ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


একমির বেড়েছে বিক্রয়, কমেছে মুনাফা

২০১৯ মার্চ ১৩ ১০:২৬:২৭

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একমি ল্যাবরেটরিজের চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে বা প্রথমার্ধে (জুলাই- ডিসেম্বর ১৮) পণ্য বিক্রয় বেড়েছে ১০ শতাংশ। তবে কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে ৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে প্রধান কারন হিসাবে রয়েছে ৪৭ শতাংশ সুদজনিত ব্যয় বৃদ্ধি।

মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে শেয়ারবাজার থেকে ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। বুক বিল্ডিংয়ে শেয়ারবাজারে আসা কোম্পানিটির কাট-অফ প্রাইস হয়েছিল ৮৫.২০ টাকা। এই দরে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬০ শতাংশ বা ৩ কোটি শেয়ার ও ৭৭ টাকা দরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়ে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৫.৭০ টাকা ও ৭০.৩৭ টাকা শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দেখিয়ে এই দরে শেয়ার ইস্যু করা হয়। যা উত্তোলনে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট।

দেখা গেছে, কোম্পানির ৬ মাসে ৭৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার ওষুধ বিক্রয় হয়েছে। যার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৭২৪ কোটি ২২ লাখ টাকার। এ হিসাবে বিক্রয় বেড়েছে ৭২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বা ১০ শতাংশ। তবে আগের বছরের ৬ মাসের ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার নিট মুনাফা কমে এ বছরের ৬ মাসে হয়েছে ৭৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে নিট মুনাফা কমেছে ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বা ৩ শতাংশ।

আরো পড়ুন :একমির ১৬.১৬ কোটি শেয়ার লক ফ্রি হচ্ছে

কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের মুনাফা হ্রাসের প্রধান কারন হিসেবে রয়েছে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ৪৭ শতাংশ সুদজনিত ব্যয় বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সুদজনিত ব্যয় হয়েছে ৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যার পরিমাণ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথমার্ধে হয়েছিল ৪৮ কোটি ১ লাখ টাকা।

ক্যাপিটাল গেইনে পিছিয়ে একমি ল্যাবরেটরিজ। ৮৫.২০ টাকার কাট-অফ প্রাইসের শেয়ারটি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) লেনদেন শেষে দাড়িঁয়েছে ৯০.১০ টাকায়। তবে লেনদেন শুরুর ২ বছর ৯ মাসের কোম্পানিটির শেয়ার কাট-অফ প্রাইসের নিচেও নামতে দেখা গেছে। গত বছরের ৫ নভেম্বর শেয়ারটি ৮২ টাকায় নেমে আসে। যা কয়েকদিনের পতনে ১৩ ডিসেম্বর ৭৮.৬০ টাকায় নেমেছিল।

তালিকাভুক্তির পরে গতানুগতিক বোনাস শেয়ার প্রদান ও ইপিএস কমে আসা অন্যসব কোম্পানি থেকে ব্যতিক্রম একমি ল্যাবরেটিরিজ। কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মুনাফা কমলেও তালিকাভুক্তির পূর্বের তুলনায় ইপিএস নিয়মিত বাড়ছে। কোম্পানিটির আইপিও পূর্ব ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৫.৭০ টাকার ইপিএস সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৬.৭৪ টাকা। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬.৫৫ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হয়েছিল ৬.৬১ টাকা।

এদিকে তালিকাভুক্তির পরে একমি থেকে ৩ বছর লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবারই নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছরই ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছে।

কোম্পানিটির আইপিও পূর্ব ১৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন এখন ২১১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় উন্নিত হয়েছে। যা আইপিও’র অর্থের মধ্যে অভিহিত মূল্যে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার প্রদানের মাধ্যমে এই মূলধন বাড়ানো হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৩ মার্চ, ২০১৯/আরএ

উপরে