বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ আমদানি করা এলএনজি'র কারণে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর দামবৃদ্ধির প্রস্তাবে ওপর গণশুনানি আহ্বান করেছে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আগামী ১১ জুন এই গণশুনানি শুরু হচ্ছে। চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। মোট সাতদিন এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত সচিব (উপ-সচিব) মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম।

আগামী ১১ জুন গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল), ১৩ জুন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (তিতাস), ১৪ জুন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৮ জুন জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, ১৯ জুন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন, ২০ জুন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও ২১ জুন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনার জন্য গেলো বছর কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী বছরে ২৮ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কাতার থেকে বাংলাদেশে আসবে। এরইমধ্যে যা আসতে শুরু করেছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব শিগগির এই গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু হবে। প্রথমে মহেশখালী থেকে পাইপলাইনে করে যাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। পরে তা জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ হবে।

এর ফলে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জায়গায় গ্যাসের যে চাহিদা রয়েছে তা অনেকটা মিটবে। আমদানির ফলে নতুন নতুন সংযোগও মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাতারের পর ওমান থেকে ১০ মেয়াদে এলএনজি আমদানির জন্য সম্প্রতি সরকারের চুক্তি হয়েছে। যা আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে আমদানি করা এলএনজির দাম বেশি। ব্যয়বহুল গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হলে গ্যাসের গড় দাম বাড়বে। এই গ্যাস গ্রাহক পৌঁছাতে হলে সরকারকে হয় গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে নয়তো ভর্তুকি দিতে হবে। তার জন্য দাম বাড়ানোর পথে হাঁটা হচ্ছে।

বিজনেস আওয়ার/১৬মে/এমএএস