ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

ঝুঁকিতে কে অ্যান্ড কিউয়ের শেয়ারে বিনিয়োগ

২০১৭ নভেম্বর ২৮ ১৫:২৮:১৮

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান : শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কে অ্যান্ড কিউয়ের শেয়ার অতিমূল্যায়িত দরে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। আবার এ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) রয়েছে ঋণাত্মক। পাশাপাশি সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাতও (পিই রেশিও) দুই'শোর ওপরে অবস্থান করছে। ফলে এ কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ডিএসই অনুযায়ি, গত এক বছরে কে অ্যান্ড কিউয়ের শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩৩ শতাংশ। এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ অর্থবছরে এনএভিপিএস দাড়িয়েছে ঋণাত্মক ১১.৪৫ টাকা। সেখানে বর্তমান (২৮ নভেম্বর) লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর দাড়িয়েছে ১২০.৪০ টাকা। আবার কোম্পানিটির ২৮ নভেম্বর হিসেবে সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ২১৫ পয়েন্ট। শেয়ারটি সম্পদ যেখানে ঋণাত্মক, পিই হিসাবে বিনিয়োগও রয়েছে ঝুঁকিতে, সেখানে কোম্পানিটির শেয়ার এতো উচ্চমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানির পিই ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই রেশিওধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানান বিএসইসি।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) কে অ্যান্ড কিউর শেয়ারের দর দাড়িয়েছে ১২০.৪০ টাকায়। এক বছর আগে (২৯ নভেম্বর ২০১৬) শেয়ারটির দর ছিল ২৭.৮০ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৯২.৬০ টাকা ৩৩৩ শতাংশ। এ এক বছরে শেয়ারটির দর ২৭ টাকা থেকে ১৫৯ টাকা পর্যন্ত ওঠা-নামা করে।

কে অ্যান্ড কিউয়ের পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। তাই শেয়ারটি ক্রয়-বিক্রয় ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন কোম্পানিটি মৌলভিত্তিক কোম্পানি কি না। যদি মৌলভিত্তিক কোম্পানি না হয় তবে কেন দর উচ্চমূল্যে সেটাই চিন্তার বিষয়।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ হয়েছে ঋণাত্মক। একই অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.০৫ টাকা। একইসঙ্গে কোম্পানির নগদ প্রবাহ রয়েছে ঋণাত্মকে। তার ওপরে প্রায় ৬ বছর ধরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এ কারণে কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এক কথায় কোম্পানিতে কোনো উন্নয়নের ধারা নেই।

আগামীতে কোম্পানটির মুনাফা বাড়বে সেটার সম্ভাবনারও খবর নেই। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার উচ্চমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ সেটাও বিবেচনায় আনতে হবে বিনিয়োগকারীদের।

এসব বিষয়ে জানতে কোম্পানির বীর উত্তম রোডের এনকোর টাওয়ারে গেলে কোম্পানির অফিস কর্তৃপক্ষের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিজনেস আওয়ার/২৮ নভেম্বর, ২০১৭/এমএজেড/পিএস

উপরে