ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬


বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যানরা এখন কী করবেন?

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৩১:০৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ধোঁয়াশা রয়েছে। গত মাসে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবে কি না, সেটা হলে বহিষ্কার করা হবে কি না—এসব বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা যায়নি। দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অনেকে একমত হলেও জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উপজেলা নির্বাচনসহ সাংগঠনিক ব্যাপারে দল থেকে সরাসরি নির্দেশনা আশা করেছিল তৃণমূল বিএনপি।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ‘ডাকাতি’ ও ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বলে আসছে বিএনপি। আর এই নির্বাচনের ‘অভিজ্ঞতা’ থেকে এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না।

গত ২৪ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেবেন না।

এর আগে ২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ১৯-দলীয় জোট নিয়ে নির্বাচন করে। যদিও সেবারের ভোট সরাসরি দলীয় প্রতীকে হয়নি।

বিএনপির কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের ১৭৬ জন নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদে এই জোটের প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথম দুই ধাপেই বিএনপি-জামায়াতের ১১৯ জন নির্বাচিত হন। প্রথম দুই ধাপে বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তী তিন ধাপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যায়। অবশ্য বিএনপি বলছে, শেষ তিন ধাপে ক্ষমতাসীনেরা কারচুপি করে জিতেছে।

বিএনপির বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের চিন্তা সবচেয়ে বেশি। তাঁদের অনেকেই ভোট করতে চান। কিন্তু দল থেকে তাঁদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসছে না।

এ বছরের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পাঁচটি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ভোট হবে ১১ মার্চ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাম জোটও অংশ নিচ্ছে না। ২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন হয়।

ছয়টি ধাপের সে নির্বাচনে শুরুর দিকগুলোর নির্বাচনে বিএনপির অনেক প্রার্থী জয়লাভ করেন। সেই চেয়ারম্যানদের অনেকে এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বলছেন, উপজেলার ব্যাপারে তারা গণমাধ্যম থেকেই জেনেছেন। দল থেকে সরাসরি কোনো নির্দেশনা পাননি।

রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত চিঠিপত্র দিয়ে জানানো হয় না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা গণমাধ্যমে এসেছে। নির্দেশনা তো এভাবেই আসে।

তিনি বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিতে না পারলে, সেই প্রহসনের মধ্যে নির্বাচন করে লাভ নেই।

তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা সবার আছে, উল্লেখ করে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারেন। কেউ যদি স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করেন, তাহলে দল থেকে পদত্যাগ করে করতে পারেন। তখন তো দলের পরিচয় রাখার দরকার হয় না। পদত্যাগ করে নির্বাচন করলে তো বহিষ্কারের প্রশ্ন আসবে না।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি। স্বতন্ত্রভাবে কেউ নির্বাচন করতে পারবে কি না, সে ব্যাপারেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাইনি। জাতীয় নির্বাচনের পর প্রার্থীরাই এখন সাহস করছেন না নির্বাচন করার।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় থাকার কথা উল্লেখ করে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো নির্দেশনা আসে নাই। উপজেলা নির্বাচনে দল যাবে না, এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তারাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএনপির এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে সব নির্বাচন একই রকম হবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দরকার। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হব কি না, বা দল কী করবে, পদ ছেড়ে দিয়ে হবে কি না—এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। একটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

বিজনেস আওয়ার/১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

উপরে