বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ আগামী ১৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা। শেষ হবে ২৬ নভেম্বর। নবমবারের মতো সারা দেশে এ পরীক্ষা হবে। নকলমুক্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন। তার মধ্যে প্রাথমিকে ২৮ লাখ ৪ হাজার ৫০৯ জন। আর ইবতেদায়ি পরীক্ষায় ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন। তবে এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে বলেও জানান গণশিক্ষামন্ত্রী। সরকার যত দিন না সিদ্ধান্ত বদল করছে, তত দিন পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন। এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। পরীক্ষার্থী কমলেও তাদের মধ্যে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, এবার ছাত্রদের চেয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এটি আশাব্যঞ্জক যে, মেয়েরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলবে। ৭ হাজার ২৭৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। অন্যান্যবারের মতো এবারও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ২ হাজার ৯৫৩ জন এবং ইবতেদায়িতে ৩৭৯ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা। সে কারণে পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও মন্ত্রিসভা তা নাকচ করে দেয়। ফলে মন্ত্রিসভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলতে থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হতেই হবে, এটা অনিবার্য। এ বিষয়ে আগেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মাঝে থেমে গিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে, বিষয়টি চিরদিনের জন্য থেমে গেছে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

বিজনেস আওয়ার/ ১৫ নভেম্বর/ এমএএস