ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬


অনিদ্রায় ভুগছেন ! ঘুমের ওষুধ ছাড়াই আছে সমাধান

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:০০:১১

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবন, উদ্বেগ ও নানা ব্যস্ততায় অনেকেরই রাতের ঘুমের সময়সীমা কমে পাঁচ-ছ’ঘণ্টায় এসে ঠেকেছে। তার মধ্যে যদি অনিদ্রা দেখা দেয়, তবে সারাদিনের কাজে যেমন তার প্রভাব পড়ে, তেমনই ক্ষতি হয় শরীরেরও।

অনিদ্রা কিনা বুঝবেন কী করে-

১. অনেকক্ষণ শুয়ে থাকার পরে ঘুম আসা বা দেরিতে ঘুম আসা।
২. রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
৩. দু-তিন রাত পর পর ঘুম না হওয়া।
৪. রাতে একবার ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম না আসা।
৫. শেষ রাতে বা সকাল হওয়ার অনেক আগে ঘুম ভেঙে যাওয়া।

ইনসমনিয়ার প্রভাবে শরীরে কি ক্ষতি হয়-

১. ঘুম থেকে জাগার পর শরীর-মনে সতেজ অনুভূতি না আসা।
২. মাথাব্যথা।
৩. অল্পতেই রেগে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে থাকা।
৪. অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তিবোধ, পড়াশোনা ও যেকোনো কাজে মনোযোগের অভাব।
৫. উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।

বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চললে এবং জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই রাতের ঘুম আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

ঘুমের জন্য ওষুধ না খেয়ে অনিদ্রাকে জয় করবেন যেভাবে

১. ঘুমানোর দু’ঘণ্টা আগে গরম পানি স্নান করার অভ্যাস করতে পারেন। গরম পানি শরীরের কোষগুলির ক্লান্তি সরায় ও স্নায়ুকে শান্ত করে। দেহের তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রিত হয় এই স্নানের মাধ্যমে। ফলে ঘুম আসবে সহজেই।

২. মন ও শরীরকে শান্ত রাখার অন্যতম উপায় বডি-ম্যাসেজ। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা সরিয়ে ঘুম আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এটি। তাই ঘুমের ঘণ্টাখানেক আগে ম্যাসেজ নিলে তা ঘুমের জন্য উপযোগী হতে পারে।

৩. গরম দুধে মধু মিশিয়ে সেই পানীয় খেলেও ঘুমের সমস্যা মেটে। দুধে থাকা ট্রাইটোফ্যান স্নায়ু ও কোষকে শিথিল করে ঘুম আসতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মধু যোগ হওয়ায় ঘুমের ঘনত্বও বাড়ে।

৪. ঘুমের ঘণ্টা চারেক আগে কফি, সিগারেট ও মদ্যপানের অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন। এসবে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয় ও ঘুমের আমেজ নষ্ট হয়ে যায়।

৫. ম্যাগনেশিয়াম উদ্বেগ কমাতে বিশেষ কার্যকর। তাই ডায়েটে ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখার পাশাপাশি, স্নানের পানিতেও এক কাপ ম্যাগনেশিয়াম পাউডার যোগ করতে পারেন। এতে ক্লান্তি কাটে ও ঘুম আসে দ্রুত।

৬. ঘুমানোর আগে আলো নিভিয়ে সুগন্ধি স্প্রে করে ঘরকে ঘুমের উপযুক্ত করে তুলুন।

৭. নিশ্ছিদ্র ঘুম আনতে ঘুমের আগে যথেচ্ছ মোবাইল ব্যবহার ও টিভি দেখার অভ্যাসেও রাশ টানুন।

৮. ঘুমানোর জন্যে প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোষাক পরুন। ঘরে হালকা আলো জ্বেলে রাখুন।

৯. হালকা তাজা বাতাস ও ঘরের তাপমাত্রা ২০ ও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ঘুমের জন্য আরামদায়ক।

১০. প্রতিদিন ১৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম আপনার শরীরে যথেষ্ট অক্সিজেন সরবরাহ করবে,শরীরকে রিলাক্স করতে সাহায্য করবে।

১১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে জেগে উঠুন।

বিজনেস আওয়ার/০৪ ফেব্রুয়ারি,২০১৯/আরআই

উপরে