ঢাকা, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Bijoy-month-businesshour24
কারণ ছাড়াই বাড়ছে ব্যাংকটির দর

লোকসানি আইসিবি ব্যাংকে আইসিবির ৯ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ

২০১৭ নভেম্বর ২৮ ১৪:১৮:৩৪

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারকে সুস্থ ধারায় চলতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা করা দায়িত্ব হলেও এর ব্যাতিক্রম ঘটছে। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নামসর্বস্ব ও সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরকে নিরুৎসাহিত করছে। আইসিবির এমন আচরনে শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এমতাবস্থায় আইসিবির এ জাতীয় শেয়ারে বিনিয়োগের বিষয়ে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

পোর্টফোলিও অনুযায়ি, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা ও সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছে আইসিবির সহযোগি ৯ প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ৮টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ১ টি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ৫টি ফান্ড ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট, আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ড, বাংলাদেশ ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারস ইউনিট ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় ফান্ড, পঞ্চম আইসিবি ইউনিট ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল ইসলামীক ইউনিট ফান্ড ও আইসিবি এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড।

গত ১৬ নভেম্বর থেকে দর বাড়ার শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছে লোকসানি আইসিবি ইসলামীক ব্যাংক। এর মাধ্যমে কোম্পানিটির ১৫ নভেম্বরের ৫.২০ টাকার শেয়ার ২৭ নভেম্বর লেনদেন শেষে দাড়িয়েছে ৮.১০ টাকায়। এ হিসাবে ৮ কার্যদিবসে শেয়ার দর বেড়েছে ২.৯০ টাকা বা ৫৬ শতাংশ। তবে এই দর বাড়ার পেছনে কোন কারণ খুজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। যাতে ব্যাংকটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ২০ ও ২৩ নভেম্বর দুই দফায় ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এদিকে ব্যাংকটি আগের বছরগুলোর ন্যায় ২০১৭ সালও ব্যবসায় লোকসান গুণছে। এ বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ০.৪২ টাকা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজারে আইসিবির বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক। যাতে সহজেই শেয়ার দরে প্রভাব ফেলা যায়। তারপরেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইসিবি ও এর ফান্ডগুলোর সতর্ক হওয়া উচিত। একইসঙ্গে আইসিবি এমএমসিএল কেনো একটি লোকসানি ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, সে বিষয়ে বিএসইসি ব্যাখ্যা চাইতে পারে।

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার বিজনেস আওয়ারকে বলেন, আইসিবির ফান্ডগুলো আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের মতো জাঙ্ক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে না। আইসিবিসহ তার ফান্ডগুলোর উচিত ভালো শেয়ারে সাধারন বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করা। কিন্তু নিজেরাই যদি জাঙ্ক শেয়ারে জড়িয়ে পরে, সেটা শেয়ারবাজারের জন্য দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত করা উচিত।

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্টের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম রাব্বানি বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ার প্রতি গড় ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে। তবে এখন বিক্রয় করে দেওয়া হচ্ছে। আর শেয়ার ব্যবসায় থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে লভ্যাংশ দিতে হয়। যাতে বিনিয়োগের সময় বিনিয়োগকারীদের দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।

আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ড : চলতি বছরের ৩০ জুন আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ডের বিনিয়োগ ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যা ৩ মাসের ব্যবধানে ৩০ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৫৫ শতাংশ।

ফান্ডটি আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৭টি শেয়ার কিনেছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দিয়ে। যাতে শেয়ারপ্রতি গড় ৬.৩৪ টাকা লেগেছে।

বাংলাদেশ ফান্ড : এ ফান্ডটির ৩০ সেপ্টেম্বর আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে বিনিয়োগ দাড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। যা প্রতিটি ৬.০৭ টাকা গড়ে ১৯ লাখ ৮৩ হাজার শেয়ার কেনা হয়েছে। আর ৩০ জুনে ব্যাংকটিতে বিনিয়োগ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বা ৪৪ শতাংশ।

আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারস ইউনিট ফান্ড : আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে ফান্ডটির ৩০ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগ দাড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। যার পরিমাণ ৩০ জুনে ছিল ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। যা ৩ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা বা ১৫৮ শতাংশ। ফান্ডটি ৩ লাখ শেয়ার প্রতিটি ৬.১২ টাকা দরে কিনেছে।

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট : ফান্ডগুলোর পাশাপাশি আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানটির নিজের হিসাবেও আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে বিনিয়োগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানটির ৩০ সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগ রয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার। যা প্রতিটি শেয়ার ৫.৭৬ টাকা করে ৪ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার কেনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি ফান্ড : আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে ২২ লাখ ১১ হাজার টাকার বিনিয়োগ ৩০ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। যা প্রতিটি ৬.৪৪ টাকা দরে ৭ লাখ শেয়ার কেনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় ফান্ড : ফান্ডটির ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ ৩০ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। যা প্রতিটি শেয়ার ৬.৫৫ টাকা করে ৩ লাখ শেয়ার ক্রয়ে এই টাকা ব্যয় হয়েছে।

পঞ্চম আইসিবি ইউনিট ফান্ড : এ ফান্ডটিও ৩০ জুনে আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে বিনিয়োগকৃত ৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা ৩০ সেপ্টেম্বর শূণ্যতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রয় করে শূণ্যতে আনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল ইসলামীক ইউনিট ফান্ড : চলতি বছরের ৩০ জুন আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে ফান্ডটির বিনিয়োগ ছিল ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোটাই বিক্রয় করে দেওয়া হয়েছে।

আইসিবি এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড : ৩০ জুনে আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বিনিয়োগ বা শেয়ার থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বিক্রয় করে দেওয়া হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/২৮ নভেম্বর, ২০১৭/আরএ

উপরে