ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬


অবলোপনকৃত ঋণ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:০৯:২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাচাইয়ে কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপির ঋণ অবলোপন করা হলে তা আদায় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। এসব ঋণ অবলোপনের সব প্রক্রিয়াগুলো মেনে করা হয়েছে, নাকি কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়মুক্ত করার জন্য করা হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করতে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ঋণ অবলোপনের নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে মানা, কোনো খেলাপিকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দায়মুক্ত করা হয়েছে কিনা নতুন করে পর্যালোচনা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গঠিত কমিটি। অবলোপনকৃত ঋণ যাচাই, খেলাপি ঋণ আদায়, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে এ কমিটি করা হচ্ছে।

সুত্রমতে, আদায় করতে না পারার একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাংকগুলো ব্যালেন্সশিট পরিষ্কার রাখতে খেলাপি ঋণ অবলোপন করে থাকে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো ৬শ' কোটি ৪৫ লাখ টাকার ঋণ অবলোপন করেছে।

২০০৩ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৮৯০ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এসব ঋণের মধ্যে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এতে অবলোপন ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকায়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে গঠিত সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর যাতে খেলাপি ঋণ না বাড়ে।

সম্প্রতি রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়ী সম্মেলনে তিনি বলেছেন, খেলাপি হওয়া ঋণ আদায়ে বিতরণ প্রক্রিয়া ও জামানত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শন করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় আগে কোনো ঋণ পাঁচ বছর পর্যন্ত আদায় না হলে মামলা করে অবেলোপন করা যেত। তবে সম্প্রতি আগের নীতিমালা সংশোধন করে কোনো মামলা ছাড়াই একাধারে তিনবছর অনাদায়ী ঋণ অবলোপন করার বিধি জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংক ৮ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, জনতা ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা, রূপালীর ১ হাজার ১৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে।

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক ২ হাজার ১৫৪ কোটি, দ্য সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৯০৩ কোটি, আইএফআইসির ১ হাজার ৮১৪ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার ৬১৯ কোটি, এবি ব্যাংক ১ হাজার ৫৩৩ কোটি, পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৫২৯ কোটি, উত্তরা ব্যাংক ১ হাজার ৩২৫ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ১ হাজার ১৪৯ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১ হাজার ১৪১ কোটি, ইসলামী ব্যাংক ৯০৪ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক ৯৮৯ কোটি এবং ব্যাংক এশিয়ার ৮২৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঋণ অবলোপনের সময় ব্যাংকগুলোকে ঋণ অবলোপন নীতিমালা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আদালতের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ ঋণ মামলা নিষ্পত্তি করে খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। অবলোপনের সময় অনেক ইচ্ছাকৃত খেলাপিও পার পেতে পারেন। তাই মামলা ছাড়া ঋণ অবলোপন করা ঠিক হবে না।

বিজনেস আওয়ার/১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

উপরে