ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫

একক ১৩.৩০ টাকার ইপিএস সমন্বিতভাবে ০.৪৪ টাকা

এবার সাবসিডিয়ারির সুদের ভারে এসিআইয়ের মুনাফায় ধস

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১০:৪৫:২৮

রেজোয়ান আহমেদ : গত কয়েকবছর ধরে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (এসিআই) মুনাফার উত্থানের পথে কাটা হয়ে রয়েছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির লোকসান। তবে এবার সেই কাটা আরেক ধাপ এগিয়ে এসিআইয়ের মুনাফায় ধস নামিয়েছে। এবার সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোরে সুদের ভারে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর ১৮) এসিআইয়ের সমন্বিত হিসাবে ৯৪ শতাংশ মুনাফা কমেছে। কোম্পানিটির ৯ শতাংশ বিক্রয় ও ১০ শতাংশ পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সুদজনিত ব্যয় বৃদ্ধিতে নিট মুনাফায় এই ধস নেমেছে।

এসিআইয়ের এককভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে নিট মুনাফা হয়েছে ৬৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৩.৩০ টাকা। তবে ১৪টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসহ সমন্বিত হিসাবে নিট মুনাফা দাড়িঁয়েছে মাত্র ২ কোটি ২১ লাখ টাকায় বা শেয়ারপ্রতি ০.৪৪ টাকায়। গত কয়েকবছর ধরে এসিআইয়ের মুনাফায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর এমন নেতিবাচক প্রভাব আধিপাত্য বিস্তার করে রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে রিটেইল সুপারশপ স্বপ্ন ব্র্যান্ডের এসিআই লজিস্টিকস।

এদিকে আগের অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর ১৭) প্রথমার্ধে এসিআইয়ের সমন্বিতভাবে নিট মুনাফা হয়েছিল ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ৭.৭২ টাকা। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মুনাফা কমেছে ৩৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা বা ৯৪ শতাংশ। যার পেছনে প্রধান কারন হিসাবে রয়েছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর সুদজনিত ব্যয় বৃদ্ধি।

দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঋণের বিপরীতে সুদজনিত ব্যয় হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার পরিমাণ আগের অর্থবছরের একইসময়ে হয়েছিল ৯৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটির সুদজনিত ব্যয় বেড়েছে ৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৫৮ শতাংশ। আর সুদজনিত ব্যয়ের এই উত্থানে কোম্পানিটির মুনাফায় ধস নেমেছে। অথচ ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে শুধুমাত্র এসিআইয়ের সুদজনিত ব্যয় ৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন.....

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসিআইয়ের মুনাফা ১৩২ কোটি, সাবসিডিয়ারি স্বপ্ন’র লোকসান ১৩৫ কোটি টাকা

এসিআইয়ের সাবসডিয়ারি কোম্পানিগুলোসহ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মোট ঋণের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যার পরিমাণ আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ হিসাবে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ৭ শতাংশ। সমন্বিত ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার মধ্যে শুধুমাত্র এসিআইয়ের ঋণের পরিমাণ১ হাজার ৫২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

সমন্বিতভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে এসিআইয়ের ২৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বা ৯ শতাংশ বিক্রয় বেড়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধের ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিক্রয় এ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এই বিক্রয় বৃদ্ধিতে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বা ১০ শতাংশ। যা কোম্পানিটির মুনাফার ধস ঠেকাতে পারেনি।

এসিআইয়ের ১৪টি অধীনস্থ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-এসিআই ফরমুলেশন, এসিআই সল্ট, এসিআই ফুডস, এসিআই পিউর ফ্লাওয়ার, এসিআই অ্যাগ্রোলিঙ্ক, ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশন, এসিআই মটরস, প্রিমিয়াফ্রেক্স প্লাস্টিকস, এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন), এসিআই হেলথকেয়ার, এসিআই এডিবল ওয়েলস, এসিআই কেমিক্যালস, ইনফোলিটক্স বাংলাদেশ ও এসিআই বায়োটেক।

সুদের হার বৃদ্ধিকে মুনাফায় বড় পতনের কারন হিসাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এসিআই কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সহযোগি কোম্পানি থেকে মুনাফা হ্রাস, উচ্চ কর হার, মুদ্রার মান হ্রাস ইত্যাদিকে কারন হিসাবে জানিয়েছেন।

বিজনেস আওয়ার/০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/আরএ

উপরে