ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫


এসিআইয়ের মুনাফা ১৩২ কোটি, সাবসিডিয়ারি স্বপ্ন’র লোকসান ১৩৫ কোটি টাকা

২০১৮ ডিসেম্বর ১৭ ১২:০৩:৪৪

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (এসিআই) মুনাফার চেয়ে কোম্পানিটির সাবসিডিয়ারি (অধীনস্থ) রিটেইল সুপারশপ স্বপ্ন ব্র্যান্ডের এসিআই লজিস্টিকসের লোকসানের পরিমাণ বেশি। এছাড়া এসিআইয়ের ১৪টি অধীনস্থ কোম্পানির নিট লোকসানের পরিমাণ বেশি। যাতে অধীনস্থ কোম্পানির সংখ্যা অনেক হলেও সেখান থেকে কোন সুফল আসছে না। বরং এসিআইয়ের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এসিআইয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসিআই এর এককভাবে ১৩১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। যা শেয়ারপ্রতি হিসাবে ২৭.৩৩ টাকা। তবে অধীনস্থ স্বপ্ন’র লোকসান হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যে কোম্পানিটির ধারাবাহিক লোকসানে পুঞ্জিভূত লোকসান দাড়িঁয়েছে ৮৯১ কোটি টাকায়।

এদিকে এসিআইয়ের ১৪টি অধীনস্থ কোম্পানিসহ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ অধীনস্থ ১৪ কোম্পানি থেকে এসিআইয়ের কোন সুফল আসছে না। বরং কোম্পানিগুলোর লোকসানে এসিআইয়ের মুনাফা কমেছে ৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। যাতে এসিআইয়ের একক হিসাবের ২৭.৩৩ টাকার ইপিএস সমন্বিতভাবে ১০.৭৩ টাকায় নেমে এসেছে।

এসিআইয়ের ১৪টি অধীনস্থ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- এসিআই ফরমুলেশন, এসিআই সল্ট, এসিআই ফুডস, এসিআই পিউর ফ্লাওয়ার, এসিআই অ্যাগ্রোলিঙ্ক, ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশন, এসিআই মটরস, প্রিমিয়াফ্রেক্স প্লাস্টিকস, এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন), এসিআই হেলথকেয়ার, এসিআই এডিবল ওয়েলস, এসিআই কেমিক্যালস, ইনফোলিটক্স বাংলাদেশ ও এসিআই বায়োটেক। এই কোম্পানিগুলোতে এসিআইয়ের ১৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।

অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে এসিআই ফরমুলেশনসে এসিআইয়ের ৫৩.৪৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এছাড়া এসিআই সল্টে ৭৭.৬৭ শতাংশ, এসিআই ফুডসে ৯৫ শতাংশ, এসিআই পিউর ফ্লাওয়ারে ৯৫ শতাংশ, এসিআই অ্যাগ্রোলিঙ্কে ৯০ শতাংশ, ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশনে ৬০ শতাংশ, এসিআই মটরসে ৬৭.৫০ শতাংশ, প্রিমিয়াফ্রেক্স প্লাস্টিকসে ৮৭.৩২ শতাংশ, এসিআই লজিস্টিকসে (স্বপ্ন) ৭৬ শতাংশ, এসিআই হেলথকেয়ারে ৯২.৯৪ শতাংশ, এসিআই এডিবল ওয়েলসে ৮৫ শতাংশ, এসিআই কেমিক্যালসে ৭৫ শতাংশ, ইনফোলিটক্স বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ ও এসিআই বায়োটেকে ৮০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

এসিআইয়ের ১৪টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মধ্যে ৭টি কোম্পানি মুনাফায় ও ৭টি কোম্পানি লোকসানে রয়েছে। এরমধ্যে ৭ কোম্পানির মুনাফার পরিমান ৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর বাকি ৭ কোম্পানির লোকসানের পরিমাণ ১৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসাবে মুনাফা ছাপিয়ে ৯৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি লোকসান হয়েছে।

দেখা গেছে, এসিআইয়ের অধীনস্থ এসিআই ফরমূলেশনসের (সমন্বিত) ১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। এছাড়া এসিআই পিওর ফ্লাওয়ারের ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা, এসিআই সল্টের ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, এসিআই মটরসের ৫৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশনের ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকসের ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ও এসিআই এডিবল অয়েলসের ১ কোটি ৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে।

এদিকে এইসিআইয়ের অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসানে স্বপ্ন। এ কোম্পানিটির ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া এসিআই ফুডসের ২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, এসিআই অ্যাগ্রোলিঙ্কের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, এসিআই হেলথকেয়ারের ১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, এসিআই কেমিক্যালসের ৩ কোটি ১ লাখ টাকা, ইনফোলিটক্স বাংলাদেশের ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা ও এসিআই বায়োটেকের ৫৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এরমধ্যে এসিআই বায়োটেকের উৎপাদন শুরু হয়নি।

এসিআই এর চেয়ারম্যান আনিস উদ্ দৌলা কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারন সভায় (এজিএম) বলেছেন, একটি গাছ লাগানোর পর থেকেই ফল পাওয়ার আশা করা যায় না। তাই বলে কি গাছ কেটে দিতে হবে এমনতো কোন কথা নেই। ঠিক তেমনি যত টাকায় লোকসান হোক না কেনো, রিটেইল সুপারশপ স্বপ্নকেও বন্ধ করা যাবে না। আগামি কিছু দিনের মধ্যে স্বপ্ন ফল দিতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে এসিআই এর সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কোম্পানির আইন-কানুন, গভর্ণেন্স ইত্যাদি বিষয় দেখি। ব্যবসায়িক বিষয়গুলো দেখেন না। তাই কোন মন্তব্য করবেন না।

এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন) : ২০০৮ সালে গঠিত এ কোম্পানিটি ২০০৯ সালে স্বপ্ন নামে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে। কোম্পানিটি শুরু থেকেই লোকসানে রয়েছে। কোম্পানিটির বর্তমানে ৭৩টি আউটলেট বা বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

এসিআই বায়োটেক : কোম্পানিটি ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রাইভেট কোম্পানি হিসাবে গঠিত হয়েছে। বায়োটেক পণ্য, মনোক্লোনাল এন্টিবডি, এন্টিক্যানসার ইত্যাদি উৎপাদন ও বাজারজাতকরনের লক্ষ্যে এ কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

এনফোলিটক্স বাংলাদেশ : ২০১৫ সালে জয়েন্ট ভ্যানচারে এ কোম্পানিটি গঠিত হয়। কোম্পানিটি সফটওয়্যার উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে নিয়ে কাজ করবে।

এসিআই হেলথকেয়ার : ২০১৩ সালে গঠিত এ কোম্পানির উদ্দেশ্য আমেরিকার জন্য ঔষুধ তৈরী ও বাজারজাতকরন করা।

এসিআই মটরস : ২০০৭ সালে গঠিত এ কোম্পানিটি ‘সোনালিকা’ ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ অন্যান্য যানবাহন বাজারজাতকরন করে।

এসিআই এডিবল অয়েলস : কোম্পানিটি ২০১০ সালে গঠিত হয়েছে। কোম্পানিটি থেকে এসিআই পিওর সয়াবিন ও এসিআই নিউট্রিলাইফ রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন ও বাজারজাতকরন করা হয়।

এসিআই মটরস : ২০০৭ সালে গঠিত এ কোম্পানিটি ‘সোনালিকা’ ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ অন্যান্য যানবাহন বাজারজাতকরন করে।

এসিআই সল্ট : ২০০৪ সালে গঠিত এ কোম্পানিটি এসিআই সল্ট ব্র্যান্ডের লবণ উৎপাদন ও বাজারজাতকরন করে।

এসিআই পিওর ফ্লাওয়ার : ২০০৬ সালে গঠিত এ কোম্পানিটি এসিআই পিওর আটা, ময়দা নামে উৎপাদন ও বাজারজাতকরন করে।

এছাড়া এসিআই কেমিক্যাল ২০১৩ সালে, এসিআই অ্যাগ্রোলিঙ্ক ২০০৬ সালে, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস ২০০৭ সালে, ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশন ২০০৭ সালে ও এসিআই ফুডস ২০০৬ সালে গঠিত হয়।

বিজনেস আওয়ার/১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮/আরএ

উপরে