ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

মনিষার শেষ বিজয়াঞ্জলি

২০১৭ ডিসেম্বর ০২ ১১:৩৯:৫০

রিতা চৌধুরী: বিগত বিজয়া দশমীতে জীবনের শেষ অঞ্জলি দিতে হবে, এমনটা ভাবতেই পারেনি মনিষা। পিতা দিলীপ দাশ যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন, তখন মনিষা বাবাকে বলেছিল আগে তাঁর সুচিকিৎসা হোক। তিনি সুস্থ হয়ে ভারত থেকে ফিরে আসবেন, এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে একটা চাকুরি হবে। তারপর বাবার ইচ্ছে পূরণ করতে বিয়ের আসরে বসা যাবে। কিন্তু বাবা তা মানতে চাননি। মেয়ের কথা চিন্তা করে নিজের হৃদরোগের চিকিৎসা করানোর পূর্বেই তাকে পাত্রস্থ করার চিন্তা করলেন। তাই ব্যাংকার পাত্র দেখে তড়িঘড়ি করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। পাহাড়তলী থানাধীন দক্ষিণ কাট্টলীর নবগ্রহ বাড়ীর কাছাকাছি নিজস্ব বাড়ি পাত্রের, এমন পাত্রতো হাতছাড়া করা যায় না। তাই সামাজিক নিয়মকানুন, ধর্মীয় রীতি মেনে চলতি বছরের ১২ মার্চ মেয়েকে পাত্রস্থ করা হলো।

আশা ছিল, শ্বশুর বাড়িতে মেয়ে সুখেই থাকবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। চলতি বছরেই চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এমবিএ চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিল মনিষা দাশ পপি। পড়ালেখায় মেধাবী ছিল, তাই টিউশন করে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। বড় বোন ডেইজী এবং ছোট ভাই বিজয়ের মতো মা টুনটু দাশের মেজ কন্যা মনিষা ছিল অতি আদরের। চট্টগ্রামের পটিয়ার ছনহরা গ্রামের তাদের বসতি। বাবা দিলীপ দাশ ছোট্ট একটি চাকুরী করতেন। তিন সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি উপহার পেলেন মেয়ের লাশ।

দিলীপ দাশ কোনদিন কারও ক্ষতি করেননি, তাহলে তাঁর এ ক্ষতি কেন হলো? প্রায় বিশ লক্ষ টাকা ধার-দেনা করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু পাত্র যে অপাত্রে পরিণত হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। আশীর্বাদ-বিয়ে, জামাই ভাতের অনুষ্ঠান সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাবে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপরও শাশুড়ি ঝর্ণা দত্ত পুত্রবধূকে প্রায় সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল বলে অভিযোগ দিলীপ দাশের। ছেলের মা বলতো, ‘আমার অভি ব্যাংকার ছেলে। সে যৌতুক হিসেবে তেমন কিছু পায়নি। এর চাইতে অনেক ভালো ধনী ঘরের মেয়েকে বউ হিসেবে পাওয়া যেত...ইত্যাদি কথা শুনাতো। মনিষা কখনো এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়নি কিংবা মা-বাবাকেও সবকিছু বলতো না। এখন শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে।’

মনিষার স্বামী অভিজিৎ দত্ত রকি, শাশুড়ি ঝর্ণা দত্ত, দুই ননদ মুন্নি ও জিমকি এবং তাদের স্বামী দীপক ও প্রদীপ এই মৃত্যু পরবর্তী ঘটনায় কোন সহমর্মিতা দেখায়নি। এমবিএ ডিগ্রিধারী অভিজিৎ প্রায় পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন দক্ষিণ কাট্টলীতে বিটাক এর পাশ্ববর্তী ১১নং ওয়ার্ড প্রাণহরি দাশ রোডের মাতৃছায়া এলাকায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরী ঝর্ণা কুটিরে বসবাস করছে। অভিজিৎ এর বাবা প্রয়াত মাদল রঞ্জন দত্ত চট্টগ্রাম রেলওয়েতে চাকুরী করার সুবাদে স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন। সিআরবি-গোয়ালপাড়া এলাকায় শৈশব কেটেছে। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে এইচএসবিসি ব্যাংকের সিইপিজেড শাখায় ট্রেড ডিপার্টমেন্টে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার দুই বোনের পাশ্ববর্তী এলাকায় বিয়ে হওয়াতে তারাও সারাদিন ভাইয়ের সংসারে থাকে, যে কোন বিষয়ে নাক গলায়। প্রয়াত মাদল রঞ্জন দত্তের পাওয়া পেনশনের টাকাও দুই মেয়েকে দিয়ে দিতেন মা ঝর্ণা দত্ত।

চলতি বছরে দুর্গাপূজায় শুক্রবার নবমীতে সবাই রাত করে পূজা দেখে বাড়ি ফিরেছে। বিজয়া দশমীর দিন শনিবার মনিষার শ্বশুর বাড়িতে বিকাল চারটার দিকে নিমন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন তার আপন মেস (খালু) বাবলু দে। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ মিনিট ডাকাডাকির পর প্রয়াত মনিষার স্বামী অভিজিৎ এসে দরজা খোলেন। অভিজিৎকে খালি গায়ে লুঙ্গি পড়া অবস্থায় দেখতে পান বাবলু দে। মনিষা কোথায় জিজ্ঞেস করলে বলেন, রাত করে পূজা দেখা হয়েছে-তাই ঘুমাচ্ছে। মনিষাকে ডাকতে বললেও ডেকে দেয়া হয়নি। বিদ্যুৎ ছিল না, তবে ঘরে দরজা-জানালা সব বন্ধ দেখতে পান। বাবলু দে ভাবলেন, মনিষা এক ঘরে আর অন্য ঘরে অভিজিৎ হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে। নতুন আত্মীয়তা হয়েছে মাত্র। তাই বেশি জোরাজুরি করতে মন সাঁই দিল না। অভিজিৎকে বললেন, ‘তোমরা সবাই স্বপরিবারে আগামীকাল আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে অবশ্যই আসতে হবে।’ কিন্তু আসল ঘটনা টের পেলেন ওইদিন সন্ধ্যা আটটার দিকে।

স্বামী অভিজিৎ সন্ধ্যা আটটার দিকে মনিষার বড় বোন ডেইজীর স্বামী দেবাশীষকে ফোন করে বলেন, মনিষা অসুস্থ। আপনারা চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসুন। দেবাশীষ পুনরায় অভিজিৎকে ফোন করে জানতে চান-কি অসুখ? বললো, সারা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে, গলায় দাগ দেখা যাচ্ছে। মনিষার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের বাসা শহরে হওয়াতে খবর পাওয়া মাত্র মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায়, অভিজিৎরা কেউ আসেনি। দেবাশীষ পুনরায় ফোন করলে অভিজিৎকে বললো-আমরা আসছি।

অতঃপর একটি সিএনজি টেক্সিতে করে মনিষাকে নিয়ে আসা হলো। পড়নে একটি ম্যাক্সি, সাথে তার স্বামী ও দুই ননদ। তাদের রচিত কাহিনী ছিল ঠিক এই রকম, শাশুড়ি তার দুই মেয়েকে দুর্গাপূজার প্রণামী পাঁচশ টাকা দিয়েছিল আর ছেলের বউ মনিষাকে শুধুমাত্র দশ টাকা দিয়েছেন। তাই অভিমানে আত্মহত্যা করেছে মনিষা। অভিজিৎ এর দুই বোন এও বলছিল যে, আমাদের ভাইকে শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করানো উচিত হয়নি। যদি কম পড়ালেখাওয়ালা দেখে বিয়ে করানো যেত, তাহলে আমাদের চাহিদা মিটতো। আমাদের ভাই শিক্ষিত দেখে বিয়েতে রাজি হয়েছে, কিন্তু আরো ভালো পাত্রী এবং বড় লোকের মেয়ে বিয়ে করলে আমরাও সুখী হতাম। বাবলু দে একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াতে এই বিয়েতে আর অমত করেননি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি দেখার জন্য তিনিও প্রস্তুত ছিলেন না।

সেদিন চট্টগ্রাম মেডিক্যালে মনিষার মৃতদেহ নিয়ে আসা স্বামী ও ননদদের কারো শোক-সহানুভূতি ছিল না, ছিল মনিষার সমালোচনা। মনিষা ঝগড়াটে ছিল, সংসারে মন ছিল না। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মধ্যে দুই মাস বাবা-মায়ের কাছে ছিল। যদিও সেটা এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। তবে একথা সত্য যে, পড়ালেখায় মেধাবী হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই মনিষা স্পষ্টভাষী ও অন্যায়ের প্রতিবাদী ছিল। সংসারে ছোট-খাটো অনেক সমস্যা হয়ে থাকে, তাই বলে দশ টাকা প্রণামী পাওয়ায় একজন গৃহবধূ অভিমান করে আত্মহত্যা করবে-এটা কি মেনে নেওয়া যায়? অভিজিৎ এর সংসারে যদি অন্যায় কিছু হয়ে থাকে, তাহলে মনিষার কী ভুল ছিল-তা এখনো অস্পষ্ট।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে মনিষাকে নিয়ে আসার পর তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেয়ার প্রয়োজনও মনে করেনি কেউ। স্বাভাবিক মনে হয়েছিল তাদের উপস্থিতি। রাত্রেই মৃত্যু সনদ নিয়ে পাহাড়তলী থানায় গেলে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। থানার এসআই রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে অভিজিৎ এর মা ও ননদ মনগড়া কথাবার্তা দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল। পরদিন রবিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল মর্গে ময়না তদন্তের দিন অভিজিৎ এর পরিবারের উপস্থিতি ছিল দায়সারা। ময়না তদন্তেও তাদের আপত্তি ছিল, লাশ গ্রহণে ছিল গড়িমসি। সুরতহাল রিপোর্টে প্রভাব খাটিয়েছিল তারা। প্রথম থেকেই থানাকে বশে রেখেছে। ময়না তদন্তের পর লাশ নিতেও চায়নি তারা। চাপাচাপিতে লাশ নিয়ে দ্রুত পাহাড়তলী মহাশ্মশানে দাহ করা হয়। অভিজিৎ এর এলাকার লোকজনও বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, দশ টাকা প্রণামীর জন্য এমবিএ পড়ুয়া মেয়ে কিভাবে আত্মহত্যা করবে! যদি মণিষা দশ টাকার জন্য শাশুড়ির সাথে অভিমান করেই আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়নি তো!

প্রকৃতপক্ষে মনিষাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিল অভিজিৎ এর পরিবারের সবাই। এখন ন্যায় বিচার পাওয়ার একমাত্র ভরসা মহামান্য আদালত। মনিষার স্বজনরা থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয় নি, ময়না তদন্তের সুরতহাল রিপোর্টও দেখায়নি। এরপর মহামান্য আদালতেই ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করা হয়। অসহায়, নিপীড়িত ন্যায়বিচার প্রার্থীর শেষ আশ্রয়, শেষ ঠিকানা মহামান্য আদালত। মহামান্য আদালতই একমাত্র পারেন প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন করতে। প্রসাশনের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে এবং হত্যার আলামত লোপাট করায় অভিজিৎ, মা ঝর্ণা, বোন মুন্নি, ঝিমকি ও তাদের স্বামী দীপক, প্রদীপ গংদের রিমান্ডে নিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে পারেন। মনিষা যদি আত্মহত্যা করেই থাকে তাহলে শাশুড়ির তথ্য মতে, ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শাশুড়ি ঝর্ণা দত্ত দাবি করছে যে, ওড়নাটি পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে। এলাকার গণ্যমান্য কাউকে ডাকেনি, স্থানীয় থানাকেও তাৎক্ষণিক অবহিত করেনি। এলাকার কাউন্সিলর, সর্দার-কাউকে ডাকেনি তারা। ঘটনা দুপুরে ঘটে থাকলে সন্ধ্যায় কেন তারা মেডিকেলে লাশ নিয়ে গেছে-তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।

প্রশ্ন উঠেছে অভিজিৎ এর অন্য কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক নিয়েও। কিংবা তার অন্য কোন খারাপ অভ্যাস ছিল কিনা তাও ভাবতে হচ্ছে সবাইকে। মনিষা হয়তো এসব বিষয় দেখে প্রশ্ন তোলায় তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। অভিজিৎ বিয়ের পর নিজের স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে শুরু করলে মা এবং দুুই বোনের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। বিয়ের পরই মনিষার শাশুড়ি-ননদরা যৌতুক নিয়ে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন শুরু করে। মনিষাকে বাসি খাবার দেওয়া, বাপের বাড়ি থেকে কোন প্রকার উপহার বা খাবার সামগ্রী দিলে শাশুড়ি ও ননদদের দিয়ে দেয়া হতো। সমাজের সবাইকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপন করে নেওয়ার গুণ ছিল মনিষার মধ্যে। স্বামী,শাশুড়ি ও ননদদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ তার অকাল মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না।

ঘুণেধরা সমাজে এখন বিয়ের পাত্র-পাত্রী দেখতে পূর্বের মতো স্বভাব-চরিত্র, মনুষ্যত্ব প্রভৃতি গুণাবলীকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। বর্তমানে বিয়ের বাজারে শুধু দেখা হয় পাত্র-পাত্রী উচ্চশিক্ষিত কিনা, আয়-জোরগারের পথ কেমন ইত্যাদি। অবৈধ পথে আয় হলে তো কথাই নেই। সহায় সম্পদ আর অর্থ-বিত্তকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কারণে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় নেমে এসেছে। যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবারের দিকে ঝুঁকছে সবাই। কিন্তু পরিবারের সুখ-শান্তি একেবারেই নেই বললে চলে।

মনিষা শান্ত স্বভাবের মেয়ে কিন্তু তার স্বামী বদমেজাজী এবং মা বোনের অন্যায়ের কাছে অনুগত ছিল। এর ফলে সংসারে নিয়মিত নির্যাতন লেগেই থাকত। মনিষাকে হত্যার পর অভিজিৎ এর মা-বোনেরা পুণরায় মোটা অঙ্কের যৌতুক নিয়ে ছেলেকে আবার বিয়ে করাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ধার-দেনা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এবং মেয়েকে হারিয়ে এখন বেঁচে থাকার আশাও হারাতে বসেছেন মনিষার হৃদরোগে আক্রান্ত বাবা, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মা।


একজন মেয়ে যখন আপনালয় ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে চলে যায়, তখন স্বামী-শাশুড়ি কিংবা ননদদের দায়িত্ব ওই অপরিচিত মেয়েকে আপন করে নেওয়া। অথচ মনিষা তা পায়নি। পাহাড়তলী থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দফায় এই মৃত্যুকে ‘দশ টাকা প্রণামীর জন্য আত্মহত্যার ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীতে সত্যকে লুকিয়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ২য় দফার তদন্ত রিপোর্টে। পারিবারিক কলহ, মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। দুইবারই তদন্ত প্রতিবেদনে অভিজিৎ দত্ত রকিকে বাঁচাবার প্রয়াস হয়েছে। ঘটনার তদন্তে মনে হয়েছে, অপরাধীকে বাঁচানোই একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। অভিজিৎ দত্ত রকির মা ঝর্ণা দত্তের সাথে বন্ধুত্ব রয়েছে নগরীর এক মাদক ব্যবসায়ীর, যার সুবাদে পুলিশ প্রসাশনকে বশে রাখা খুবই সহজ হয়েছে। যৌতুক লোভী ঝর্ণা দত্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেনা প্রশাসনও। একজন মেয়ে হয়েও আরেকজন মেয়ের সর্বনাশ কিভাবে করে-তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

সমাজে, পরিবারে, রাষ্ট্রে নারী নির্যাতন কি করে কমবে যদি একজন নারী কর্র্তৃক আরেকজন নারী নিগৃহীত হয়। গর্ভে ধারণ না করলে যে প্রকৃত মা হওয়া যায় না তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মনিষার শাশুড়ি ঝর্ণা দত্ত। মনিষার হাতের বিয়ের রং না শুকাতেই তাকে নিষ্ঠুর পৃথিবী ছেড়ে যেতে হলো। কে আপন, কে পর-তা যেন আবারও প্রমাণ করে দিল তার শ্বশুর বাড়ির মানুষগুলো। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের দ্বারা যদি নারীরাই নিগৃহীত, নিপীড়িত, নির্যাতিত হয় তাহলে নারী নির্যাতন বাড়বেই। বর্তমানে শাশুড়ী, ননদ কর্তৃক গৃহবধূ নির্যাতন যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আমাদের নারী নেত্রীদের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর শুধুই যেন কথার কথা হয়ে থাকবে, তা আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখবে না। একজন নারী কর্তৃক আরেকজন নারীকে অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ না হলে সমাজে নারী নির্যাতন বিলুপ্ত হবে কি করে?

রিতা চৌধুরী , ছনহরা, পটিয়া, চট্টগ্রাম
[email protected]

উপরে