ঢাকা , সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫, ১৪ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সাথে সরকার-ছাত্রদের যেসব ইস্যুতে দূরত্ব

  • পোস্ট হয়েছে : ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • 9

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয়েছে সাড়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের। গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার, নির্বাচন আর সংস্কারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ছয় মাস পার না হতেই মতানৈক্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে। সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকলেও এখন নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে রেষারেষি।

কোন কোন বিষয় বা ইস্যুতে প্রভাবশালী দল বিএনপির সঙ্গে ছাত্র ও সরকারের মতানৈক্য তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে। শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রাখা ছাত্রদের সঙ্গে নির্বাচনসহ কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ সময়ের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠার আভাস মিলছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম নির্বাচন ও নির্বাচন পরিচালনাকারী সরকার নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মতপার্থক্য

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু নির্বাচনবিষয়ক ইস্যু নয়, বরং রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া ও ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগকে যেভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে বিএনপি তা উভয়পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট ও দূরত্বের মাত্রা বাড়িয়েছে। দুটো উদ্যোগই আন্দোলনকারী ছাত্রদের দিক থেকে এসেছিল। এখন আবার নতুন করে ছাত্রদের দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে মন্তব্য করেন। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো চাই আর্লি ইলেকশন। আগেও বলেছি আমরা। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার, যেটা ন্যূনতম সংস্কার, সেগুলো করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা।’

অন্যদিকে, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপি কেন যেন মনে করে সরকারটা হয়েছে কেবল একটা নির্বাচন দেওয়ার জন্য। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা সরকার আছে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য, যে সময়ে তারা বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন করবে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেছেন, ‘বিএনপি কিছু অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব সরকার বা ছাত্রদের সঙ্গে তৈরি করেছে।’ তবে এটার প্রয়োজন ছিল না বলেই তিনি মনে করেন।

যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে, শুরু থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক ছিল এখনো তেমনটিই আছে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও পাল্টা মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

আবার বিএনপির দিক থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যকে সমর্থন করে কথা বলেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে যে মতপার্থক্যের শুরু হয়েছিল বিএনপি ও সরকারের মধ্যে, সেটিই আরও প্রকট হয়েছে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন ও জুলাই ঘোষণাপত্র ইস্যুতে এসে।

তার মতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, তারা মনে করছেন বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া বা বিলম্ব করানোর একটা চেষ্টা সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো কোনো মহল করছে বলে তারা মনে করেন। এ কারণেই উভয়পক্ষের মধ্যে এখন মতপার্থক্য ক্রমাগত বাড়ছে বলে তার ধারণা।

আরেকজন বিশ্লেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলছেন, নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে পরস্পরের ওপর যে আস্থার সংকট সেটাই উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্বের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ছাত্ররা কতদূর যেতে চায় সেটা নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ আছে, আবার ছাত্রদের মধ্যে উদ্বেগ আছে যে বিএনপি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও এখনকার সংস্কার কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে কি না।’

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গ

গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিএনপি দ্রুত সময়ের নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ দাবি করে আসছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দুটি ভাষণে তা না থাকায় আক্ষেপও প্রকাশ করে দলটি। পরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করলেও তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি বিএনপি।

বরং জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ও সংগঠন নির্বাচনের আগে সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্ব দিলে তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি এবং এই ইস্যুতেই জামায়াতের সঙ্গে দৃশ্যমান বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে দলটি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘উনি (প্রধান উপদেষ্টা) যতগুলো সংস্কারের মধ্যে হাত দিয়েছেন, অতগুলো সংস্কার করতে গেলে ১০ বছরের মধ্যেও শেষ হবে না। আর সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। দুবছর আগে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। তার মধ্যে এই বিষয়গুলো তো রয়েছে।’

নির্বাচনের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিএনপি কেনো যেন মনে করে সরকারটা হয়েছে কেবল একটা নির্বাচন দেওয়ার জন্য। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা সরকার আছে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য, যে সময়ে তারা বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন করবে। আমরা ছাত্ররা এসেছি ওয়াচডগের জন্য। কেবল নির্বাচনের জন্য আসিনি। বিচার একটা পর্যায়ে যেতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যু

আবার অন্যদিকে, গত অক্টোবরে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী তার লেখা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন যে রাষ্ট্রপতি তাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ তার হাতে নেই’।

এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তাদের ঘনিষ্ঠ জাতীয় নাগরিক কমিটি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনে তীব্র চাপ সৃষ্টি করলেও সাংবিধানিক সংকট হবে উল্লেখ করে বিএনপি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে আর পরিবর্তন করা যায়নি।

ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইনি। আমরা চেয়েছি এই রাষ্ট্রপতি সরে যাক। আমরা বলেছিলাম প্রয়োজনে সবাই মিলে একজনকে ঠিক করি। আমরা তো পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইনি।’

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপত্তির কারণ খুব সঙ্গত কারণ। আমরা তো একটা সংবিধানের অধীনে আছি। রাষ্ট্রের যে সংবিধান, সেই সংবিধানের অধীনে আমরা আছি। এই সরকারও শপথ নিয়েছে সেই সংবিধানের অধীনে। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে যে অপসারণ করবে, সেটা কে করবে? এটা এক।

দুই নম্বর হচ্ছে, ‘রাষ্ট্রপতি আনবেন কাকে? তিন নম্বর হচ্ছে, এটার লেজিটেমেসি কার হাতে থাকবে? পার্লামেন্ট নাই। সুতরাং ওই প্রশ্নটাকে আমরা মনে করি যে, অবাস্তব প্রশ্ন।’

অন্যদিকে, জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলছেন, ‘ছাত্ররাই একাই তো এটা দিতে চেয়েছিল কিন্তু সেখানে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়ালো। বিএনপি মহাসচিব হন্তদন্ত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে গেলেন, বললেন এভাবে ছাত্ররা করলে অনৈক্য তৈরি হবে। ছাত্ররাও ভাবলো সবাই মিলেই করি। আলোচনার টেবিলে দিলো। এখন পর্যন্ত সমাধান হলো না। তারা আগ্রহী না এটা আগেই বলতে পারতো। কিন্তু তারা শঠতা ও প্রতারণা করে এটাকে বাধাগ্রস্ত করলো।’

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি আগে, আমরা জানিও না এটা। আর (অভ্যুত্থানের) পাঁচ মাস পরে এই ডিক্লারেশনের কোনো যুক্তি আছে কি না?’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা অভ্যুত্থান, একটা আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ডিক্লারেশন তখনই হওয়া উচিত ছিল। এটা ছাত্ররা তারা দিতেই পারে। কিন্তু আমরা ওটার পার্ট তখনই হবো, যখন গোটা জাতির প্রশ্নটা আসবে তার মধ্যে, টোটাল জিনিসটা। কোনো আলোচনা না করেই তো আমরা এটা করতে পারি না। প্রশ্নই উঠতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে রাজনীতি করে, তাদের নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটাতে আমরা কখনোই একমত হইনি। এটা আমরা বলেছি যে, জনগণ ডিসাইড করবে যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে-কি হবে না।

নাহিদ ইসলাম বলছেন, এ বিষয়ে সবার অবস্থান আরও পরিষ্কার করা দরকার। নিরপেক্ষ সরকারের নামে আওয়ামী লীগকে আশ্রয় দেওয়ার ষড়যন্ত্র হলে মানবো না। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করানোর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আশা করি কেউ এ ষড়যন্ত্রে পা দেবে না।

ওদিকে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে বেরিয়ে এসে সেটা করা উচিত, তার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারে থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সরকার ছেড়ে দেবে। দল গঠনে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলে সরকার ছেড়ে দেবো।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্য করে না বলেও বিএনপির কথার টোন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। যেখানে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, তিনি মনে করেন সরকার থেকে বেরিয়ে ছাত্রদের দল গঠন করা উচিত। অর্থাৎ সরকারের কোনো সাহায্য না নিয়ে তারা যদি দল গঠন করতে চায়, সেটা তাদের জন্যই ভালো হবে।

নাহিদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন যে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপিপন্থি লোকজন আছে তাদের রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সম্ভব কি না। রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, জুলাই প্রক্লেমেশন এগুলো কিন্তু ছাত্রদের দলীয় দাবি ছিল না। একটা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সেটার ভিত্তিতে ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি এসেছে। একটা ভয় কেনো যেন বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। এটা অমূলক, বলেছেন তিনি।

জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দূরত্ব আরও বাড়বে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ইস্যুতে বিএনপির শক্ত অবস্থান নেওয়াটাই আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কার কথা বলে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এবং প্রয়োজনীয়তার প্রশ্ন তুলে জুলাই ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল আন্দোলনকারী ছাত্রদের অবস্থানের বিরুদ্ধে একটা ধাক্কা। এছাড়া বিএনপি মাঝে মধ্যেই মাইনাস টু ফর্মুলার কথাও তুলে ধরছে। এসব ইস্যুতে শুধু সরকার বা আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে নয় বরং জামায়াতসহ ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও বিএনপির ঠাণ্ডা লড়াই স্পষ্ট।’

তার মতে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসতে পারবে কি না তা জনগণের ওপর যেভাবে বিএনপি ছেড়ে দিতে চাইছে সেটি আন্দোলনকারী ছাত্ররা মেনে নিতে পারছে না, যা তাদের মধ্যকার বিরোধকে আরও চাঙা করে তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আন্দোলনকারী ছাত্ররা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন তা বিএনপি ভালোভাবে নিচ্ছে না। আবার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা যেভাবে চব্বিশের আন্দোলনকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে সেটাও বিএনপির জন্য অস্বস্তির। এ কারণেই ৭১ ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নিয়েছে বিএনপি, বলছিলেন তিনি।

এদিকে, শনিবারই চাঁদপুরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলছেন, জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে। সমাধান হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেটি কখন করা উচিত সে বিষয়ে ঐকমত্য হবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যতদিন যাবে তত অনিশ্চয়তা বাড়বে। তাদের মধ্যেও দূরত্ব বাড়বে। পাশাপাশি জনমনে আশঙ্কা ও অস্থিরতা বাড়বে। কারণ অনেকেই এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিজনেস আওয়ার/ ২৬ জানুয়ারি / রহমান

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

বিএনপির সাথে সরকার-ছাত্রদের যেসব ইস্যুতে দূরত্ব

পোস্ট হয়েছে : ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয়েছে সাড়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের। গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার, নির্বাচন আর সংস্কারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ছয় মাস পার না হতেই মতানৈক্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে। সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকলেও এখন নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে রেষারেষি।

কোন কোন বিষয় বা ইস্যুতে প্রভাবশালী দল বিএনপির সঙ্গে ছাত্র ও সরকারের মতানৈক্য তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে। শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রাখা ছাত্রদের সঙ্গে নির্বাচনসহ কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ সময়ের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠার আভাস মিলছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম নির্বাচন ও নির্বাচন পরিচালনাকারী সরকার নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মতপার্থক্য

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু নির্বাচনবিষয়ক ইস্যু নয়, বরং রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া ও ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগকে যেভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে বিএনপি তা উভয়পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট ও দূরত্বের মাত্রা বাড়িয়েছে। দুটো উদ্যোগই আন্দোলনকারী ছাত্রদের দিক থেকে এসেছিল। এখন আবার নতুন করে ছাত্রদের দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে মন্তব্য করেন। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো চাই আর্লি ইলেকশন। আগেও বলেছি আমরা। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার, যেটা ন্যূনতম সংস্কার, সেগুলো করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা।’

অন্যদিকে, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপি কেন যেন মনে করে সরকারটা হয়েছে কেবল একটা নির্বাচন দেওয়ার জন্য। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা সরকার আছে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য, যে সময়ে তারা বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন করবে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেছেন, ‘বিএনপি কিছু অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব সরকার বা ছাত্রদের সঙ্গে তৈরি করেছে।’ তবে এটার প্রয়োজন ছিল না বলেই তিনি মনে করেন।

যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে, শুরু থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক ছিল এখনো তেমনটিই আছে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও পাল্টা মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

আবার বিএনপির দিক থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যকে সমর্থন করে কথা বলেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে যে মতপার্থক্যের শুরু হয়েছিল বিএনপি ও সরকারের মধ্যে, সেটিই আরও প্রকট হয়েছে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন ও জুলাই ঘোষণাপত্র ইস্যুতে এসে।

তার মতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, তারা মনে করছেন বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া বা বিলম্ব করানোর একটা চেষ্টা সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো কোনো মহল করছে বলে তারা মনে করেন। এ কারণেই উভয়পক্ষের মধ্যে এখন মতপার্থক্য ক্রমাগত বাড়ছে বলে তার ধারণা।

আরেকজন বিশ্লেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলছেন, নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে পরস্পরের ওপর যে আস্থার সংকট সেটাই উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্বের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ছাত্ররা কতদূর যেতে চায় সেটা নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ আছে, আবার ছাত্রদের মধ্যে উদ্বেগ আছে যে বিএনপি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও এখনকার সংস্কার কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে কি না।’

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গ

গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিএনপি দ্রুত সময়ের নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ দাবি করে আসছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দুটি ভাষণে তা না থাকায় আক্ষেপও প্রকাশ করে দলটি। পরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করলেও তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি বিএনপি।

বরং জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ও সংগঠন নির্বাচনের আগে সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্ব দিলে তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি এবং এই ইস্যুতেই জামায়াতের সঙ্গে দৃশ্যমান বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে দলটি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘উনি (প্রধান উপদেষ্টা) যতগুলো সংস্কারের মধ্যে হাত দিয়েছেন, অতগুলো সংস্কার করতে গেলে ১০ বছরের মধ্যেও শেষ হবে না। আর সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। দুবছর আগে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। তার মধ্যে এই বিষয়গুলো তো রয়েছে।’

নির্বাচনের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিএনপি কেনো যেন মনে করে সরকারটা হয়েছে কেবল একটা নির্বাচন দেওয়ার জন্য। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা সরকার আছে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য, যে সময়ে তারা বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন করবে। আমরা ছাত্ররা এসেছি ওয়াচডগের জন্য। কেবল নির্বাচনের জন্য আসিনি। বিচার একটা পর্যায়ে যেতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যু

আবার অন্যদিকে, গত অক্টোবরে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী তার লেখা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন যে রাষ্ট্রপতি তাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ তার হাতে নেই’।

এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তাদের ঘনিষ্ঠ জাতীয় নাগরিক কমিটি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনে তীব্র চাপ সৃষ্টি করলেও সাংবিধানিক সংকট হবে উল্লেখ করে বিএনপি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে আর পরিবর্তন করা যায়নি।

ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইনি। আমরা চেয়েছি এই রাষ্ট্রপতি সরে যাক। আমরা বলেছিলাম প্রয়োজনে সবাই মিলে একজনকে ঠিক করি। আমরা তো পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইনি।’

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপত্তির কারণ খুব সঙ্গত কারণ। আমরা তো একটা সংবিধানের অধীনে আছি। রাষ্ট্রের যে সংবিধান, সেই সংবিধানের অধীনে আমরা আছি। এই সরকারও শপথ নিয়েছে সেই সংবিধানের অধীনে। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে যে অপসারণ করবে, সেটা কে করবে? এটা এক।

দুই নম্বর হচ্ছে, ‘রাষ্ট্রপতি আনবেন কাকে? তিন নম্বর হচ্ছে, এটার লেজিটেমেসি কার হাতে থাকবে? পার্লামেন্ট নাই। সুতরাং ওই প্রশ্নটাকে আমরা মনে করি যে, অবাস্তব প্রশ্ন।’

অন্যদিকে, জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলছেন, ‘ছাত্ররাই একাই তো এটা দিতে চেয়েছিল কিন্তু সেখানে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়ালো। বিএনপি মহাসচিব হন্তদন্ত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে গেলেন, বললেন এভাবে ছাত্ররা করলে অনৈক্য তৈরি হবে। ছাত্ররাও ভাবলো সবাই মিলেই করি। আলোচনার টেবিলে দিলো। এখন পর্যন্ত সমাধান হলো না। তারা আগ্রহী না এটা আগেই বলতে পারতো। কিন্তু তারা শঠতা ও প্রতারণা করে এটাকে বাধাগ্রস্ত করলো।’

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি আগে, আমরা জানিও না এটা। আর (অভ্যুত্থানের) পাঁচ মাস পরে এই ডিক্লারেশনের কোনো যুক্তি আছে কি না?’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা অভ্যুত্থান, একটা আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ডিক্লারেশন তখনই হওয়া উচিত ছিল। এটা ছাত্ররা তারা দিতেই পারে। কিন্তু আমরা ওটার পার্ট তখনই হবো, যখন গোটা জাতির প্রশ্নটা আসবে তার মধ্যে, টোটাল জিনিসটা। কোনো আলোচনা না করেই তো আমরা এটা করতে পারি না। প্রশ্নই উঠতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে রাজনীতি করে, তাদের নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটাতে আমরা কখনোই একমত হইনি। এটা আমরা বলেছি যে, জনগণ ডিসাইড করবে যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে-কি হবে না।

নাহিদ ইসলাম বলছেন, এ বিষয়ে সবার অবস্থান আরও পরিষ্কার করা দরকার। নিরপেক্ষ সরকারের নামে আওয়ামী লীগকে আশ্রয় দেওয়ার ষড়যন্ত্র হলে মানবো না। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করানোর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আশা করি কেউ এ ষড়যন্ত্রে পা দেবে না।

ওদিকে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে বেরিয়ে এসে সেটা করা উচিত, তার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারে থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সরকার ছেড়ে দেবে। দল গঠনে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলে সরকার ছেড়ে দেবো।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্য করে না বলেও বিএনপির কথার টোন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। যেখানে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, তিনি মনে করেন সরকার থেকে বেরিয়ে ছাত্রদের দল গঠন করা উচিত। অর্থাৎ সরকারের কোনো সাহায্য না নিয়ে তারা যদি দল গঠন করতে চায়, সেটা তাদের জন্যই ভালো হবে।

নাহিদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন যে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপিপন্থি লোকজন আছে তাদের রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সম্ভব কি না। রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, জুলাই প্রক্লেমেশন এগুলো কিন্তু ছাত্রদের দলীয় দাবি ছিল না। একটা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সেটার ভিত্তিতে ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি এসেছে। একটা ভয় কেনো যেন বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। এটা অমূলক, বলেছেন তিনি।

জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দূরত্ব আরও বাড়বে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ইস্যুতে বিএনপির শক্ত অবস্থান নেওয়াটাই আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কার কথা বলে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এবং প্রয়োজনীয়তার প্রশ্ন তুলে জুলাই ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল আন্দোলনকারী ছাত্রদের অবস্থানের বিরুদ্ধে একটা ধাক্কা। এছাড়া বিএনপি মাঝে মধ্যেই মাইনাস টু ফর্মুলার কথাও তুলে ধরছে। এসব ইস্যুতে শুধু সরকার বা আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে নয় বরং জামায়াতসহ ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও বিএনপির ঠাণ্ডা লড়াই স্পষ্ট।’

তার মতে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসতে পারবে কি না তা জনগণের ওপর যেভাবে বিএনপি ছেড়ে দিতে চাইছে সেটি আন্দোলনকারী ছাত্ররা মেনে নিতে পারছে না, যা তাদের মধ্যকার বিরোধকে আরও চাঙা করে তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আন্দোলনকারী ছাত্ররা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন তা বিএনপি ভালোভাবে নিচ্ছে না। আবার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা যেভাবে চব্বিশের আন্দোলনকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে সেটাও বিএনপির জন্য অস্বস্তির। এ কারণেই ৭১ ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নিয়েছে বিএনপি, বলছিলেন তিনি।

এদিকে, শনিবারই চাঁদপুরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলছেন, জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে। সমাধান হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেটি কখন করা উচিত সে বিষয়ে ঐকমত্য হবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যতদিন যাবে তত অনিশ্চয়তা বাড়বে। তাদের মধ্যেও দূরত্ব বাড়বে। পাশাপাশি জনমনে আশঙ্কা ও অস্থিরতা বাড়বে। কারণ অনেকেই এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিজনেস আওয়ার/ ২৬ জানুয়ারি / রহমান

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: