ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত

দেশে পশুর ওষুধ ও খাদ্য শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে : ইয়াহিয়া

আপডেট : 2018-02-21 13:26:53
দেশে পশুর ওষুধ ও খাদ্য শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে : ইয়াহিয়া

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাংলাদেশে পশু বা প্রাণীর জন্য ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য শিল্পের জন্য অপার সম্ভাবনার সুযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাডভেন্ট ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদজাওয়াইদ ইয়াহিয়া।

মোহাম্মদ জাওয়াইদ ইয়াহিয়া বলেন, বাংলাদেশে পশু বা প্রাণীর জন্য ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্যের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। অথচ এখনো ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারে। যাতে দেশে শিল্প গড়ে উঠবে ও কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরও বলেন, পশুর ওষুধ আমদানিকারক একটি সিন্ডিকেট বাংলাদেশে এই শিল্পটি গড়ে উঠার অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। তারা চায় না, কোনভাবেই বাংলাদেশে এই শিল্প গড়ে উঠুক। এক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এইসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে গঠিত অ্যাডভেন্ট ফার্মা ২০১৬ সালের ৭ মে পাবলিক কোম্পানিতে রুপান্তর হয়। যে কোম্পানিটিতে ২০১৩ সালের ১ মার্চ উৎপাদন শুরু হয়।

ওষুধ খাতের অ্যাডভেন্ট ফার্মা পশু বা প্রাণীদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ওষুধ উৎপাদন ও পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে। উৎপাদনের প্রথম অর্থবছরের ১০ মাসে (২০১৩ সালের মার্চ-ডিসেম্বর) কোম্পানিটি ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করে। যা ব্যয় শেষে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা মুনাফা হয়। আর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয় ৬৩.৫৬ টাকা। ওই সময় কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এরপরে প্রতিবছরই কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে হয় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যা পরবর্তী ১৮ মাসে (জানুয়ারি ২০১৫-জুন ১৬) ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও ২০১৬ সালের শেষার্ধে বা ৬ মাসে হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে কোম্পানিটির মূলধন বাড়ার তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধির হার কমে এসেছে।

দেখা গেছে, অ্যাডভেন্ট ফার্মার ২০১৩ সালের ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন ২০১৬ সালের ৩০ জুন বেড়ে হয় ৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর বেড়ে হয়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূলধনের পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও মুনাফার হার সেভাবে বাড়েনি। যাতে প্রতিবছর ইপিএস কমেছে।

কোম্পানিটির ২০১৩ সালের ৬৩.৫৬ টাকার ইপিএস ২০১৪ সালে কমে হয় ৫৬.৯৩ টাকা। যা পরবর্তী ১৮ মাসে হয় ৮.৪৮ টাকা। আর ২০১৬ সালের শেষার্ধে হয়েছে ১.০৫ টাকা।

মোহাম্মদজাওয়াইদ ইয়াহিয়া বলেন, অ্যাডভেন্ট ফার্মাই বাংলাদেশে একমাত্র কোম্পানি, যেটি শুধুমাত্র পশুর ওষুধ তৈরি করে। একইসঙ্গে অন্য কোন দেশ থেকে আমদানি করে নিজের নামে চালায় না।

অ্যাডভেন্ট ফার্মার প্রতিবছর মুনাফা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ২০১৬ সালের শেষার্ধে কোম্পানির বর্ধিত পরিশোধিত মূলধনের রিটার্ন আসা শুরু না হওয়ায় ইপিএস কমেছে বলে জানান।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা দিয়ে নতুন মেশিনারিজ ও ইক্যুপমেন্ট ক্রয়, ১০ কোটি ১ লাখ টাকা দিয়ে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দিয়ে আইপিও বাবদ খরচে ব্যবহার করবে।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়াজি আহমেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদজাওয়াইদ ইয়াহিয়া রয়েছেন। এছাড়া পর্ষদে ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ আরও ৬জন পরিচালক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে আনার জন্য ইস্যু ব্যবস্থাপনার কাজ করছে ইমপেরিয়াল ক্যাপিটাল, আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট ও সিএপিএম অ্যাডভাইজারি।

বিজনেস আওয়ার/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/আরএ

পাঠকের মতামত: