ঢাকা , বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের দীর্ঘতম স্থবিরতায় আইপিওহীন শেয়ারবাজার

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 75

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সাঁড়াশি চাপে ২০২৫ সালে এক নজিরবিহীন বন্ধ্যাত্ব প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। পুরো একটি বছর পার হলেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) খাতা খুলতে পারেনি কোনো কোম্পানি। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রাথমিক বাজারের এমন দীর্ঘস্থায়ী এবং নিঃস্পন্দ স্থবিরতা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

ইবিএল সিকিউরিটিজ রিসার্চের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা ও ২০২৬ সালের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আইপিও বাজার কার্যত ‘বরফে জমে আছে’। সাম্প্রতিক অতীতে এমন দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিক বাজারের এই নিষ্ক্রিয়তা আগে কখনো দেখা যায়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরঞ্জিত আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আইপিও আবেদনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান, একাধিক প্রস্তাব বাতিল এবং ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতা নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি কার্যক্রম কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে আসার আগেই অনিশ্চয়তায় পড়ে যাচ্ছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কেবল প্রাথমিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেকেন্ডারি মার্কেটের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নতুন শেয়ার ও তাজা মূলধনের প্রবাহ না থাকায় বাজারে তারল্য ও গতি—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অথচ ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টিকে দেশের শেয়ারবাজারের প্রাথমিক বাজারের স্বর্ণযুগ বলা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১০টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে ৪৯৩ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে ১৩টি কোম্পানি ৫৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। মহামারীর বছর ২০২০ সালেও ৮টি কোম্পানি বাজার থেকে ৬৮৯ কোটি টাকা তুলতে সক্ষম হয়। ২০২১ সালে ১৩টি কোম্পানি ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ২০২২ সালে ১০টি কোম্পানি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা তুলে প্রাথমিক বাজারে রেকর্ড গড়ে।

তবে ২০২৩ সাল থেকেই এই গতি হঠাৎ করেই থমকে যায়। ওই বছর মাত্র দুটি আইপিও বাজার থেকে ৮৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে ৫টি কোম্পানি ৬৬১ কোটি টাকা তুললেও ২০২৫ সালে এসে আইপিও পাইপলাইন পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। ইবিএল সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, গত পুরো অর্থবছরে কোনো নতুন লিস্টিং বা তহবিল সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।

ব্রোকারেজ হাউজটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আইপিও কার্যক্রমের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের মূলধন গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিংয়ের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণ ও প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রাথমিক বাজারে আস্থা ফেরাতে দ্রুত রেগুলেটরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় ২০২৬ সালেও আইপিও বাজারে এই মন্দা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজনেস আওয়ার/ ০৩ জানুয়ারি / আনিচ

ট্যাগস

ইতিহাসের দীর্ঘতম স্থবিরতায় আইপিওহীন শেয়ারবাজার

আপডেট সময় ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সাঁড়াশি চাপে ২০২৫ সালে এক নজিরবিহীন বন্ধ্যাত্ব প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। পুরো একটি বছর পার হলেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) খাতা খুলতে পারেনি কোনো কোম্পানি। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রাথমিক বাজারের এমন দীর্ঘস্থায়ী এবং নিঃস্পন্দ স্থবিরতা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

ইবিএল সিকিউরিটিজ রিসার্চের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা ও ২০২৬ সালের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আইপিও বাজার কার্যত ‘বরফে জমে আছে’। সাম্প্রতিক অতীতে এমন দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিক বাজারের এই নিষ্ক্রিয়তা আগে কখনো দেখা যায়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরঞ্জিত আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আইপিও আবেদনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান, একাধিক প্রস্তাব বাতিল এবং ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতা নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি কার্যক্রম কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে আসার আগেই অনিশ্চয়তায় পড়ে যাচ্ছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কেবল প্রাথমিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেকেন্ডারি মার্কেটের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নতুন শেয়ার ও তাজা মূলধনের প্রবাহ না থাকায় বাজারে তারল্য ও গতি—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অথচ ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টিকে দেশের শেয়ারবাজারের প্রাথমিক বাজারের স্বর্ণযুগ বলা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১০টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে ৪৯৩ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে ১৩টি কোম্পানি ৫৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। মহামারীর বছর ২০২০ সালেও ৮টি কোম্পানি বাজার থেকে ৬৮৯ কোটি টাকা তুলতে সক্ষম হয়। ২০২১ সালে ১৩টি কোম্পানি ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ২০২২ সালে ১০টি কোম্পানি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা তুলে প্রাথমিক বাজারে রেকর্ড গড়ে।

তবে ২০২৩ সাল থেকেই এই গতি হঠাৎ করেই থমকে যায়। ওই বছর মাত্র দুটি আইপিও বাজার থেকে ৮৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে ৫টি কোম্পানি ৬৬১ কোটি টাকা তুললেও ২০২৫ সালে এসে আইপিও পাইপলাইন পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। ইবিএল সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, গত পুরো অর্থবছরে কোনো নতুন লিস্টিং বা তহবিল সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।

ব্রোকারেজ হাউজটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আইপিও কার্যক্রমের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের মূলধন গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিংয়ের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণ ও প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রাথমিক বাজারে আস্থা ফেরাতে দ্রুত রেগুলেটরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় ২০২৬ সালেও আইপিও বাজারে এই মন্দা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজনেস আওয়ার/ ০৩ জানুয়ারি / আনিচ