এছাড়াও আমাদের দেশের শ্রমিকরা অধিকাংশ চাকরির কোনো প্রকার চুক্তি না করেই বিদেশে যাচ্ছে। যার কারণে বিভিন্ন দেশের জব এজেন্সিগুলো তাদের ইচ্ছে মতো পরিশ্রম করাচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের। গতমাসে রাজশাহীতে অভিবাসন এবং উন্নয়ন বিষয়ক বিভাগীয় পরামর্শ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা দেশের বাহিরে কাজ করতে গেলে কোনো প্রকার চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয় না। এমনকি কোনে শ্রমিক কতটাকা বেতন চাকরীতে নেওয়া হয়েছে, এমনকি যাতায়াত, বাসস্থানের সুবিধা ইত্যাদি কোনে তথ্যই দেওয়া হয় না প্রবাসীদের। কিন্তু আমাদের পাশের দেশগুলোর প্রবাসী দেশের বাহিরে কাজে গেলে নানা প্রকার চুক্তির মাধ্যমে কাজে যোগদান করেন।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য কোনো চুক্তি অনুসরণ করা হয় না। আবুল বারাকাত আরও বলেন, কোনে চুক্তি ছাড়া কাজে যাচ্ছে বলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সঠিক বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। একই সাথে তারা যতসময় কাজ করাচ্ছে সে অনুযায়ী পারশ্রমিক পাচ্ছে না। ফলে যে ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে তা আর পূরণ হচ্চে না । গত চার দশকে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ১২৫ গুণ বাড়ছে। বিশ্বের ১৯০টি দেশে বর্তমানে অভিবাসী প্রায় এক কোটি এগার লাখ। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই অভিবাসন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। একই সাথে সেই সমস্যাগুলো কিভাবে দ্রুত সমাধান করা যাবে সেদিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও মনে করেন সভায় উপস্থিত বক্তারা।

তারা জানান, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এখনি অভিবাসন সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং এই সমস্যাগুলো কিভাবে দূর করা সম্ভব সেদিকে নজর দেওয়া। কারণ আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, ভূটান, নেপাল, পাকিস্তান কিংবা মায়ানমারের নাগরিকরা বিদেশে কাজে গেলে তারা নিধারিত চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে যায়। যার কারনে তাদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া খরচ নিধারণ থাকে এমনকি তারা কি পরিমাণে মাসিক বেতন পাবে তাও নির্ধারণ করা থাকে। যাতে তাদের বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি করতে কোনে সমস্যার মুখে পড়তে হয় না। একই সাথে আমাদের দেশের মতো দালালদের দৌরাত্ম অনেক কম থাকায় নানা ধরনের নির্যাতন ও আর্থিক যে ক্ষতির সমুক্ষিণ হতে হচ্ছে, কিন্তু অন্য দেশের প্রবাসী নাগরিকদের ক্ষেত্রে টা হচ্ছে না।

বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি নেতারা বলেন, বাংলাদেশের সরকারই চেষ্টা করলেই অন্যদেশে মতো আমাদের প্রবাসীরা একই কাতারে কাজ করার সুযোগ পাবে। তারা মনে করেন অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশি প্রবাসীরা কাজও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে অনেক গুণ ভালো কাজ করতে পারবে। একই সাথে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি আরও বাড়বে বলেও মনে করেন প্রবাসী নেতারা। এভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি বহুগুনে উন্নত হবে। তাই সরকারের এখনি উচিত যুগউপযোগি অভিবাসন আইন করা যাতে সঠিক ভাবে অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজের সুযোগ পায় অভিবাসী কর্মীরা।

বিজনেস আওয়ার ২৪/এস আই