগ অন্ধকারে ফেলবেন আবার সেই বিনিয়োগ নিরাপদ রেখে লাভ প্রত্যাশা করবেন, এটা কেমন কথা। আইপিওর সময় আপনাদের জানানো হয় শেয়ারের দর। সেই শেয়ার কেন নয়-দশগুন বেশি দরে কিনতে হবে, আমি বুঝি না।

এ বিষয়ে ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোডসের চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) ইকরামুল হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীরা কেন ওয়াইম্যাক্সে ঝুঁকিতে বিনিয়োগ করছে সেটা কেবল তারাই বলতে পারবে।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) রয়েছে ১৪.৮৭ টাকা। আর ২৭ নভেম্বর কোম্পানির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৬৯.৭০ টাকায়। এ হিসাবে এনএভিপিএসের ৪.৬৮ গুণ বেশি দরে আর অভিহিত মূল্যের ৭ গুন বেশি দরে এ কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ফলে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আছে। অবশ্য লেনদেনের প্রথম দিন (৬ নভেম্বর) শেয়ারটির দর উঠেছিল ১১৪.২০ টাকা। এরপরে শেয়ারটির দর কমছে দেখা গেছে।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই ও সিএসই) ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত হয়ে কোম্পানিাটির লেনদেন শুরু হয়েছিল। ডিএসইতে কোম্পানিটির কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড “OIMEX” এবং কোম্পানি কোড-১৩২৪৩।


বিজনেস আওয়ার/২৭ নভেম্বর, ২০১৭/এমএজেড/পিএস

উপরে