ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬


আগামী অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:১৬:২৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) আইন ২০১২ বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।

ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।

গতকাল এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ নির্দেশ দেন। অর্থমন্ত্রী এনবিআরের রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে তিন খাত আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আয়কর এবং গতকাল শুল্ক ও ভ্যাট শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে এনবিআর কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী এনবিআর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ আমাদের সকলের। দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের প্রয়োজন। এ জন্য এনবিআরকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হবে না।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। ভ্যাট এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, শুল্ক ৮৪ হাজার কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের ছয় মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ২৭ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। ভ্যাটে ১১ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ও শুল্কে ৯ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ঘাটতি আছে।

গতকালের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, রাজস্ব আদায়ে সব বাধা চিহ্নিত করে সমাধানে যেতে হবে। তবে রাজস্ব আহরণ করতে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা যাবে না।

আগামী অর্থবছরে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন। রাতারাতি কিছু হয় না। ভ্যাট খাতে গড়ে ৩০-৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দিয়ে থাকে। বাকিরা ফাঁকি দেয় বা বোঝে না ভ্যাট দিতে।

এখানে এনবিআরের কাজ করার সুযোগ আছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। এখন গ্রামকেন্দ্রিক অর্থনীতি অনেক সচ্ছল। সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদানে সক্ষম হলেও ভ্যাটের আওতায় নেই।

এমন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনতে এনবিআর কর্মকর্তাদের শহরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ না থাকলে এ ক্ষেত্রে কোনো এনবিআর কর্মকর্তার আপত্তি শোনা হবে না।

আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার বন্ধে এনবিআরকে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থপাচার বন্ধে প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থপাচারে সহযোগিতা করেছেন—এমন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই এনবিআর কর্মকর্তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর ভ্যাট শাখার সদস্য রেজাউল হাসান বলেন, গতকাল অর্থমন্ত্রী ভ্যাট ও শুল্ক শাখার কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন। তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা তা সামনে রেখে রাজস্ব আদায় করব।

অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে এনবিআরকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। চলতিবারে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হবে না। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে জোরালোভাবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজনেস আওয়ার/১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

উপরে