ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

আথ্রাইটিস সমস্যায় ১৫ টিপস

আপডেট : 2018-07-08 17:52:07
আথ্রাইটিস সমস্যায় ১৫ টিপস

বিজনেস আওয়ার ডেস্কঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়- অস্থিসন্ধিতে ব্যাথার পাশাপাশি নড়াচড়ায় সমস্যা হলে তাইকে বলা হয় আথ্রাইটিস। বিশেষত বয়সী মানুষ এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। অল্প বয়সেও আথ্রাইটিসের আক্রমণ হতে পারে। জরিপে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। মহিলাদের মেনোপজের পরে শরীরে হওয়া হর্মোনাল পরিবর্তনের কারণেই তারা আথ্রাইটিসে বেশি ভুগেন।

এই আথ্রাইটিস আবার নানা ধরনের হতে পারে। যেমন: ডিজেনারেটিভ আর্থ্রাইটিস, ট্রমাটিক আর্থ্রাইটিস, অস্টিওম্যালেশিয়া ও অস্টিওপোরোসিস আথ্রাইটিস, গাউট আর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস। আথ্রাইটিস প্রতিরোধের নির্দিষ্ট টিকা কিংবা ওষুধ নেই। তবে রেডিওগ্রাফ, রুটিন ব্লাড টেস্ট, এমআরআই ইত্যাদি পরীক্ষা করে রোগটি সম্বন্ধে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

আথ্রাইটিস থেকে মুক্ত থাকতে নিচে উল্লিখিত ১৫টি টিপস আপনি নজরে রাখতে পারেন।

১. শারীরিক তৎপরতা বাড়ানো; যেমন- বহুতল ভবনে ওঠার সময় মাঝেমধ্যেই লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি ব্যবহার করা এবং যানবাহনে ওঠার আগে অন্তত ৫০০ মিটার পথ পায়ে হেঁটে যাওয়া।
২. মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৩. মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশনের মতো কাজের চর্চা করা
৪. শরীরের জয়েন্টগুলোকে নতুনভাবে জখম হতে না দেওয়া এবং ইতোমধ্যেই জখমে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তা দ্রুত সারিয়ে তোলা।
৫. প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়া।
৬. ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।
৭. ভিটামিনযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।
৮. যে কোনো ছোটখাটো জখমের চিকিৎসা করানো।
৯. প্রতিদিন পূনরাবৃত্তিমূলক শারীরিক তৎপরতা কমিয়ে আনা।
১০. ধুমপান না করা।
১১. মদপান না করা; কারণ মদ হাড়ের স্বাস্থ্য ও কাঠামো দূর্বল করে দেয়।
১২. গ্লুকোজ্যামিন ও কন্ড্রোইটিন জাতীয় উপাদানসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার হার বাড়িয়ে দিতে হবে।
১৩. নিয়মিত দুধ পান করুন। তবে আপনার যদি ল্যাকটোজ জাতীয় খাদ্য উপাদান হজমে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে ক্যালসিয়াম ও ব্রোকোলি জাতীয় খাবার বেশি খান।
১৪. মেনোপোজ পরবর্তী নারীদের জন্য হরমোন প্রতিস্থাপন, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. যোগ চর্চা করুন বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্প্রসারণের সাধারণ চর্চা করুন।

মূলত, প্রথম পর্যায়ের রোগীকে কিছু ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলি মেনে চললে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

দ্বিতীয় ধাপের রোগীর প্রাথমিকভাবে কিছু দিনের জন্য ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়া কার্টিলেজের ভিটামিন খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি রোগীকে দু’তিন সপ্তাহ বেল্ট বা ব্রেস ব্যবহার করতে বলা হয়। এসব বাদে রোগীর হাঁটু মুড়ে বসা, বডি কনট্যাক্ট খেলা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যথা কমার পর সেই জায়গার পেশির শক্তি ফেরাতে বিভিন্ন ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তৃতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা জটিল। প্রাথমিকভাবে ওষুধের পাশাপাশি ট্র্যাকশন এবং অস্থিসন্ধিতে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ভালো ফল না মিললে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের পথে হাঁটতে হবে।

আথ্রাইটিস থেকে ভালো থাকতে সুষম খাদ্য খান, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করুন, ব্যায়াম করুন, গায়ে রোদ লাগান। সর্বোপরি সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বিজনেস আওয়ার/৮ জুলাই/আর আই

পাঠকের মতামত: