বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : লেনদেন শুরুর অপেক্ষায় থাকা নাহি অ্যালুমিনিয়ামের গ্লোরী এন্টারপ্রাইজ থেকে ২১ কোটি টাকার মেশিনারীজের সত্যতা যাছাইয়ে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এসময় বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠিদিয়েছেন। তবে ডিএসই কর্তৃপক্ষের কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে নাহি অ্যালুমিনিয়ামের মেশিনারীজের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

গতকাল ২৬ নভেম্বর নাহি অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা পরিদর্শন করেন ডিএসইর মনিটরিং ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের এজিএম শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, লিস্টিং বিভাগের ম্যানেজার অনন্ত কুমার ও একজন ক্যামেরা পারসন।

এর আগে গত ২০ নভেম্বর নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ২১ কোটি টাকার মেশিনারীজের সত্যতা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর জন্য শোকজ করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর আলোকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২১ নভেম্বর ডিএসইকে জবাবও দেয়।

গ্লোরী এন্টারপ্রাইজ থেকে ২১ কোটি টাকার মেশিনারীজ কিনেছে বলে প্রসপেক্টাসে তথ্য প্রকাশ করেছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম। তবে গ্লোরী এন্টারপ্রাইজ নামের কোন কোম্পানির অস্তিত্ব নাই বলে ২০ নভেম্বর একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এমতাবস্থায় প্রতিবেদনে কোম্পানিটির মেশিনারীজ ক্রয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এর আলোকে নাহি অ্যালুমিনিয়াম কর্তৃপক্ষকে মেশিনারীজ ক্রয়ের সত্যতা নিয়ে প্রথমে কারন দর্শানোর জন্য শোকজ ও পরে কারখানা পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানির সচিব জহিরুল ইসলাম শেখ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, গ্লোরী এন্টারপ্রাইজ থেকে ক্রয়কৃত মেশিনারীজের সত্যতা যাছাইয়ে গতকাল ২৬ নভেম্বর ডিএসইর ৩জন কারখানা পরিদর্শন করেছেন। একইসঙ্গে প্রায় ২০টি বিষয়ে লিখিত জানতে চেয়েছেন। যা সোমবারই (২৭ নভেম্বর) জানানো হবে। আর ডিএসই কর্তৃপক্ষ সশরীরে কারখানা পরিদর্শনে মেশিনারীজের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। যাতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, গ্লোরী এন্টারপ্রাইজের অস্তিত্ব নিয়ে যে সন্দেহ তৈরী করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। অবশ্যই এই কোম্পানি আছে। এবং ওই কোম্পানি থেকেই মেশিনারীজ কেনা হয়েছে।

উল্লেখ্য শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের লক্ষ্যে গত গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে চাহিদার ৬২.৩১ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাতে আইপিও বিজয়ীদের নির্ধারন করতে ২৩ অক্টোবর লটারির আয়োজন করা হয়।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ১ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার (প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা করে) ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। যা কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের দিন পাওয়া যাবে। আর এ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন ম্যাশিনারিজ আমদানি, বিল্ডিং নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খাতে ব্যয় করা হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৭ নভেম্বর, ২০১৭/আরএ