ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫


বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে আজ

২০১৯ জানুয়ারি ০৯ ০৮:১১:৩৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাণিজ্য মেলার আয়োজনের সব রকম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সব ধরনের নিরাপত্তা। বিশ্বমানের দেশীয় বহুমুখী পণ্য দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে বুধবার (৯ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিকেল ৩টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো মেলার টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে।

মেলা উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মেলার আয়োজক কমিটি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্যসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রদর্শনীতে পণ্য বহুমুখীকরণ ছাড়াও মানুষের বিনোদনেরও একটা বিষয় থাকে। অসংখ্য মানুষ আসবে, দেখবে এবং ঘুরে বেড়াবে। এ ছাড়া দেশীয় পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে।

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন কিছু বাস্তবায়ন করতে গেলে সাধারণত কিছু সমস্যা তৈরি হয়। পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান সমস্যাও তেমনই বলে আমি মনে করি।

এ সমস্যা সমাধানে মালিক-শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করছে। সরকারি নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন কিছু বাস্তবায়নের সময় কিছু সমস্যা থাকে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল (সোমবার) তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

টিপু মুনশি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে দেশের বাণিজ্য প্রসারে কাজ করব। এ ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করবেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি দেশে অঞ্চলভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে নজর দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেলাস্থলে সব ধরনের হকার ও ভিক্ষুক নিষিদ্ধ থাকবে।

ফুডকোর্টের অনিয়ম রুখতে বাধ্যতামূলক রাখতে হবে মূল্যতালিকা। এছাড়া মেলায় থাকবে ফায়ার ইউনিটি ও মেডিকেল টিম। বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা থাকবে। ধূলো কমাতে পানি ছিটানো হবে। ইভটিজিং রোধে মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশের বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে বাণিজ্যমেলায়। এবার নতুন করে চার থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে দেশীয় প্যাভিলিয়ন মাত্র ২৬টি। তাই এবার একক দেশগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

দেশগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, হংকংসহ বিভিন্ন দেশ।

বিজনেস আওয়ার/০৯ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

উপরে