ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬


ডিপ্রেশনকে দূরে রাখতে যা করবেন

২০১৮ ডিসেম্বর ৩০ ১৮:৩৭:০৯

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : একটুখানি মন খারাপ লাগা, বিরক্ত লাগা বা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া আমাদের জীবনেরই একটা অংশ। কিন্তু কখনো কখনো কিছু ঘটনা আমাদের মনকে খুব গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়, যখন চারপাশের কোনো আনন্দ আর আমাদের ছুঁতে পারে না। দিনের পর দিন আমরা গভীর হতাশায় ডুবে যাই।

কারো হয়তো প্রিয়জন দূরে সরে গেছে, কারও হয়তো বহুদিনের লালিত স্বপ্নভঙ্গের আঘাত বা কারও হয়ত অন্য কোন ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট। দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস কেটে যায় এরকম অবসাদে। সেই সময়েই ডিপ্রেশন ভর করে আমাদের ওপর।

ডিপ্রেশন এবং সাধারণ মন খারাপের মধ্যে তফাত রয়েছে। তাই ডিপ্রেশন-কে বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ডিপ্রেশন-এর লক্ষণ গুলো কী কী?

১. প্রতিদিনের কাজগুলো ঠিকভাবে করে উঠতে না পারা।
২. যেকোনো কাজেই অনেক বেশি ক্লান্তিবোধ করা। এই ক্লান্তি শুধুমাত্র শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক ক্লান্তিও।
৩. যেসব কাজে আগে আগ্রহ পেতেন, সেগুলোতে আর সেরকম আগ্রহ বোধ না করা।
৪. ক্রমাগত একটা দমবন্ধ করা অনুভূতি, কাঁদতে ইচ্ছা করা, সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা বা খুবই নিরাশ বোধ করা।
৫. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি বা ওজন হ্রাস পাওয়া।
৬. সবকিছু এলোমেলো লাগা, পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে না পারা, সিদ্ধান্তহীনতা।
৭. খুব বেশি ঘুমানো বা একেবারেই ঘুম না হওয়া।
৮. নিজেকে অক্ষম মনে করা।
৯. সবসময়ই খিটখিটে বা রুক্ষ মেজাজে থাকা।
১০. এবং ফাইনালি, নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করা।

এই লক্ষণগুলো যদি নিজের আচরণের মধ্যে খুঁজে পান, তাহলে বুঝবেন এবার আপনাকে একটু সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। এই লেখায় ডিপ্রেশন কাটানোর কোনো চিকিৎসার কথা বলা হয়নি। তবে কিছু কিছু কাজ করলে নিজে নিজেই ডিপ্রেশন অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এখানে সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। যদি দেখেন এগুলোতে কোনো ফল পাচ্ছেন না, তাহলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

যেসব কাজ ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে:

১. আপনজনের সংস্পর্শে থাকুন: জোর করে হলেও নিজেকে সোশ্যালাইজেশন-এর ভেতরে রাখুন। এর মানে ফেসবুক বা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক-এ পড়ে থাকা নয়। নিজের পরিবারে সাথে সময় কাটান, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ি যান বা তাদের বাড়িতে ডাকুন। নিজেকে একা করে ফেলবেন না।

২. এক্সারসাইজ: ডিপ্রেশন কাটাতে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা দারুণভাবে মুড লিফট করে। এর জন্যে জিম-এ যেতে হবে বা ওয়েট লিফটিং করতে হবে তা কিন্তু নয়। সকালবেলা উঠেই ৩০ মিনিট হেঁটে আসুন। চাইলে বিকেলেও এটি করতে পারেন। বাইরের বিশুদ্ধ বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে হাঁটলে, মনের ভার অনেকটাই কমে যাবে।

৩. রুটিন: ডিপ্রেশন-এ পড়লে কাজের রুটিন ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা একদিনে ঠিক হবার নয়। এসময় ঘুমানোর সময়ের ব্যাঘাত ঘটে বা খাবারটা ঠিক মতো খাওয়া হয় না, গোসল ঠিক মতো করা হয় না। প্রথমে এই জিনিসগুলোকে রুটিনে আনুন। যেভাবেই হোক প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে ঘুমাতে যাবেন এবং চেষ্টা করবেন একই সময়ে উঠতে। রোজ খাবার এবং গোসলের জন্যে নির্ধারিত সময় রাখবেন এবং চেষ্টা করবেন যেন সেই সময়েই তা করা যায়। পড়াশুনা থাকলে সেটার জন্যে ঘড়ি ধরে সময় রাখবেন, সেই সময়ে হয়ত আপনার মনোযোগ থাকবে না, না থাকলেও পড়ার টেবিল থেকে উঠবেন না। যতবার অন্য কিছু মনে পরবে, আবার নিজেকে বুঝিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করবেন।

৪. লক্ষ্য নির্ধারণ করা: এই সময় নিজেকে খুব অক্ষম মনে হয়, নিজের ওপর বিশ্বাস বা ভরসা কিছুই থাকে না। তাই প্রতিদিনের একটা কাজের তালিকা বানিয়ে সেটা সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করুন। শুরুতেই বড় কোন কাজের বোঝা নিয়ে নিজেকে আরও বেশি চাপের মধ্যে ফেলবেন না। অল্প অল্প করে শুরু করুন। তারপরে একটু একটু করে সেটা বাড়ান। লক্ষ্য পূরণ হলে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

৫. খাবার নিয়ন্ত্রণ: এই সময়ে কেউ হয়তো অনেক বেশি খান। যেমন- যখন তখন চা, সিগারেট, মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড খেতে থাকেন। অতিরিক্ত চা বা কফি ডিপ্রেশন বাড়ায়। যাই খান নিয়ম করে খাবেন। বিকেলের চায়ের একটা নির্ধারিত সময় রাখবেন, সেই সময়ে আয়োজন করে চা খান। দেখবেন ভালো লাগবে। খুব জাঙ্ক ফুড খেতে ইচ্ছে করলে নিজেকে কোন একটা কাজের দায়িত্ব দিয়ে সেই কাজ পূরণ হলে তবেই সেই খাবারটি খান।

৬. নতুন কিছু করা: জীবনে যে কাজগুলো নানান ব্যস্ততায় করা হয়ে ওঠেনি সেগুলো করার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনাকে ব্যস্ত রাখবে এবং আপনার মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এখন ইউটিউব-এ শেখা যায় না এমন কিছু নেই। যেই কাজটি আপনার ভালো লাগে করতে সেটাই করুন।

অনেকে হয়তো বলবেন, এত কিছু করতে পারলে তো আর ডিপ্রেশন-এ ভুগতাম না। কথাটা সত্যি। ভীষণ ডিপ্রেশন-এ পড়লে সাধারণ কাজও কঠিন লাগে। শুরুটা করুন। এখানে ইচ্ছা শক্তিটাই আসল। অন্যকে সময় দেয়ার আগে নিজেকে সময় দিন। অন্যকে ভালবাসার আগে নিজেকে ভালবাসুন। সময় লাগলে লাগুক, তবু নিজেকে ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান।

বিজনেস আওয়ার/৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮/এমএএস

উপরে